ফ্রোজেন ফুড ব্যবসা, ঘরে বানানো পরোটা-সমুচা অনলাইনে বেচার নিয়ম
ঘরে পরোটা, সমুচা, রোল বানিয়ে ফ্রোজেন করে বেচতে চান? কোন আইটেম চলে, জমানো আর ফ্রিজারে রাখার নিয়ম, লেবেল আর BSTI-র প্রশ্ন, বেশিরভাগ কুরিয়ার কেন নেয় না, বিদ্যুৎসহ ২০ পিসের প্যাকের দাম, আর সপ্তাহে দুই দিনের রুট।

এই লেখায় যা আছে
ফ্রোজেন ফুড ব্যবসা ঘরে শুরু করা যায়, কিন্তু এটা অন্য অনলাইন ব্যবসার মতো না। পরোটা, সমুচা বা রোল বানানো সহজ অংশ। কঠিন অংশ হলো বানানোর মুহূর্ত থেকে কাস্টমারের ফ্রিজার পর্যন্ত খাবারটা জমানো রাখা। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ বেশ কয়েকটা কুরিয়ারের নিজেদের পেজে পচনশীল খাবার না নেওয়ার কথা লেখা, তাই এই ব্যবসা চলে মূলত নিজের শহরে, নিজের লোকের হাতে, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে। এই সীমাটা মেনে নিলে এটা ভালো একটা রিপিট ব্যবসা।
অনেকের এই ব্যবসা শুরু হয় ঈদের আগের এক সন্ধ্যায়। বাসার জন্য একসাথে অনেক পরোটা বেলে জমিয়ে রেখেছিলেন, পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী চেখে দেখে বললেন, "ভাই, প্রতি সপ্তাহে বিশটা করে দিতে পারবেন? দোকানেরগুলো খেতে কাগজের মতো লাগে।" এক জনের পরে তিন জন, তারপর পুরো বিল্ডিং। তখনই প্রশ্ন আসে, কোন আইটেম বাড়াব, কীভাবে রাখব, দূরে পাঠাব কীভাবে, আর দাম কত হলে আসলে কিছু থাকে।
ফ্রোজেন ফুড ব্যবসায় কোন আইটেম চলে
ঘরে বানানো ফ্রোজেনে সবচেয়ে চলে সেই জিনিসগুলো, যেগুলো কাস্টমার ফ্রিজার থেকে বের করে সরাসরি ভেজে বা সেঁকে খেতে পারেন। পরোটা, পুরি, সমুচা, সিঙারা, স্প্রিং রোল, চিকেন রোল, শামি কাবাব। এগুলোর কাস্টমার মূলত চাকরিজীবী পরিবার, যাঁদের সকালে নাস্তা বানানোর সময় নেই, আর বিকেলে বাচ্চার টিফিন বা মেহমানের জন্য হাতের কাছে কিছু রাখতে চান।
শুরু করুন দুই-তিনটা আইটেম দিয়ে। পরোটা প্রায় সবসময় প্রথম, কারণ প্রতিদিনের নাস্তার জিনিস, তাই এক কাস্টমার প্রতি সপ্তাহে কেনেন। তার সাথে একটা ভাজার আইটেম, যেমন সমুচা বা রোল। বাকিগুলো পরে, যখন জানবেন আপনার ফ্রিজারে কতটা জায়গা আর সপ্তাহে কত প্যাক বানাতে পারেন।

কাঁচা মাংসের আইটেম, যেমন মেরিনেট করা মুরগি বা কাঁচা কিমার কাবাব, শুরুতে ধরবেন না। কাঁচা মাংসে ঠান্ডা একটু ভাঙলেই ঝুঁকি অনেক বেশি, আর প্রতিটা ভুলের দাম কাস্টমারের পেট দিয়ে দিতে হয়। আর পুরোপুরি রান্না করা ভাত-তরকারি জমিয়ে বেচা আরেকটা আলাদা কাজ, সেখানে গরম করার পরে স্বাদ আর চেহারা দুটোই বদলায়। শুরুতে আধা-তৈরি, ভেজে খাওয়ার জিনিসেই থাকুন।
বানানো, ঠান্ডা করা আর ফ্রিজারে রাখার নিয়ম
