ডুপ্লিকেট অর্ডার এলে কোনটা পাঠাবেন, আর কোন নম্বর ব্লক করবেন
একই নম্বর থেকে দুটো অর্ডার এলে কোনটা পাঠাবেন, ফোনে কী বলবেন, আর কোন নম্বর কতদিনের জন্য ব্লক করবেন। ভালো কাস্টমার না হারিয়ে ফেক অর্ডার থামানোর পুরো নিয়ম, টাকার হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
- ডুপ্লিকেট অর্ডার কেন আসে, ভুল, অধৈর্য নাকি ফেক?
- দুটো অর্ডার এলে কোনটা রাখবেন, কাস্টমারকে কী বলবেন?
- কোন নম্বর ব্লক করবেন? একটা সহজ নিয়ম
- নম্বর ব্লক নাকি IP ব্লক, কোনটায় কী ঝুঁকি?
- ব্লক করা কাস্টমারকে কী দেখাবেন, রাগ না বাড়িয়ে
- ব্লক কতদিন রাখবেন, কখন খুলবেন?
- ভুল করে ভালো কাস্টমার ব্লক হলে কী করবেন?
- ব্লক লিস্ট আর ফ্রড চেক একসাথে যেভাবে কাজ করে
ডুপ্লিকেট অর্ডার মানে একই কাস্টমারের একই প্রোডাক্টের দুটো অর্ডার, সাধারণত একই নম্বর থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে। বেশিরভাগ ডুপ্লিকেট অর্ডার ফেক না। কেউ ধীর নেটে অর্ডার বাটনে দুবার চাপ দিয়েছেন, কেউ কনফার্ম কল না পেয়ে পরদিন সকালে আবার অর্ডার দিয়েছেন। তাই নিয়মটা সহজ। দুটো অর্ডার দেখলে কোনোটা পাঠানোর আগে কাস্টমারকে একটা ফোন দিন আর জিজ্ঞেস করুন দুটো লাগবে নাকি একটা। আর ব্লক করবেন শুধু সেই নম্বর, যেটা বারবার জেনেশুনে পার্সেল ফেরত দেয় বা মজা করে অর্ডার দেয়। সেই ব্লকটাও দেবেন মেয়াদ বেঁধে।
কথাটা সহজ শোনালেও দুই দিকেই টাকা হারানোর ভয় আছে। ধরুন রাত এগারোটায় অর্ডার লিস্ট খুলে দেখলেন, একই নম্বর থেকে একই পাঞ্জাবির দুটো অর্ডার। সকালে তাড়াহুড়োয় দুটোই কুরিয়ারে চলে গেল। পাঁচ দিন পর একটা পার্সেল ফেরত এলো, আর ফেরতের চার্জটাও গুনতে হলো আপনাকেই। এই টাকাটা যায় একদম বিনা কারণে, তাই গায়ে লাগে বেশি। আবার উল্টোটাও হয়। দুটো রিটার্নের রাগে একটা নম্বর চিরতরে ব্লক করলেন, অথচ ওই নম্বরে পুরো পরিবার অর্ডার দেয়, আর তাঁরাই আপনার সবচেয়ে বাঁধা কাস্টমার ছিলেন। দুটো ভুল থেকেই কীভাবে বাঁচবেন, নিচে ধাপে ধাপে বলছি।
ডুপ্লিকেট অর্ডার কেন আসে, ভুল, অধৈর্য নাকি ফেক?
