প্রবাসী কাস্টমার মাল চান? বিদেশে কুরিয়ার পাঠানোর নিয়ম আর খরচ
সৌদি, দুবাই বা লন্ডন থেকে অর্ডার এলে কোন পথে পাঠাবেন, ১ কেজিতে কত খরচ, কোন জিনিস ওপারে ঢোকে না, কাউন্টারে কী কাগজ লাগে আর টাকা বৈধ পথে কীভাবে নেবেন, টাকার পুরো হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
- বিদেশে পার্সেল পাঠানোর তিন পথ, ডাক, এক্সপ্রেস কুরিয়ার আর কার্গো এজেন্ট
- কোন দেশে কোন জিনিস ঢোকে না, খাবার আর আতর আগে দেখুন
- ১ কেজি পাঠাতে কত খরচ, সৌদি, দুবাই আর লন্ডন পাশাপাশি (উদাহরণ)
- বিদেশে কুরিয়ার পাঠানোর নিয়ম, কাউন্টারে কী কাগজ লাগে আর ইনভয়েসে দাম কী লিখবেন
- প্রবাসী কাস্টমারের টাকা কীভাবে নেবেন, বৈধ পথে আর পাঠানোর আগেই
- লম্বা পথের প্যাকিং, লিক, গন্ধ আর চাপ সামলাবেন যেভাবে
- ওপারের কাস্টমস শুল্ক কে দেবে
- কখন বিদেশের অর্ডার নেবেন না
- আজই করে ফেলুন
বিদেশে কুরিয়ার পাঠানোর নিয়ম শুনতে যত কঠিন, আসলে তত না। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পার্সেল যায় মূলত ডাক বিভাগের ইএমএস বা এয়ার পার্সেলে, DHL-এর মতো এক্সপ্রেস কুরিয়ারে, অথবা কেজি ধরে মাল নেওয়া কার্গো এজেন্টের হাত দিয়ে। পথ যেটাই নিন, জিনিসটা ওই দেশে ঢোকে কি না আগে দেখে নেবেন। প্যাক করার পরে ওজন করে খরচ বের করবেন, পুরো টাকা বৈধ পথে হাতে এলে তবেই পাঠাবেন, আর ইনভয়েসে আসল জিনিসের নাম আর দাম লিখবেন। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু ডাক গেজেট অনুযায়ী সৌদি আরবে ১ কেজি ইএমএস পাঠাতে ১,৭৮৮ টাকা লাগে, ভ্যাট আলাদা।
ধরুন রাত সাড়ে দশটায় পেজের ইনবক্সে মেসেজ এলো। "ভাই, আমি রিয়াদে থাকি। এই পাঞ্জাবিটা আর দুইটা টুপি পাঠাতে পারবেন? ঈদের আগে লাগবে।" প্রথমে খুশি লাগে, বিদেশ থেকে অর্ডার! তারপরই ভয় ঢোকে। কোথা থেকে পাঠাব, খরচ কত বলব, টাকা নেব কীভাবে, আর পার্সেল ওখানে আটকে গেলে? নিচে প্রতিটা ধাপ খুলে বলছি, যাতে প্রথম পার্সেলটাই ঠিকঠাক পৌঁছায়।
বিদেশে পার্সেল পাঠানোর তিন পথ, ডাক, এক্সপ্রেস কুরিয়ার আর কার্গো এজেন্ট
প্রথম পথটা ডাকঘর। ডাক অধিদপ্তরের আন্তর্জাতিক সেবার পেজে সেলারের কাজে লাগে এমন দুটো সার্ভিস আছে। একটা ইএমএস, যেটাকে ওরা দ্রুত আন্তর্জাতিক সার্ভিস বলে আর যেটা ইন্টারনেটে ট্র্যাক করা যায়। অন্যটা আন্তর্জাতিক এয়ার পার্সেল, যাতে ২০ কেজি পর্যন্ত পাঠানো যায়। দুটোর মাশুলই সরকারি গেজেটে বাঁধা, তাই কাউন্টারে দরদাম নেই। দেশের ভেতরে ডাকে পাঠানোর নিয়ম পোস্ট অফিসে পার্সেল পাঠানোর লেখায় আছে, এখানে শুধু বিদেশের কথা।
ডাকের পরের পথ এক্সপ্রেস কুরিয়ার। DHL, FedEx, UPS-এর মতো কোম্পানির বাংলাদেশে নিজেদের অফিস আছে। খরচ ডাকের চেয়ে অনেক বেশি, কিন্তু প্রতিটা ধাপ ট্র্যাক করা যায়, আর ওপারের কাস্টমসের কাজ ওরাই সামলায়। অনেকে গুগলে "dhl bangladesh price list" খোঁজেন, তাই DHL-এর ২০২৬ সালের বাংলাদেশ রেট গাইড থেকে নিচে আসল রেট দিয়েছি।