ঘরের ফ্রোজেন আর বাজারের ফ্রোজেনের পার্থক্য তৈরি হয় এখানে। প্রথম নিয়ম, রান্না করা পুর বা ভাজা জিনিস পুরো ঠান্ডা না করে ফ্রিজারে ঢোকাবেন না। গরম জিনিস ফ্রিজারের ভেতরের ঠান্ডা কমিয়ে দেয়, আশেপাশের আগের প্যাকেটগুলো একটু গলে আবার জমে, আর তাতে স্বাদ আর গঠন দুটোই নষ্ট হয়। তবে ঠান্ডা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোলা রাখবেন না, ফ্যানের নিচে ছড়িয়ে দিন যাতে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়।
দ্বিতীয় নিয়ম, সমুচা-রোল আগে ট্রেতে ছড়িয়ে জমান, তারপর প্যাকেটে ভরুন। একটার গায়ে আরেকটা লাগিয়ে সরাসরি প্যাকেটে ভরলে সব জমে একটা দলা হয়ে যায়, কাস্টমার ছুরি দিয়ে আলাদা করতে গিয়ে ভেঙে ফেলেন। ট্রেতে দুই-তিন ঘণ্টা রাখলে প্রতিটা আলাদা শক্ত হয়, তখন প্যাকেটে ঢালুন। পরোটার বেলায় প্রতিটার মাঝে একটা বাটার পেপার।

তৃতীয় নিয়ম, ফ্রিজার কানায় কানায় ভরবেন না। ঠাসা ফ্রিজারে ঠান্ডা বাতাস চলতে পারে না, ভেতরের প্যাকেট ঠিকমতো জমে না। ফ্রিজারের ভেতরে একটা আলাদা থার্মোমিটার রাখুন। যুক্তরাষ্ট্রের FDA-র "Food and Water Safety During Power Outages and Floods" পেজে (৫ মার্চ ২০২৪) ফ্রিজার ০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, মানে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখার কথা লেখা। দেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ঘরোয়া ফ্রোজেন খাবারের তাপমাত্রা নিয়ে কোনো নির্দেশনা এই লেখার জন্য মেলানো হয়নি, তাই আপাতত এই সংখ্যাটাই মেনে রাখুন, আর জেলা অফিসে গেলে জিজ্ঞেস করে নিন।
চতুর্থ নিয়ম লোডশেডিং নিয়ে, আর এটাই এই ব্যবসার সবচেয়ে বড় ভয়। একই FDA পেজ অনুযায়ী ঢাকনা বন্ধ থাকলে ভরা ফ্রিজার মোটামুটি ৪৮ ঘণ্টা, আর অর্ধেক ভরা ফ্রিজার ২৪ ঘণ্টা ঠান্ডা ধরে রাখে। তাই বিদ্যুৎ গেলে ঢাকনা খুলবেন না, আর ফ্রিজারের পাশে একটা খাতা রাখুন। কখন বিদ্যুৎ গেল, কখন এলো, আর এলে থার্মোমিটারে কত। কোনো লট নিয়ে সন্দেহ হলে এই খাতাই বলে দেবে সেটা বেচবেন কি না।
প্যাকেট, তারিখ, লেবেল আর লাইসেন্স
প্যাক করুন মোটা ফুড-গ্রেড প্যাকেটে, যেগুলো ফ্রিজারে ফাটে না। ভেতরে যতটা সম্ভব কম বাতাস রাখুন, বাতাস থাকলে খাবারের গায়ে বরফের সাদা আস্তর পড়ে। প্রতিটা প্যাকেটে একই সংখ্যা, যেমন ২০ পিস পরোটা বা ১২ পিস সমুচা, আর প্রতিটা প্যাকেট ওজন যন্ত্রে মেপে একই ওজনের রাখুন। কাস্টমার গুনে দেখেন, বিশেষ করে প্রথম কয়েকবার।