ডুপ্লিকেট অর্ডারের পেছনে সাধারণত কয়েক রকম মানুষ থাকেন, আর প্রত্যেকের সাথে কথাও বলতে হয় আলাদাভাবে। একজন স্রেফ ভুল করেছেন। গ্রামের ধীর নেটে অর্ডার বাটন চাপার পর পেজ ঘুরছিল, তিনি ভাবলেন হয়নি, আবার চাপলেন। অথবা ফর্ম পূরণ করে পেছনে গিয়ে আবার জমা দিলেন। এই মানুষটা একটা জিনিসই চেয়েছিলেন, দুটো না।
আরেকজন অধৈর্য। কাল রাতে অর্ডার দিয়েছেন, আজ দুপুর পর্যন্ত কেউ ফোন দেয়নি, কোনো মেসেজও আসেনি। তিনি ভাবলেন অর্ডারটা হয়তো হারিয়ে গেছে, তাই আবার দিলেন। অনেকে আবার পেজের ইনবক্সে অর্ডার দিয়ে রিপ্লাই না পেয়ে ওয়েবসাইট থেকেও দেন। ইনবক্স আর চ্যাটের দিক থেকে ডুপ্লিকেট কীভাবে আসে, সেটা হোয়াটসঅ্যাপে অর্ডার নেওয়ার লেখায় আলাদা করে বলা আছে। এখানে মনে রাখার কথা একটাই। দ্বিতীয় অর্ডারটা আসলে আপনার দেরির ফল, কাস্টমারের দোষ না।
কেউ কেউ আবার সত্যিই ফেক। কেউ মজা করে একই প্রোডাক্ট পাঁচবার অর্ডার দেন, কেউ বন্ধুর নম্বর বসিয়ে দেন, কেউ প্রতিযোগীর হয়ে আপনার কুরিয়ার চার্জ খাওয়াতে চান। এঁরা সংখ্যায় কম, কিন্তু সবচেয়ে বেশি রাগ এঁরাই ধরান।
আর একটা দলও আছে, যাঁদের অর্ডার দেখতে ডুপ্লিকেট কিন্তু আসলে দুটোই আসল। একজন নিজের জন্য একটা পাঞ্জাবি নিলেন, বিকেলে ভাইয়ের জন্য আরেকটা দিলেন অন্য ঠিকানায়। কোন অর্ডার কোন দলের, সেটা আন্দাজ করার কয়েকটা লক্ষণ আছে।
- দুটো অর্ডারের মাঝে কয়েক মিনিট আর সব তথ্য হুবহু এক হলে প্রায় সবসময়ই কেউ ভুলে দুবার চাপ দিয়েছেন।
- মাঝে কয়েক ঘণ্টা বা এক রাত গেলে আর তথ্য একই থাকলে সাধারণত এটা সেই অধৈর্য কাস্টমার, যিনি কনফার্ম কল পাননি।
- পরের অর্ডারে সাইজ, রং বা ঠিকানা একটু বদলানো থাকলে বুঝবেন কাস্টমার মত বদলেছেন, আর পরেরটাই তাঁর আসল চাওয়া।
- ঠিকানা পুরো আলাদা আর নামও আলাদা হলে হয়তো উপহার বা পরিবারের আরেকজনের জন্য নিচ্ছেন, দুটোই আসল হতে পারে।
- এক ঘণ্টায় তিন-চারটা অর্ডার এলো, আর ফোন দিলে বন্ধ পান বা ওপাশের মানুষ কিছুই চেনেন না, তাহলে সন্দেহ করার কারণ আছে।
লক্ষণ দেখে মনে মনে একটা ধারণা নিন, কিন্তু রায় দেবেন ফোনে কথা বলার পরে। কারণ একই লক্ষণ দুই রকম মানুষের হতে পারে, আর একটা ফোনেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যায়।
দুটো অর্ডার এলে কোনটা রাখবেন, কাস্টমারকে কী বলবেন?
কাস্টমারের সাথে কথা না বলে দুটো পার্সেলই পাঠাবেন না, আবার কথা না বলে কোনোটা ক্যানসেলও করবেন না। দুটো পাঠালে একটা ফেরত আসবেই, এমন ভাবনা থেকে অনেকে নিজে থেকে একটা কেটে দেন। কিন্তু যদি কাস্টমার সত্যিই দুটো চেয়ে থাকেন, তাহলে একটা বিক্রি আপনি নিজের হাতে ফেলে দিলেন।
কেন এত সাবধান হবেন, সেটা টাকায় দেখুন। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, আপনার কুরিয়ারের চুক্তি আর প্রোডাক্ট অনুযায়ী বদলাবে। ধরুন ১,২০০ টাকার একটা পাঞ্জাবি ঢাকার বাইরে যাবে। একই নম্বরের দুটো অর্ডার না দেখে দুটোই পাঠালেন। কাস্টমার একটা রাখলেন, আরেকটা দরজা থেকে ফেরত দিলেন, কারণ তিনি একটাই চেয়েছিলেন। ফেরত পার্সেলে যাওয়ার চার্জের পুরোটা বা অর্ধেক আপনাকে দিতে হয়, প্যাকেটটা নষ্ট হয়, আর পাঞ্জাবিটা সাত-আট দিন রাস্তায় আটকে থাকে। আমাদের ফেক অর্ডার আর রিটার্নের লেখায় হিসাব করে দেখিয়েছি, এমন একটা ফেরতে সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নগদ যায়। মাসে দশটা ডুপ্লিকেট এভাবে বেরিয়ে গেলে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা চলে যায়, অথচ একটা দুই মিনিটের ফোনেই সেটা বাঁচত।
ফোনটা ছোট রাখুন, আর এমনভাবে বলুন যেন কাস্টমারের সুবিধার জন্যই ফোন দিচ্ছেন। কারণ আসলেই তাই।
"আসসালামু আলাইকুম ভাই, [দোকানের নাম] থেকে বলছি। আপনার নম্বর থেকে আজ সকালে আর দুপুরে দুটো অর্ডার এসেছে, দুটোতেই কালো পাঞ্জাবি, সাইজ L। ভুলে দুবার চলে গেছে কি না দেখার জন্য ফোন দিলাম। আপনার কি একটা লাগবে, নাকি দুটোই?"