এর বাইরে আছে কার্গো এজেন্ট। কিছু দোকান সৌদি, দুবাই বা মালয়েশিয়ার জন্য কেজি ধরে মাল নেয়, অনেকের মাল একসাথে করে বড় চালানে পাঠায়, তাই কেজিতে দাম কম পড়ে। এদের কোনো সরকারি রেট নেই। সেলারদের সাথে প্রায়ই যা হয়, মাল দিয়ে আসার পরে এক সপ্তাহ কোনো খবর নেই, কারণ ট্র্যাকিং নম্বর বলে কিছু দেয়নি। তাই মাল দেওয়ার আগেই লেখা রিসিট, আসলে যে কোম্পানি দিয়ে যাবে তার ট্র্যাকিং নম্বর, আর হারালে কে দায় নেবে সেই কথা কাগজে চেয়ে নিন। এগুলো না দিলে সেই এজেন্টকে মাল দেবেন না।

কোনটা নেবেন, সেটা ঠিক করে জিনিসের দাম আর কাস্টমারের তাড়া। এই ব্যবসায় নামার আগে আমি একটা কথা সবাইকে বলি, প্রথম কয়েকটা পার্সেল ডাকে পাঠান। রেট গেজেটে লেখা, হাতে রিসিট পাবেন, ট্র্যাকও করা যায়, আর ভুল হলেও খরচ কম যায়। দামি জিনিস বা খুব তাড়ার অর্ডারে এক্সপ্রেস নিন, বাড়তি খরচটা কাস্টমারকে আগেই বলে।
কোন দেশে কোন জিনিস ঢোকে না, খাবার আর আতর আগে দেখুন
এই ধাপ বাদ দিয়ে অনেকে টাকা নিয়ে ফেলেন, তারপর বিপদে পড়েন। বাংলাদেশ থেকে একটা জিনিস বের হতে পারলেই সেটা ওপারে ঢুকবে, এমন না। কোনটা ঢুকবে, ঠিক করে যে দেশে যাচ্ছে তার কাস্টমস। আর যে কোম্পানি দিয়ে পাঠাচ্ছেন, তার নিজের নিষেধের লিস্টও আছে।
আতর আর পারফিউম দিয়েই শুরু করি। DHL বাংলাদেশের ওয়েবসাইটের "Prohibited and Restricted Items" পেজে, যেটা ২০২৬ সালের অক্টোবরে দেখেছি, পারফিউম, আফটারশেভ আর অ্যারোসলকে বিপজ্জনক জিনিসের লিস্টে রাখা আছে, DHL লিখিতভাবে রাজি না হলে নেয় না। কারণটা সোজা, অ্যালকোহলে আগুন ধরে, আর প্লেনে সেই ঝুঁকি কেউ নেয় না। তাই স্প্রে পারফিউমের অর্ডার বিদেশে নেবেন না। তেলের আতর আর অ্যালকোহলের আতর চেনার উপায় আতর-টুপির ব্যবসার লেখায় আছে। তেলের আতর হলেও কাউন্টারে আগে জিজ্ঞেস করে নিন, লেবেলে "perfume" দেখলেই অনেক জায়গায় আটকে দেয়।
এরপর খাবার। শুটকি, মিষ্টি, আচার আর মধু প্রবাসী ভাইয়েরা সবচেয়ে বেশি চান, আবার ঝামেলাও হয় এগুলো নিয়েই বেশি। যুক্তরাজ্যের gov.uk সাইটের খাবার আনার পেজে লেখা আছে, মাংস, দুধের জিনিস, মাছ আর প্রাণীজ জিনিস বাইরে থেকে আনায় বিধিনিষেধ আছে। শুটকি তো মাছই, আর রসগোল্লা-সন্দেশে দুধ আছে। প্রতিটা দেশের লিস্ট আলাদা, আর সময়ের সাথে বদলায়ও, তাই এখানে কোনো দেশের পুরো লিস্ট দিচ্ছি না।
কাজের নিয়মটা এমন রাখুন। খাবারের অর্ডার এলে কাস্টমারকে বলুন নিজের দেশের কাস্টমসের ওয়েবসাইটে দেখে নিতে জিনিসটা পার্সেলে আনা যায় কি না। সৌদিতে সেটা ZATCA, দুবাইয়ে Dubai Customs, যুক্তরাজ্যে gov.uk। আপনি কুরিয়ারের কাউন্টারেও জিজ্ঞেস করবেন। "ভাই, এখানে সবাই আনে" শুনে টাকা নেবেন না। কেউ হাতের লাগেজে এনেছে মানেই পার্সেলে আসবে, এমন না।
নকল ব্র্যান্ডের জিনিস বিদেশে একদমই পাঠাবেন না। DHL-এর একই পেজে লেখা, ট্রেডমার্ক ভাঙা নকল জিনিস তারা কোনো অবস্থাতেই নেয় না, আর সন্দেহ হলে কাস্টমসকে জানায়। নামি ব্র্যান্ডের লোগো লাগানো কপি জিনিস পাঠালে পার্সেল জব্দ হয়, সাথে আপনার নামও খাতায় ওঠে।
১ কেজি পাঠাতে কত খরচ, সৌদি, দুবাই আর লন্ডন পাশাপাশি (উদাহরণ)