লেবেলে বানানোর তারিখ আর কত দিনের মধ্যে খেতে হবে, এই দুটো সবচেয়ে জরুরি। নিরাপদ খাদ্য (মোড়কাবদ্ধ খাদ্য লেবেলিং) প্রবিধানমালা, ২০১৭ অনুযায়ী প্যাকেটের খাবারের লেবেল বাংলায় হবে, আর তাতে বানানেওয়ালার নাম-ঠিকানা, উপাদান, লট নম্বর, নিট ওজন, উৎপাদন আর মেয়াদের তারিখ থাকবে। এর সাথে ফ্রোজেনের জন্য দুটো লাইন যোগ করুন। "মাইনাস ১৮ ডিগ্রিতে ফ্রিজারে রাখুন, গলে গেলে আবার জমাবেন না", আর রান্নার নিয়ম, যেমন "না গলিয়ে সরাসরি গরম তাওয়ায়, দুই পাশ দুই মিনিট করে"। এই রান্নার লাইনটা না থাকলে প্রথম সপ্তাহেই ইনবক্সে একই প্রশ্ন বিশবার আসবে। আর লেবেল একসাথে হাজারটা ছাপাবেন না। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ bfsa.gov.bd-র আইনের পেজে দেখা যায়, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ লেবেলিংয়ের নতুন একটা প্রবিধানমালার ড্রাফট মতামতের জন্য দেওয়া হয়েছিল, মানে নিয়ম বদলাতে পারে।

এবার লাইসেন্সের দিক। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ BSTI-র ওয়েবসাইটে বাধ্যতামূলক লিস্টের পেজের PDF-গুলো, মানে ৩ জুন ২০২৫-এর ৩১৫টির তালিকা আর পরে ২০২৬ সালে দুই দফায় যোগ হওয়া আরও ২০টি, খুলে দেখা হয়েছে। সেখানে খাবারের ভাগে Roti (Flat bread/Tortilla) আর Quick Frozen French Fried Potatoes নামে দুটো লাইন আছে। ফ্রোজেন পরোটা প্রথম লাইনে পড়ে কি না, সেটা BSTI-র ওয়ান স্টপ সার্ভিসে জিজ্ঞেস না করে ধরে নেবেন না। সমুচা, রোল বা কাবাবের নাম লিস্টে দেখা যায়নি।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দিকে, The Daily Star বাংলার ২২ জুলাই ২০২৬-এর খবর অনুযায়ী ১৬ জুলাই গেজেট হওয়া নতুন প্রবিধানমালায় প্যাকেট করা খাবার বানানো প্রতিষ্ঠানকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হয়েছে। খবরে ফি ১,০০০ টাকা থেকে, নবায়ন ৫০০ টাকা, মেয়াদ সাধারণত তিন বছর। একই খবরে হিমাগার আর বেসরকারি খাদ্য গুদামের জন্য লাইসেন্সের কথা আছে, ঘরের একটা ফ্রিজার সেই দলে পড়ে না, কিন্তু ভাড়া করা কোল্ড রুমে মাল রাখলে প্রশ্নটা জেলা অফিসে করে নিন। কোন অফিসে কী কাগজ, সেটা আছে ফুড লাইসেন্সের লেখায়।
ডেলিভারি, শুধু শহরের ভেতরে কেন
কুরিয়ারের নিজেদের পেজ দিয়ে শুরু করি, কারণ এখানে আন্দাজে চলার উপায় নেই। ১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Pathao-র হেল্প সেন্টারের ডেলিভারি আইটেমের পেজে (পেজে শেষ হালনাগাদ ১৭ নভেম্বর ২০২৪) যে জিনিস ওরা ডেলিভারি দেয় না, তার লিস্টে আছে পচনশীল খাবার আর যে খাবার বা পানীয় ফ্রিজে বা অন্য নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে রাখতে হয়। একই লিস্টে ড্রাই আইসও। Paperfly-র টার্মসে লেখা, মার্চেন্ট কোনো পচনশীল জিনিস দেবেন না, আর পচনশীল জিনিসের পার্সেলে ক্ষতিপূরণ ধরা হবে না। eCourier-এর নিষিদ্ধ জিনিসের লিস্টেও পচনশীল জিনিস আছে।