কাস্টমার "একটা" বললে ধন্যবাদ দিন, একটা অর্ডার ক্যানসেল করুন, আর বাকিটা সেই কলেই কনফার্ম করে ফেলুন। মোট টাকা আর ঠিকানাটা মুখে একবার মিলিয়ে নিন। কনফার্ম কলে আর কী কী বলবেন, সেই লাইনগুলো কাস্টমারের সাথে কথা বলার লেখায় গুছিয়ে দেওয়া আছে।
কোনটা রাখবেন, তারও একটা সহজ নিয়ম আছে। দুটো অর্ডার হুবহু এক হলে আগেরটা রাখুন, কারণ ওটা আগে লাইনে ঢুকেছে আর স্টাফের নোট সাধারণত ওটাতেই থাকে। পরের অর্ডারে সাইজ, রং বা ঠিকানা বদলানো থাকলে পরেরটা রাখুন, কারণ ওটাই কাস্টমারের শেষ কথা। আর কাস্টমার "দুটোই লাগবে" বললে দুটো অর্ডার আলাদা না রেখে পারলে এক পার্সেলে পাঠান। এতে কুরিয়ার চার্জ একবার যায়, আর কাস্টমারকেও দুবার টাকা গুনতে হয় না।
কাস্টমার ফোন না ধরলে কোনো পার্সেলই পাঠাবেন না। দুটো অর্ডারই অপেক্ষায় রাখুন আর কয়েক ঘণ্টা পর আবার চেষ্টা করুন। যে মানুষ দুটো অর্ডার দিয়ে একটা ফোনও ধরেন না, তাঁর পার্সেল দরজা থেকে ফেরত আসার ঝুঁকি এমনিতেই বেশি।

হাতে চালালে এই কাজের কঠিন অংশ হলো দুটো অর্ডার খুঁজে পাওয়া, বিশেষ করে দিনে ৫০টা অর্ডার এলে। WinningSeller-এ এটা নিজে থেকে হয়। একই ফোন নম্বর থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই প্রোডাক্টের আরেকটা অর্ডার এলে দুটো অর্ডারেই "ডুপ্লিকেট?" চিহ্ন পড়ে, আর "অসম্পূর্ণ অর্ডার ও সুরক্ষা" পেজের "ডুপ্লিকেট অর্ডার" ট্যাবে দুটো পাশাপাশি দেখা যায়। কোনো অর্ডার আটকানো হয় না, সিদ্ধান্ত আপনার। একটা ক্যানসেল করলে চিহ্ন উঠে যায়, আর দুটোই আসল হলে "ডুপ্লিকেট না" চাপলেই হয়। আর কেউ ১০ মিনিটের মধ্যে একই নাম, ঠিকানা আর প্রোডাক্ট দিয়ে হুবহু একই অর্ডার আবার জমা দিলে দ্বিতীয় অর্ডার তৈরিই হয় না, তাঁকে আগের অর্ডারটাই দেখানো হয়।
কোন নম্বর ব্লক করবেন? একটা সহজ নিয়ম
ডুপ্লিকেট অর্ডার বেশিরভাগ সময় ভুল, কিন্তু কিছু নম্বর সত্যিই বারবার ঝামেলা করে। দুবার পার্সেল ফেরত দিল, তৃতীয়বার আবার অর্ডার দিচ্ছে। এখানে মন চায় সাথে সাথে ব্লক করে দিতে। থামুন, কারণ ব্লকেরও একটা দাম আছে।