ডাকের রেট নিয়েছি ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের "ডাক মাশুল গেজেট" পেজের নতুন গেজেট থেকে, যেটা ছাপা হয়েছে ১২ আগস্ট ২০২৬, কার্যকর ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। ইএমএসে প্রথম ১০০ গ্রামের একটা দাম, তারপর প্রতি ১০০ গ্রাম বা তার অংশের আলাদা দাম। এয়ার পার্সেলে একই হিসাব ৫০০ গ্রাম করে। DHL-এর রেট নিয়েছি তাদের "Service & Rate Guide 2026" (Bangladesh) থেকে, যেটা ডলারে লেখা। ৮ অক্টোবর ২০২৬-এ দুটো থেকে ১ কেজি পার্সেলের খরচ পাশাপাশি দিলাম।
| দেশ | ইএমএস, ১ কেজি | এয়ার পার্সেল, ১ কেজি | DHL, ১ কেজি পার্সেল |
|---|---|---|---|
| সৌদি আরব | ১,৭৮৮ টাকা | ১,৫৭৩ টাকা | ৪০.৮৯ ডলার |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | ১,৫৪৮ টাকা | ১,৩২০ টাকা | ৪০.৮৯ ডলার |
| যুক্তরাজ্য | ২,৩৮৮ টাকা | ২,১৩৪ টাকা | ৭৬.৬২ ডলার |
| মালয়েশিয়া | ১,৬৭২ টাকা | ১,৩৬৪ টাকা | ৭১.৩৮ ডলার |
টেবিলের টাকাগুলো গেজেটের রেট যোগ করে বের করা, নিচের উদাহরণে যোগটা ধাপে ধাপে দেখবেন। গেজেটেই লেখা, ইএমএসের মাশুলের ওপর NBR-এর হারে ভ্যাট বসবে। DHL-এর গাইডে লেখা, তাদের রেটে শুল্ক, ট্যাক্স, ভ্যাট আর সব সারচার্জ বাদ, আর ফুয়েল সারচার্জ মাসে মাসে বদলায়। তাই কাস্টমারকে দাম বলার আগে সেদিনের রেট একবার মিলিয়ে নেবেন।
খেয়াল করুন, এই চার দেশেই ইএমএসের চেয়ে এয়ার পার্সেলে খরচ কম। গেজেটে ইএমএসকে দ্রুত সার্ভিস বলা আছে, এয়ার পার্সেলের গতি নিয়ে কিছু লেখা নেই। তাই সস্তার পথ নেওয়ার আগে কাউন্টারে জিজ্ঞেস করুন কয় দিন লাগতে পারে আর ট্র্যাক করা যাবে কি না। দুই-তিনশো টাকা বাঁচাতে গিয়ে ঈদের পরে পার্সেল পৌঁছালে কাস্টমার আর ফেরেন না।
এবার উদাহরণ হিসেবে রিয়াদের সেই অর্ডারটা দিয়ে পুরো হিসাবটা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত করে দেখাই। সংখ্যাগুলো বানানো, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। ডাকের রেট বাদে বাকি জায়গায় নিজের কেনা দাম বসিয়ে মিলিয়ে নেবেন।
কাস্টমার চান একটা সুতির পাঞ্জাবি ১,৮০০ টাকায় আর দুইটা টুপি ১৫০ টাকা করে, মানে জিনিসের দাম ২,১০০ টাকা। আপনার কেনা পড়েছে পাঞ্জাবি ১,০০০ টাকা আর টুপি দুইটা ১৪০ টাকা, মোট ১,১৪০ টাকা। শক্ত বাক্স, পলি আর টেপে গেল ৬০ টাকা। প্যাক করার পরে ওজন হলো ৯৫০ গ্রাম, বাক্সের মাপ ৩০ × ২৫ × ১০ সেন্টিমিটার।

ধরুন ইএমএসে সৌদি পাঠাবেন। প্রথম ১০০ গ্রাম ১,৪৬৪ টাকা। বাকি ৮৫০ গ্রাম মানে সাড়ে আটটা ১০০ গ্রাম, কিন্তু গেজেটে "অংশ বিশেষ"-ও পুরো ধরা হয়, তাই ৯ × ৩৬ = ৩২৪ টাকা। মাশুল ১,৭৮৮ টাকা, পুরো ১ কেজির সমান। গেজেটে প্রতিটা সেবায় ২ টাকা ইলেকট্রনিক চার্জ আছে, তাই ১,৭৯০ টাকা। জিনিসটা দামি বলে বিমাও নিলেন। গেজেটের পোস্টাল ফি অংশে বিমা ৫০০ টাকা পর্যন্ত দামে ২০ টাকা, তারপর প্রতি ৫০০ টাকা বা তার অংশে ১০ টাকা। ২,১০০ টাকার জিনিসে ২০ + ৪ × ১০ = ৬০ টাকা, তবে এই দেশের পার্সেলে বিমা মেলে কি না কাউন্টারে জেনে নেবেন। ডাকে মোট ১,৮৫০ টাকা।
ভ্যাটের আসল অঙ্ক কাউন্টারেই জানবেন, এখানে আন্দাজে ৩০০ টাকা রাখলাম। ডাকঘরে যাওয়া-আসায় ধরুন ১০০ টাকা। মোট খরচ ১,১৪০ + ৬০ + ১,৮৫০ + ৩০০ + ১০০ = ৩,৪৫০ টাকা। কাস্টমারকে বললেন জিনিস ২,১০০ টাকা আর পাঠানোর খরচ ২,৩০০ টাকা, মোট ৪,৪০০ টাকা। হাতে থাকল ৪,৪০০ − ৩,৪৫০ = ৯৫০ টাকা।