Steadfast-এর টার্মসে পচনশীল বা ফ্রোজেন খাবার নিয়ে আলাদা কোনো লাইন নেই, শুধু বলা আছে ভাঙা যায় এমন আর তরল জিনিসের ক্ষতির টাকা ওরা দেয় না। RedX-এর ওয়েবসাইট থেকে এ নিয়ে কোনো লেখা নিয়ম পড়া যায়নি। মানে কোনো কুরিয়ারই লিখিতভাবে বলেনি যে জমানো খাবার ঠান্ডা রেখে পৌঁছে দেবে। কুরিয়ারের হাবে পার্সেল কয়েক ঘণ্টা বা এক রাত পড়ে থাকা খুব সাধারণ ঘটনা, আর সেখানে কোনো ফ্রিজার নেই।
তাই ফ্রোজেন খাবার পাঠান নিজের শহরে, নিজের লোক দিয়ে। রাইডারের সাথে দিন একটা ইনসুলেটেড বক্স, যেমন ককশিটের বক্স বা ঠান্ডা রাখার ব্যাগ, ভেতরে কয়েকটা জমানো আইস প্যাক। বক্স খোলার সময় কম রাখতে রুটের অর্ডারগুলো ছোট ছোট ব্যাগে আলাদা করে সাজিয়ে দিন, যাতে প্রতি বাসায় একবার খুলে একটা ব্যাগ বের করলেই হয়। রাইডার সকালে বের হওয়ার আগে কাস্টমারদের একটা ফোন বা মেসেজ দিন। নইলে দরজায় গিয়ে রাইডার শুনবেন, "ভাই, বাসায় কেউ নেই, সন্ধ্যায় আসেন", আর সেই প্যাকেট দুপুরের গরমে বক্সের ভেতর ছয় ঘণ্টা ঘুরবে।

ঢাকার বাইরে বা অন্য শহরে পাঠানোর চাপ আসবেই। বরফসহ ককশিটের বক্সে মাছ পাঠানোর মতো করে কেউ কেউ চেষ্টা করেন, কিন্তু সেখানেও কুরিয়ারের লিখিত সম্মতি লাগে, আর ঝুঁকি আপনার। মাছ-মিষ্টির মতো পচনশীল জিনিস কোন কুরিয়ার কোন শর্তে নেয়, আর কত ঘণ্টা ঠান্ডা থাকে কীভাবে মাপবেন, সেটা আছে পচনশীল খাবার কুরিয়ারের লেখায়। নিজের রাইডার রাখা কখন লাভ, তার হিসাব আছে নিজের ডেলিভারি ম্যানের লেখায়।
২০ পিসের প্যাকের দাম, বিদ্যুৎসহ (উদাহরণ)
ফ্রোজেনের দাম ঠিক করতে গিয়ে প্রায় সবাই দুটো খরচ ভুলে যান। ফ্রিজারের বিদ্যুৎ, আর মাঝে মাঝে নষ্ট হয়ে যাওয়া লট। দুটোই ছোট শোনায়, কিন্তু মাসের শেষে লাভের বড় অংশ এখানেই যায়।
উদাহরণ। সব দাম কল্পনার, নিজের এলাকার দাম বসিয়ে আবার করুন। ধরুন ২০ পিস পরোটার একটা প্যাক বেচবেন ৩৮০ টাকায়, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার আলাদা দেন। ফ্রিজার মাসে ৯০০ টাকার বিদ্যুৎ খায় আর মাসে ১৫০ প্যাক বেচেন, তাহলে প্রতি প্যাকে বিদ্যুৎ ৯০০ ÷ ১৫০ = ৬ টাকা।
| খরচের খাত | টাকা |
|---|---|
| উপকরণ (ময়দা, তেল, লবণ) | ১৫০ |
| গ্যাস | ১৫ |
| বাটার পেপার আর প্যাকেট | ২৫ |
| লেবেল | ৪ |
| ফ্রিজারের বিদ্যুৎ | ৬ |
| আইস প্যাক আর বক্সের ক্ষয় | ৫ |
| গলে যাওয়া বা নষ্ট লটের ভাগ | ১০ |
| অ্যাড, প্রতি অর্ডারে | ৫০ |
| মোট খরচ | ২৬৫ |