ব্লক করা মানে ওই নম্বর থেকে আর অর্ডার না নেওয়া। নম্বরটা যদি সত্যিই ফেক হয়, আপনি ফেরতের চার্জ বাঁচালেন। কিন্তু যদি ভুল মানুষকে ব্লক করেন, তাহলে একজন কাস্টমার হারালেন, আর তাঁর সাথে তাঁর পরের সব অর্ডার। উদাহরণ হিসেবে ধরুন একজন কাস্টমার বছরে চারবার কেনেন, প্রতিবার আপনার লাভ ৩০০ টাকা। তাঁকে ভুলে ব্লক করলে শুধু এক বছরেই ১,২০০ টাকার লাভ গেল, যা চার থেকে ছয়টা ফেরত পার্সেলের খরচের সমান। আর তিনি তো পরের বছরও কিনতেন। তাই ব্লকের সিদ্ধান্ত রাগের মাথায় না, একটা নিয়ম ধরে নিন।
নিয়মটা দাঁড়ায় দুটো প্রশ্নের ওপর, ঝামেলাটা কতবার হয়েছে আর কেন হয়েছে। নিচের টেবিলটা শুরু করার জন্য একটা আন্দাজ, কোনো বাঁধা আইন না। নিজের দোকানের অভিজ্ঞতা দেখে দুই-তিন মাস পর একটু বদলে নেবেন।
| নম্বরের অবস্থা | কী করবেন |
|---|---|
| গত ৯০ দিনে একটা ফেরত বা ক্যানসেল | কিছু না, পরের অর্ডারে কনফার্ম কলটা একটু যত্নে করুন |
| দুটো ফেরত বা ক্যানসেল, কারণ জানা নেই | ব্লক না, পরের অর্ডারে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চান |
| দুই-তিনটা ফেরত, আর কলে ফোন ধরেন না বা মিথ্যা বলেন | ৩০ দিনের জন্য ব্লক, অথবা অগ্রিম ছাড়া পাঠাবেন না |
| ইচ্ছা করে ভুয়া অর্ডার, গালাগালি বা হুমকি | ৯০ দিন বা চিরতরে ব্লক |
টেবিলের দ্বিতীয় সারিটাই সবচেয়ে জরুরি। দুটো ফেরত মানেই ফেক না। একটা হয়তো কুরিয়ার ফোন না করে ফেরত এনেছে, আরেকটা হয়তো আপনি নিজেই স্টক না থাকায় ক্যানসেল করেছেন। তাই ব্লক করার আগে প্রতিটা ফেরতের কারণ একবার দেখে নিন। কারণ জানা না থাকলে ব্লকের বদলে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চান। সত্যিকারের কাস্টমার টাকাটা পাঠিয়ে দেন, আর যিনি ফেক, তিনি ওখানেই থেমে যান। অগ্রিম চাওয়ার মেসেজ আর ঝুঁকির নম্বর সামলানোর পুরো কৌশল ফেক অর্ডারের লেখায় আছে, এখানে আর বলছি না।
চিরতরে ব্লক রাখুন শুধু তাঁদের জন্য, যাঁরা জেনেশুনে ক্ষতি করেছেন। যেমন যিনি এক রাতে পাঁচটা নামে পাঁচটা অর্ডার দিয়েছেন, বা ডেলিভারিম্যানকে হুমকি দিয়েছেন। এঁদের দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার দরকার নেই।
নম্বর ব্লক নাকি IP ব্লক, কোনটায় কী ঝুঁকি?