এবার উল্টো দিকটা ভাবুন। পার্সেল ওপারে আটকে গেল, আর ফেরত এলো না। তখন আপনার গেল পুরো ৩,৪৫০ টাকা, মানে এমন সাড়ে তিনটার বেশি অর্ডারের লাভ। এজন্যই বিদেশের অর্ডারে দেশের COD-এর মতো "পাঠিয়ে দেখি" চলে না।
একই বাক্স DHL-এ পাঠালে হিসাব বদলায়, কারণ DHL সাইজ থেকেও ওজন ধরে। গাইডে লেখা, দৈর্ঘ্য × প্রস্থ × উচ্চতা সেন্টিমিটারে গুণ করে ৫,০০০ দিয়ে ভাগ, তারপর আসল আর সাইজের ওজনের মধ্যে যেটা বেশি সেটা ধরে বিল, পরের আধা কেজিতে তুলে। সূত্রটার পুরো ব্যাখ্যা ভারী পার্সেলের লেখায় আছে। ৩০ × ২৫ × ১০ = ৭,৫০০, ভাগ ৫,০০০ = ১.৫ কেজি। তাই ৯৫০ গ্রামের পার্সেলের বিল হবে দেড় কেজির, জোন ১-এ ৪৮.৭৬ ডলার, ডলার ১২২ টাকা ধরলে প্রায় ৫,৯৪৯ টাকা, তার ওপর ফুয়েল সারচার্জ আর ভ্যাট। একই জিনিস ২৫ × ২০ × ৮ সেন্টিমিটারের বাক্সে আঁটালে সাইজের ওজন ০.৮ কেজি, তখন আসল ওজনটাই বড়, যা উঠে হয় ১ কেজি, বিল ৪০.৮৯ ডলার বা প্রায় ৪,৯৮৯ টাকা। শুধু বাক্স ছোট করায় বাঁচল প্রায় ৯৬০ টাকা। প্রথম মাসে প্রায় সবাই বড় বাক্সের এই ভুলটা করেন, আর আমার অভিজ্ঞতায় এক্সপ্রেস কুরিয়ারের বিলে এই ভুলটাই সবচেয়ে বেশি টাকা খায়।
বিদেশে কুরিয়ার পাঠানোর নিয়ম, কাউন্টারে কী কাগজ লাগে আর ইনভয়েসে দাম কী লিখবেন
খরচ বলার আগেই কাস্টমারের পুরো ঠিকানা নিন। বাসার নম্বর, রাস্তা, এলাকা, শহর আর পোস্টকোড চাইবেন, সাথে ওই দেশের এমন একটা ফোন নম্বর যেটা তিনি নিজে ধরেন। প্রবাসী ভাইয়েরা অনেক সময় শুধু "রিয়াদ, বাথা" লিখে দেন, কারণ দেশে কুরিয়ার এভাবেই চলে। বিদেশে পোস্টকোড বা ফোন না থাকলে পার্সেল গুদামে বসে থাকে। ঠিকানাটা তাঁকে দিয়েই ইংরেজিতে লিখিয়ে নিন।
ডাকে পাঠালে একটা কাজ বাসা থেকেই সেরে যান। ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের "কাস্টমস ডিক্লারেশন" পেজে লেখা আছে, লিংকে গিয়ে Sender, Recipient আর Content-এর ঘর পূরণ করবেন, "Confirm & Continue" চাপলে ৭ ডিজিটের একটা ডিক্লারেশন আইডি পাবেন। আইডিটা অক্ষর আর সংখ্যা মিশিয়ে হয়, তাই স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন। পার্সেল আর আইডি নিয়ে কাউন্টারে গেলে বুকিং হবে। একই পেজে সতর্ক করা আছে, ভুল তথ্য দিলে পার্সেল ফেরত আসতে পারে বা কাস্টমস জব্দ করতে পারে। যাওয়ার আগে জেলা শহরের প্রধান ডাকঘরে ফোন করে জেনে নিন তারা বিদেশের পার্সেল নেয় কি না, খালি হাতে ফেরার চেয়ে এক মিনিটের ফোন ভালো। ঢাকায় বৈদেশিক ডাকের আলাদা অফিস আছে, ডাক অধিদপ্তরের আন্তর্জাতিক সেবার পেজে তার ফোন নম্বর ০২-২২৩৩৮৬৮২৮। বাক্স পুরো টেপ মেরে নেবেন না, টেপ-কাঁচি সাথে রাখুন। অনেক সময় কাউন্টারে ভেতরের জিনিস দেখতে চায়।
এক্সপ্রেস কুরিয়ারে লাগে ওদের ওয়েবিল আর একটা ইনভয়েস। DHL-এর গাইডে লেখা, কেনাবেচার মাল হলে কমার্শিয়াল ইনভয়েস, আর কেনাবেচা নেই এমন জিনিসে, যেমন স্যাম্পল, প্রোফর্মা ইনভয়েস। ওপারের কাস্টমস এই কাগজ দেখেই ঠিক করে শুল্ক বসবে কি না।

ইনভয়েসে জিনিসের নাম লিখবেন খুলে। "clothes" না, "Men's cotton panjabi, 1 pc"। "food" না, "Dried fish, vacuum packed, 500 g"। ঝাপসা নাম দেখলেই কাস্টমস বাক্স খোলে, আর খোলা মানে দেরি। দাম লিখবেন যা কাস্টমার আসলে দিয়েছেন। শুল্ক বাঁচাতে কম দাম লেখার পরামর্শ অনেকে দেন, ওটা কানে তুলবেন না। ডাকের পেজেই দেখলেন ভুল তথ্যে পার্সেল জব্দ হতে পারে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো বিক্রির মালকে "Gift" লেখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ জুলাই ২০২৬-এর রপ্তানির সার্কুলারে উপহারের প্যাকেটকে ছাড় দেওয়া আছে ঠিকই, কিন্তু শর্ত হলো যিনি পাঠাচ্ছেন তিনি ঘোষণা দেবেন দাম Export Policy-র সীমার নিচে আর কোনো বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন নেই। আপনি টাকা নিয়ে বেচছেন, তাই ওটা উপহার না, বিক্রি।
বুকিংয়ের দিনই রিসিটের ছবি আর ট্র্যাকিং নম্বর কাস্টমারকে পাঠিয়ে দিন। বিদেশে যিনি আগেই পুরো টাকা দিয়ে বসে আছেন, তিনি তৃতীয় দিন থেকেই অস্থির হন। নম্বর হাতে থাকলে নিজেই দেখে নেন, আপনাকে দিনে পাঁচবার মেসেজ দেন না।

প্রবাসী কাস্টমারের টাকা কীভাবে নেবেন, বৈধ পথে আর পাঠানোর আগেই
বিদেশের অর্ডারে পুরো টাকা আগে নেবেন, জিনিসের দাম আর পাঠানোর খরচ দুটোই। ওপারে ক্যাশ অন ডেলিভারি বলে কিছু আপনার হাতে নেই, পার্সেল উড়ে গেলে টাকা আদায়ের কোনো রাস্তা থাকে না। আর টাকা এসেছে মানে অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে, কাস্টমারের পাঠানো স্ক্রিনশট না। অনেক সেলার স্ক্রিনশট দেখে মাল ছেড়ে দেন, পরে দেখেন টাকা ঢোকেইনি।
এর সাথে আরেকটা কথা মাথায় রাখবেন, টাকা আসতে হবে বৈধ পথে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ৩০ জুলাই ২০২৬-এর FEPD-1 Circular No. 26 আছে, রপ্তানির সব নিয়ম এক জায়গায়। ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেখানে যা পড়েছি, ই-কমার্স ওয়েবসাইটে হওয়া প্রতিটা ছোট বিক্রিতে ১,০০০ ডলার পর্যন্ত পার্সেলে EXP ফর্ম লাগবে না, যদি টাকা পাঠানোর আগেই বৈধ পথে এসে যায়। তবে এটা নিজে নিজে চালু হয় না। ব্যাংক আপনার কাছ থেকে ঘোষণা নেবে, পার্সেল যাবে লাইসেন্স থাকা এক্সপ্রেস বা কুরিয়ার কোম্পানি দিয়ে যারা কাস্টমসে বিল অব এক্সপোর্ট করাবে, আর ব্যাংক টাকা ছাড়বে সেই কাগজ পাওয়ার পরে। একই সার্কুলারে লাইসেন্স থাকা MFS আর পেমেন্ট সার্ভিস কোম্পানিকেও এমন টাকা আনার সুযোগ দেওয়া আছে।
সোজা কথায়, নিয়মিত বিদেশে বেচতে চাইলে আপনার ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ বা ট্রেড ডেস্কে জিজ্ঞেস করুন, "ই-কমার্সে ছোট রপ্তানির টাকা আনার ব্যবস্থাটা আমার অ্যাকাউন্টে কীভাবে চালু হবে?" কোন কাগজ লাগবে, সেটা ব্যাংকই বলবে। এই লেখা আইনি পরামর্শ না, এই অংশে ব্যাংকের কথাই শেষ কথা।
ব্যাংকের ব্যবস্থা চালু হওয়ার আগে সবচেয়ে সহজ আর পরিষ্কার পথ হলো দেশের ভেতরে বেচা। রিয়াদের ভাইয়ের মা বা ভাই ঢাকায় থাকলে তিনিই আপনার কাস্টমার। তিনি টাকায় পেমেন্ট করবেন, আপনি রোজকার মতো দেশের কুরিয়ারে তাঁর ঠিকানায় মাল পাঠাবেন। তারপর তাঁরা নিজেরা উপহার হিসেবে পাঠাবেন, বা যে আত্মীয় যাচ্ছেন তাঁর লাগেজে দেবেন। আপনার বিক্রিটা পুরো দেশি, কাগজও পরিষ্কার। আমি প্রবাসী কাস্টমারদের প্রথমে এই রাস্তাটাই বলি, কারণ এতে কারো কোনো ঝুঁকি নেই।