মোবাইল নম্বর ব্লক করা সবচেয়ে পরিষ্কার উপায়। একটা নম্বর একজন মানুষের বা একটা পরিবারের, তাই ভুল মানুষ আটকানোর ঝুঁকি কম। দুর্বল দিক হলো, যিনি সত্যিই ফেক অর্ডার দিতে চান, তিনি আরেকটা সিম দিয়ে আবার দিতে পারেন। তবু বেশিরভাগ ঝামেলার কাস্টমার এতটা খাটেন না, তাই নম্বর ব্লকেই কাজ হয়।
IP হলো ইন্টারনেটে একটা ফোন বা কম্পিউটারের সেই মুহূর্তের নম্বর, যেটা দিয়ে ওয়েবসাইট বোঝে অর্ডারটা কোথা থেকে এলো। শুনতে মনে হয় IP ব্লক করলে মানুষটাকেই আটকানো গেল। আসলে তা না, আর এখানেই ঝুঁকি। ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর কাছে পুরনো ধরনের IPv4 অ্যাড্রেস কম, তাই অনেক কোম্পানি একটা পাবলিক IP অনেক ইউজারের মধ্যে ভাগ করে দেয়। ইন্টারনেটের নিয়ম লেখে যে সংস্থা, সেই IETF ২০১৩ সালের এপ্রিলে RFC 6888 নামে একটা ডকুমেন্ট বের করেছে। সেখানে এই ব্যবস্থাকে বলা হয়েছে Carrier-Grade NAT, আর পরিষ্কার লেখা আছে যে এতে একটা পাবলিক IPv4 অ্যাড্রেস অনেক ইউজার মিলে চালান। মোবাইল ডেটায় এমনটা খুব সাধারণ। ফলে একটা মোবাইল ডেটার IP ব্লক করলে একই এলাকার এমন কাস্টমারও আটকে যেতে পারেন, যাঁকে আপনি চেনেনই না।
উল্টো দিকও আছে। একই মানুষের IP দিন বদলালে বা ফোন রিস্টার্ট দিলে বদলে যেতে পারে। তাই যাঁকে আটকাতে চাইলেন, তিনি পরদিন হয়তো অন্য IP নিয়ে ঠিকই অর্ডার দিচ্ছেন, অথচ তাঁর পুরনো IP-তে এখন অন্য কেউ আটকে আছেন।
তাহলে IP ব্লক কখন কাজে লাগে? যখন অল্প সময়ের মধ্যে একই জায়গা থেকে আলাদা আলাদা নম্বরে একের পর এক ভুয়া অর্ডার আসছে। যেমন এক ঘণ্টায় চারটা অর্ডার, চারটা আলাদা নম্বর, কোনোটায় ফোন ঢোকে না, আর চারটারই IP এক। তখন ওই IP অল্প দিনের জন্য ব্লক করলে হামলাটা থামে। লম্বা সময়ের ব্লকের জন্য নম্বরই ভালো।
ব্লক করা কাস্টমারকে কী দেখাবেন, রাগ না বাড়িয়ে
ব্লক করা মানুষকে কখনো বলবেন না "আপনি ব্লক"। এর তিনটা কারণ আছে। যিনি সত্যিই ফেক, তিনি জানলে সাথে সাথে আরেকটা নম্বর দিয়ে চেষ্টা করবেন। যিনি ভুলে ব্লক হয়েছেন, তিনি অপমানিত বোধ করবেন, আর পেজে খারাপ রিভিউ দিতে পারেন। আর যাঁর পরিবারের অন্য কারও কারণে নম্বরটা ব্লক, তিনি বুঝতেই পারবেন না কী দোষ করেছেন।
তার বদলে একটা নরম, দরজা খোলা রাখা কথা বলুন। "এই মুহূর্তে অনলাইনে অর্ডার নেওয়া যাচ্ছে না, আমাদের ফোন করুন।" সাথে দোকানের নম্বর। যিনি মজা করে অর্ডার দিচ্ছিলেন, তিনি অনেক সময় আর ফোন দেন না, কারণ ফোনে নিজের গলায় কথা বলতে হবে। কিন্তু ভালো কাস্টমার ফোন দেন, আর আপনি নিজে ঠিক করার সুযোগ পান।
তিনি ফোন দিলে কী বলবেন, সেটাও আগে থেকে ঠিক রাখুন। দোষারোপ না করে একটা শর্ত দিন।
"ভাই, অনলাইনে এখন আপনার অর্ডারটা নিতে পারছি না, আমি নিজে তুলে দিচ্ছি। আপনার এলাকায় আমরা ডেলিভারি চার্জটা আগে নিই, ১৩০ টাকা bKash-এ পাঠালে আজই পার্সেল রেডি করে দিচ্ছি।"
এখানে ১৩০ টাকা একটা উদাহরণ, আপনার নিজের ডেলিভারি চার্জ বসাবেন। আর "আপনার রেকর্ড খারাপ" জাতীয় কোনো কথা মুখে আনবেন না। কারণটা আপনার দোকানের নিয়ম, দোষ কারও না।

WinningSeller-এর ব্লক লিস্ট ঠিক এভাবে বানানো। ব্লক করা নম্বর বা IP থেকে কেউ অর্ডার দিতে গেলে তিনি দেখেন "এই মুহূর্তে অনলাইনে অর্ডার নেওয়া যাচ্ছে না। দয়া করে আমাদের ফোন করুন।", সাথে দোকানের নম্বর, ব্লকের কথা কোথাও থাকে না। প্রতিবার কেউ আটকালে লিস্টে সেই নম্বরের পাশে গোনা হয় কতবার আটকানো হলো, তাই বোঝা যায় লিস্টটা কাজ করছে কি না। ব্লক লিস্ট শুধু ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্ম থামায়। তাই ফোনে কথা বলে রাজি হলে অর্ডারটা আপনি নিজে ম্যানুয়াল অর্ডারে তুলে নিতে পারেন।
ব্লক কতদিন রাখবেন, কখন খুলবেন?