লম্বা পথের প্যাকিং, লিক, গন্ধ আর চাপ সামলাবেন যেভাবে
বিদেশের পার্সেল ডাকঘর থেকে গুদাম, বিমানবন্দর, প্লেনের খোল আর ওপারের কাস্টমস ঘুরে তবে কাস্টমারের দরজায় যায়। প্রতিবার নতুন হাত পড়ে, আর বড় বস্তার নিচে চাপা থাকে। তাই প্যাকিং হবে দেশের চেয়ে এক ধাপ শক্ত।
তরল জিনিস থাকলে মধু বা তেলের আতরের বোতলের মুখ শক্ত করে লাগিয়ে চারপাশে টেপ পেঁচান, তারপর বোতলটা জিপ ব্যাগে ভরুন। উঁচুতে বাতাসের চাপ বদলায়, ঢিলা ঢাকনা দিয়ে একটু হলেও বেরোয়। একটা বোতল চুইয়ে পড়লে পুরো বাক্স ভেজে, পাশের পাঞ্জাবিও নষ্ট হয়।
শুটকির বেলায় আসল বিপদ গন্ধ, কারণ গন্ধ পেলেই কাস্টমস বাক্স খোলে। শুটকি ভ্যাকুয়াম করে সিল করুন, ওপরে আরেকটা মোটা পলি দিন, তারপর একটা বাক্সে ভরে সেটা আরেকটা বাক্সে বসান। দেশের ভেতরে গন্ধ আটকানোর কায়দা শুটকি ব্যবসার লেখায় আগেই বলেছি, বিদেশের জন্য তার সাথে একটা বাক্স বেশি দিন। তবে আগে দেখে নিন ওই দেশে শুটকি পার্সেলে ঢোকে কি না।

কাপড় হলে পাঞ্জাবি আগে একটা পলিতে মুড়ুন, যাতে বাক্স ভিজলেও কাপড় না ভেজে। বাক্সে ফাঁকা জায়গা রাখবেন না, কাগজ বা বাবল র্যাপ দিয়ে ভরুন, কারণ ফাঁকা বাক্স চাপে আগে বসে যায়। বাক্সের ওপরে আর ভেতরে, দুই জায়গায় কাস্টমারের নাম-ঠিকানা আর ফোন নম্বর দিন। বাইরের লেবেল ছিঁড়ে গেলেও ভেতরের কাগজ দেখে পার্সেল জায়গামতো যায়।
শেষে প্যাক করা বাক্সের চারপাশ থেকে ফোনে কয়েকটা ছবি তুলুন, ওজনের স্ক্রিনসহ। ওপারে ভাঙা বা কম ওজনের অভিযোগ এলে এই ছবিই আপনার প্রমাণ।
ওপারের কাস্টমস শুল্ক কে দেবে
এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি হয়। আপনি দেশে মাশুল দিলেন, পার্সেল উড়ল। কয়েক দিন পর কাস্টমারের কাছে মেসেজ গেল, পার্সেল নিতে হলে শুল্ক বা ভ্যাট দিন। তিনি ভাবলেন আপনি সব খরচ ধরেই টাকা নিয়েছিলেন। ট্র্যাকিংয়ে তখন পার্সেলটা দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, আর আপনার ইনবক্সে রাগী মেসেজ আসতে থাকে। অনেকে শেষে পার্সেলটাই নেন না, পার্সেল পড়ে থাকে বা ফেরত আসে, আর দোষ পড়ে আপনার।

কত লাগবে, ঠিক করে ওই দেশ। যুক্তরাজ্যের gov.uk পেজে লেখা আছে, ৩৯ পাউন্ড বা তার কম দামের উপহারে ভ্যাট লাগে না। কেনা জিনিসের দাম ১৩৫ পাউন্ডের বেশি হলে কাস্টমারকে ডেলিভারি কোম্পানিকে ভ্যাট দিতে হয়, আর কাস্টমস শুল্কও আসতে পারে। একই পেজে লেখা, ১৩৫ পাউন্ড বা তার কম দামের কেনা জিনিসে ভ্যাট কেনার দামের মধ্যেই ধরা থাকার কথা, মানে দায়টা সেলারের দিকে যায়। নিয়মিত যুক্তরাজ্যে পাঠাতে চাইলে এই অংশটা একজন ট্যাক্স পরামর্শককে দিয়ে বুঝে নিন। সৌদি আর আমিরাতের সীমা আলাদা, আর বদলায়ও, তাই কাস্টমারকে বলুন ZATCA বা Dubai Customs-এর ওয়েবসাইটে দেখে নিতে।
টাকা নেওয়ার আগেই কাস্টমারকে লিখে দিন, মুখের কথায় কাজ হয় না। "ভাই, আমার দামের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে পাঠানোর খরচ ধরা আছে। আপনার দেশে কোনো শুল্ক বা ভ্যাট এলে সেটা আপনাকে দিতে হবে।" রাজি হলে তবেই টাকা নিন। এক্সপ্রেস কুরিয়ারে উল্টো ব্যবস্থাও আছে, DHL-এর গাইডে "Duty Tax Paid" নামে একটা অপশন আছে যেখানে শুল্ক দেন যিনি পাঠাচ্ছেন। কাস্টমার দরজায় আর কিছু দিতে না চাইলে এটা নিন, খরচটা দামের সাথে আগেই যোগ করে।
কখন বিদেশের অর্ডার নেবেন না
নিচের যেকোনো একটা হলে ভদ্রভাবে না বলুন, বা দেশের ঠিকানায় বেচার রাস্তাটা দেখিয়ে দিন।
- জিনিসটা স্প্রে পারফিউম, অ্যালকোহল দেওয়া কিছু, ওষুধ, বা এমন খাবার যেটা ওই দেশে ঢোকে কি না আপনি এখনো জানেন না।
- জিনিসের দাম পাঠানোর খরচের চেয়ে অনেক কম। ৩০০ টাকার চানাচুরে ১,৫০০ টাকার মাশুল শুনলে কাস্টমার পরে ভাববেন আপনি ঠকিয়েছেন।
- কাস্টমার পুরো টাকা আগে দিতে চান না, বা হুন্ডির মতো পথে দিতে চান।
- পুরো ঠিকানা, পোস্টকোড বা নিজের দেশের ফোন নম্বর দিতে পারছেন না।
- নামি ব্র্যান্ডের কপি জিনিস চাইছেন। এটা দেশেও বেচবেন না।
শুরুতেই পাঁচ দেশে দশ রকম জিনিস পাঠাতে যাবেন না। একটা দেশ আর দুই-তিনটা নিরাপদ জিনিস, যেমন কাপড় আর টুপি, দিয়ে শুরু করুন। প্রথম তিন-চারটা পার্সেল ঠিকঠাক পৌঁছালে তারপর বাড়ান।
একটা কথা সৎভাবে বলি। WinningSeller দেশের ছয়টা কুরিয়ারের সাথে কানেক্টেড, Steadfast, Pathao, RedX, Paperfly, Carrybee আর eCourier। বিদেশের পার্সেল বুক করার ব্যবস্থা এতে নেই, সেটা ডাকঘর বা এক্সপ্রেস কুরিয়ারের কাউন্টারেই করতে হবে। তবে পরিবারের ঢাকার ঠিকানায় পাঠানোর দেশি রাস্তাটা আর দশটা অর্ডারের মতোই এক ক্লিকে কুরিয়ারে যায়। বিদেশের অর্ডার আলাদা রাখতে ম্যানুয়াল অর্ডারে অর্ডারটা তুলুন, কাস্টমারের সাথে ঠিক হওয়া পাঠানোর খরচ ডেলিভারি চার্জের ঘরে আর আগে পাওয়া পুরো টাকা অগ্রিমের ঘরে লিখুন, তারপর "বিদেশ" নামে একটা ট্যাগ লাগিয়ে দিন। পার্সেল পৌঁছানোর খবর পেলে অর্ডারটা ডেলিভারড করে দেবেন। মাস শেষে ট্যাগ দিয়ে ফিল্টার করে CSV নামাতে পারবেন, ডেলিভারি হওয়া অর্ডারের লাভ-ক্ষতিও দেখবেন। শুধু ডাক বা DHL-এর আসল বিল সফটওয়্যার নিজে জানে না, ওটা আপনাকেই মিলিয়ে নিতে হবে। বাকি সব ফিচারের পেজে আছে।
আজই করে ফেলুন
পরের প্রবাসী অর্ডারের আগেই এক ঘণ্টায় এগুলো সেরে রাখুন।
- যে দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি মেসেজ আসে, সেই একটা দেশ বেছে নিন, আর ওপরের টেবিল থেকে ১ কেজির ইএমএস আর এয়ার পার্সেলের খরচ খাতায় লিখুন।
- যে তিনটা প্রোডাক্ট বিদেশে বেশি চাওয়া হয়, প্রতিটা প্যাক করে ওজন আর বাক্সের মাপ লিখে রাখুন।
- প্রতিটার জন্য ইনভয়েসে লেখার ইংরেজি নাম ঠিক করে রাখুন, যেমন "Men's cotton panjabi"।
- ইনবক্সের ঠিক করা উত্তরে একটা লাইন যোগ করুন। "বিদেশে পাঠাই, পুরো টাকা আগে, আপনার দেশের শুল্ক আপনার।"
- আপনার ব্যাংকের শাখায় ফোন দিয়ে জেনে নিন ই-কমার্সের ছোট রপ্তানির টাকা আনা নিয়ে কার সাথে কথা বলবেন।
- পরিবারের মাধ্যমে কেনার রাস্তাটা এক লাইনে লিখে রাখুন, যাতে প্রবাসী কাস্টমারকে সাথে সাথে বলতে পারেন।
সাধারণ প্রশ্ন
বিদেশে কুরিয়ার করতে কত টাকা লাগে?