চিরতরে ব্লক শুনতে নিরাপদ লাগে, কিন্তু সময়ের সাথে লিস্টটা ভারী আর ভুলে ভরা হয়ে যায়। এক বছর আগে যে কলেজের ছেলে মজা করে অর্ডার দিয়েছিল, সে এখন চাকরি করে, হয়তো সত্যিই কিনতে চায়। যে পরিবারের এক সদস্য দুটো পার্সেল ফেরত দিয়েছিলেন, সেই নম্বরে এখন অন্যরা অর্ডার দিতে চান। তাই প্রতিটা ব্লকে একটা মেয়াদ দিন।
মেয়াদটা ঠিক করুন কারণ দেখে। সন্দেহ আছে কিন্তু কারণ পুরো পরিষ্কার না হলে ৩০ দিনের ব্লকই যথেষ্ট। কেউ বারবার ফেরত দিলে বা ফোনে মিথ্যা বলে এড়িয়ে গেলে ৯০ দিন রাখুন। আর ওপরে যেমন বললাম, চিরতরের ব্লক শুধু জেনেশুনে ক্ষতি করা মানুষের জন্য। মেয়াদ শেষ হলে নম্বরটা নিজে থেকে খুলে যাক, তারপর আবার ঝামেলা করলে আবার ব্লক।
প্রতিটা ব্লকের সাথে কারণটা এক লাইনে লিখে রাখুন। "৩টা পার্সেল ফেরত, ফোন ধরে না" বা "অর্ডার #১০৪২-এ ডেলিভারিম্যানকে গালি"। তিন মাস পর লিস্ট খুললে আপনি নিজেও মনে রাখবেন না কেন কোন নম্বর আছে। কারণ লেখা থাকলে খোলা বা রাখার সিদ্ধান্ত দুই সেকেন্ডে নেওয়া যায়, আর স্টাফ বদলালেও নতুন মানুষ বুঝতে পারেন।
মাসে একবার লিস্টে চোখ বুলিয়ে নিন। চিরতরের ঘরে এমন কেউ আছেন কি না দেখুন, যাঁর কারণটা আজ পড়লে আর অতটা গুরুতর লাগে না। থাকলে তাঁকে মেয়াদি ব্লকে নামান বা খুলে দিন। একটা খাতা বা শিটে লিস্ট রাখলে মেয়াদের তারিখের একটা কলাম রাখুন, আর মাসের প্রথম দিন যাঁদের তারিখ পার হয়ে গেছে তাঁদের কেটে দিন।
ভুল করে ভালো কাস্টমার ব্লক হলে কী করবেন?