দেশ আর পথ ভেদে আলাদা। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চালু ডাক গেজেটে সৌদি আরবে ১ কেজি ইএমএস ১,৭৮৮ টাকা, আমিরাতে ১,৫৪৮ টাকা আর যুক্তরাজ্যে ২,৩৮৮ টাকা, ভ্যাট আলাদা। DHL-এর ২০২৬ সালের বাংলাদেশ রেট গাইডে সৌদি বা আমিরাতে ১ কেজি পার্সেল ৪০.৮৯ ডলার, ফুয়েল সারচার্জ আর ভ্যাট ছাড়া।
পোস্ট অফিস থেকে বিদেশে পার্সেল পাঠানোর নিয়ম কী?
ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটের "কাস্টমস ডিক্লারেশন" পেজে অনলাইনে ফর্ম পূরণ করলে ৭ ডিজিটের একটা ডিক্লারেশন আইডি পাবেন। পার্সেল আর ওই আইডি নিয়ে ডাকঘরের কাউন্টারে গেলে ওজন করে মাশুল নেবে। ডিক্লারেশনে ভুল তথ্য দিলে পার্সেল ফেরত আসতে পারে বা কাস্টমস জব্দ করতে পারে।
বিদেশে কি কি খাবার পাঠানো যায়?
এটা ঠিক করে যে দেশে যাচ্ছে সেই দেশের নিয়ম, বাংলাদেশের না। যুক্তরাজ্যের gov.uk পেজেই লেখা আছে, মাংস, দুধের জিনিস, মাছ আর প্রাণীজ জিনিস বাইরে থেকে আনায় বিধিনিষেধ আছে। শুটকি, মিষ্টি বা আচার পাঠানোর আগে কাস্টমারকে দিয়ে তাঁর দেশের কাস্টমসের ওয়েবসাইট দেখিয়ে নিন, আর কুরিয়ারের কাউন্টারেও জিজ্ঞেস করুন।
বিদেশে আতর বা পারফিউম পাঠানো যায়?
অ্যালকোহল দেওয়া পারফিউম বা স্প্রে সাধারণ পার্সেলে পাঠানো কঠিন। DHL বাংলাদেশের ওয়েবসাইটে পারফিউম আর আফটারশেভকে বিপজ্জনক জিনিসের লিস্টে রাখা আছে, DHL লিখিতভাবে রাজি না হলে নেয় না। তেলের আতর নিয়েও আগে কাউন্টারে জিজ্ঞেস করে নিন, টাকা নেওয়ার আগে।
প্রবাসী কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা কীভাবে নেব?
বিদেশ থেকে টাকা আসবে শুধু ব্যাংক বা বৈধ ডিজিটাল পেমেন্টের পথে, হুন্ডিতে কখনো না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ জুলাই ২০২৬-এর সার্কুলারে ই-কমার্স ওয়েবসাইটে হওয়া ১,০০০ ডলার পর্যন্ত ছোট বিক্রির একটা সহজ নিয়ম আছে, তবে সেটা আপনার ব্যাংকের মাধ্যমে চালু করতে হয়। সবচেয়ে সহজ পথ হলো দেশে থাকা পরিবার টাকায় কিনে দেশের ঠিকানায় মাল নেওয়া, তারপর নিজেরা পাঠানো।
DHL-এ ১ কেজি পাঠাতে খরচ কত?
DHL-এর ২০২৬ সালের বাংলাদেশ রেট গাইডে ১ কেজি পার্সেল জোন ১ (সৌদি, আমিরাত, কাতার) ৪০.৮৯ ডলার, জোন ২ (মালয়েশিয়া) ৭১.৩৮ ডলার আর জোন ৪ (যুক্তরাজ্য) ৭৬.৬২ ডলার। এর ওপর ফুয়েল সারচার্জ, ভ্যাট আর ওপারের শুল্ক যোগ হয়। বাক্স বড় হলে সাইজের ওজন ধরে বিল হয়, তাই আসল খরচ বেশি হতে পারে।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