এটা হবেই, যত সাবধানেই চালান। সাধারণত টের পাবেন যখন কেউ ফোন দিয়ে বলবেন, "ভাই, আপনাদের ওয়েবসাইটে অর্ডার হচ্ছে না।" তখন প্রথমে তাঁর নম্বরটা ব্লক লিস্টে খুঁজুন। পেলে কারণটা পড়ুন, আর কথা শুনে বুঝুন তিনিই সেই মানুষ কি না।
ভুল হয়ে থাকলে সাথে সাথে ব্লক তুলে দিন, আর ছোট করে সরি বলুন। কারণ বিস্তারিত বলার দরকার নেই, তাঁর কাছে সেটা অভিযোগের মতো শোনাবে। "ভাই, আমাদের দিক থেকে একটা ঝামেলা ছিল, এখন ঠিক হয়ে গেছে। আপনার অর্ডারটা আমি এখনই তুলে দিচ্ছি।" অর্ডারটা ফোনেই নিয়ে নিন, তাঁকে আবার ওয়েবসাইটে পাঠাবেন না। একবার আটকে যাওয়া মানুষকে দ্বিতীয়বার ফর্ম পূরণ করতে বললে অনেকেই আর করেন না।
তারপর খুঁজে দেখুন ভুলটা কোথা থেকে এলো, যাতে আবার না হয়। সবচেয়ে সাধারণ তিনটা কারণ হলো, আপনার দিক থেকে করা ক্যানসেলকে কাস্টমারের দোষ ধরা, কুরিয়ারের ভুলে আসা ফেরতকে কাস্টমারের ফেরত ধরা, আর পরিবারের শেয়ার করা নম্বরে একজনের দোষে সবাইকে আটকানো। তিনটার ওষুধই এক। ব্লকের আগে প্রতিটা ফেরত আর ক্যানসেলের কারণ পড়ুন, আর সন্দেহ থাকলে ব্লকের বদলে অগ্রিম চান।
ব্লক লিস্ট আর ফ্রড চেক একসাথে যেভাবে কাজ করে
ব্লক লিস্ট আর ফ্রড চেক দুটো আলাদা জিনিস, আর দুটো দুই দিক থেকে কাজ করে। ব্লক লিস্ট হলো আপনার দোকানের নিজের স্মৃতি, কে আপনার সাথে ঝামেলা করেছে। ফ্রড চেক হলো কুরিয়ারের রেকর্ড, এই নম্বর বাংলাদেশের অন্য দোকানের পার্সেল কতটা নিয়েছে আর কতটা ফেরত দিয়েছে। একটা নতুন নম্বর আপনার লিস্টে নেই বলেই সে ভালো, এমন না। হয়তো সে গত মাসে পাঁচটা দোকানের পার্সেল ফেরত দিয়েছে, শুধু আপনার কাছে প্রথমবার এসেছে।
তাই প্রতিটা অর্ডারে কাজের একটা ক্রম রাখুন। প্রথমে দেখুন নম্বরটা আপনার ব্লক লিস্টে আছে কি না। তারপর দেখুন একই নম্বরে আজ আরেকটা অর্ডার আছে কি না। তারপর নম্বরটা ফ্রি ফ্রড চেকারে দিয়ে কুরিয়ারের রেকর্ড দেখুন। রেকর্ড ভালো হলে স্বাভাবিক কনফার্ম কল, মাঝারি হলে কলে একটু বেশি সময় দিন, খারাপ হলে ডেলিভারি চার্জ অগ্রিম চান। আর পার্সেল ফেরত এলে কারণটা লিখে রাখুন। একই নম্বরের ফেরত জমতে থাকলে তখন তাকে ব্লকের কথা ভাবুন, আগে না।
এই ক্রমে চললে ব্লক লিস্ট ছোট থাকে, আর লিস্টের প্রতিটা নম্বর সত্যিই সেখানে থাকার যোগ্য। বেশিরভাগ সন্দেহজনক অর্ডার থামে অগ্রিম চাওয়াতেই, ব্লক লাগে অল্প কয়েকটায়।
হাতে করলে এর প্রতিটা ধাপের জন্য আলাদা খাতা আর আলাদা ওয়েবসাইট খুলতে হয়। WinningSeller-এ এগুলো একই জায়গায় আসে। আপনার নিজের Steadfast বা Pathao অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করা থাকলে নতুন অর্ডার এলেই নম্বরের কুরিয়ার রেকর্ড অর্ডারের পাশে দেখায়। ব্লক লিস্ট ট্যাবে "ব্লক করার পরামর্শ" নামে একটা লিস্ট থাকে, যেখানে গত ৯০ দিনে দুই বা তার বেশি অর্ডার রিটার্ন বা ক্যানসেল হওয়া নম্বরগুলো আলাদা সংখ্যাসহ দেখায়। তবে সেখানে আপনার দিক থেকে করা ক্যানসেলও গোনা হয়, তাই ব্লকের আগে কারণটা একবার দেখে নেবেন। আর কোনো অর্ডারের পেজ থেকে "ব্লক করুন" চাপলে ওই অর্ডারের নম্বর, IP বা পুরো নেটওয়ার্ক কারণ আর মেয়াদসহ লিস্টে উঠে যায়।
আজ শুরু করতে চাইলে বড় কিছু লাগবে না। গত তিন মাসের ফেরত আর ক্যানসেল হওয়া অর্ডার থেকে নম্বরগুলো একটা শিটে তুলুন, পাশে কারণ লিখুন। যাঁদের দুটো বা তার বেশি, তাঁদের প্রত্যেকের কারণ পড়ে ওপরের টেবিল ধরে ঠিক করুন কার কাছে এরপর অগ্রিম চাইবেন আর কাকে ৩০ বা ৯০ দিনের ব্লকে রাখবেন। আর আজ থেকে একই নম্বরের দুটো অর্ডার দেখলে পাঠানোর আগে একটা ফোন দিন। এই এক অভ্যাসেই মাসে কয়েকটা ফেরত পার্সেল কমে যায়। যে কাস্টমার বছরের পর বছর আপনার কাছ থেকে কিনতেন, তাঁকে রাগের মাথায় একটা ক্লিকে হারানোর চেয়ে দুই মিনিটের একটা ফোন অনেক সস্তা।
সাধারণ প্রশ্ন
ডুপ্লিকেট অর্ডার মানে কী?
ডুপ্লিকেট অর্ডার মানে একই কাস্টমারের একই প্রোডাক্টের দুটো অর্ডার, সাধারণত একই মোবাইল নম্বর থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা ভুলে দুবার চাপ দেওয়া বা কনফার্ম কল না পেয়ে আবার অর্ডার দেওয়া, ফেক না। তাই দুটোর একটা পাঠানোর আগে কাস্টমারকে ফোন দিয়ে জেনে নিন।
একই কাস্টমার দুবার অর্ডার দিলে কি দুটোই পাঠিয়ে দেব?
না, ফোনে কথা না বলে দুটো পাঠাবেন না। কাস্টমার যদি বলেন একটাই লাগবে, তাহলে আরেকটা ক্যানসেল করুন। দুটো পাঠালে সাধারণত একটা দরজা থেকে ফেরত আসে, আর সেই ফেরতের কুরিয়ার চার্জ আপনাকেই দিতে হয়।
ফেক কাস্টমার চেক করব কীভাবে?
দুইভাবে চেক করুন। প্রথমে নিজের দোকানের রেকর্ড দেখুন, এই নম্বর আগে কয়টা পার্সেল ফেরত দিয়েছে। তারপর কুরিয়ারের রেকর্ড দেখুন, অন্য দোকানের পার্সেল এই নম্বর কতটা নিয়েছে। নম্বর দিয়ে কুরিয়ারের রেকর্ড দেখার জন্য WinningSeller-এর ফ্রি ফ্রড চেকার আছে।
ব্লক করলে কি কাস্টমার জানতে পারবেন যে তিনি ব্লক?
জানানো ঠিক না, আর WinningSeller-এ জানানো হয়ও না। ব্লক করা নম্বর থেকে অর্ডার দিতে গেলে তিনি দেখেন এই মুহূর্তে অনলাইনে অর্ডার নেওয়া যাচ্ছে না, দোকানে ফোন করতে বলা হয়, সাথে দোকানের নম্বর। এতে ভুলে ব্লক হওয়া ভালো কাস্টমারও ফোন দিয়ে অর্ডার করতে পারেন।
IP ব্লক করলে কি ফেক অর্ডার পুরোপুরি বন্ধ হয়?
না। মোবাইল ডেটায় অনেক মানুষ একই পাবলিক IP ভাগ করে চালান, আর একজনের IP দিন বদলালেই বদলে যেতে পারে। তাই IP ব্লক কাজে লাগে শুধু অল্প সময়ের জন্য, যখন একই জায়গা থেকে একের পর এক ভুয়া অর্ডার আসছে। লম্বা সময়ের জন্য ফোন নম্বর ব্লকই ভালো।
ব্লক করা নম্বর কি আবার খোলা যায়?
যায়। ব্লক লিস্ট থেকে নম্বরটা সরিয়ে দিলেই ওই নম্বর থেকে আবার অর্ডার নেওয়া যায়। আর ৩০ বা ৯০ দিনের মেয়াদ দিয়ে ব্লক করলে মেয়াদ শেষে নিজে থেকেই খুলে যায়।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