প্রতি প্যাকে হাতে থাকে ৩৮০ − ২৬৫ = ১১৫ টাকা। বিশটা পরোটা বেলা, সেঁকা আর প্যাক করতে মোটামুটি এক ঘণ্টা গেলে আপনার ঘণ্টার আয় ১১৫ টাকা। এখন দেখুন দুটো জিনিস কীভাবে এটা বদলায়। কাস্টমার একসাথে দুই প্যাক নিলে অ্যাডের ৫০ টাকা দুই ভাগ হয়, প্রতি প্যাকে থাকে ১৪০ টাকা। আর পুরনো কাস্টমার নিজে থেকে আবার নিলে অ্যাড লাগে না, প্রতি প্যাকে থাকে ১৬৫ টাকা।

এই ব্যবসার লাভ তাই আসে নিয়মিত কাস্টমার থেকে, যিনি প্রতি সপ্তাহে দুই প্যাক নেন। আর নষ্ট লটের ১০ টাকার ঘরটা ছোট রাখার একটাই উপায়, অর্ডার যতটা, প্রায় ততটাই বানানো, ফ্রিজারে মাসের পর মাস স্টক জমিয়ে না রাখা।
সপ্তাহে দুই দিনের রুট আর রিপিট কাস্টমার
প্রতিদিন যেকোনো এলাকায় ডেলিভারি দিতে গেলে রাইডারের খরচ আর বক্সের ঠান্ডা, দুটোই হাতছাড়া হয়। তার বদলে সপ্তাহে দুই দিন ঠিক করুন, আর শহরটাকে দুই ভাগে। ধরুন মঙ্গলবার উত্তরের এলাকাগুলো, শুক্রবার দক্ষিণের। আগের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত অর্ডার নিন, রাতে প্যাক করে ফ্রিজারে রাখুন, সকালে রুট ধরে বের হন। এক রুটে পনেরোটা বাসা থাকলে রাইডারের দিনের খরচ পনেরো ভাগে ভাগ হয়, আর কাস্টমারের দেওয়া ডেলিভারি চার্জেই সাধারণত সেটা উঠে যায়।
রুটের দিন আগে থেকে জানা থাকলে কাস্টমারও অভ্যস্ত হয়ে যান। "প্রতি মঙ্গলবার সকালে পরোটা আসে", এই অভ্যাসটাই আপনার রিপিট সেল। অগ্রিমের নিয়মটাও এখানে সহজ হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পুরো টাকা অগ্রিম নেওয়া যায় তখনই, যখন টাকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মাল ডেলিভারি ম্যানের হাতে যায়। রুটের আগের দিন অর্ডার নিলে সেটা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পড়ে।
কাকে কবে ফোন দেবেন আর কী বলবেন, পুরো স্ক্রিপ্টসহ আছে পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায়।
রুট ধরে অর্ডার নেওয়ার কাজটা WinningSeller-এ এভাবে সাজানো যায়। সেটিংসের "ডেলিভারি চার্জ" অংশে শুধু যে এলাকাগুলোতে আপনার রাইডার যান সেগুলোর নাম আর চার্জ লিখুন, যেমন "মিরপুর-পল্লবী (মঙ্গলবার)" আর "ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর (শুক্রবার)"। কাস্টমার অর্ডারের সময় এর একটা বাছেন। অন্য শহরের কেউ তালিকায় নিজের এলাকা না পেয়ে শুরুতেই বোঝেন যে আপনি সেখানে যান না, ফলে ভুল জায়গার অর্ডার অনেক কমে। ফোনে আসা অর্ডার "নতুন অর্ডার" দিয়ে তুলে রাখা যায়। আর "রিপিট সেল" মেনুর "অটো ফলোআপ"-এ "আবার লাগবে? মনে করিয়ে দিন" টিকটা নিজের SMS অ্যাকাউন্ট জুড়ে চালু করে নিলে ডেলিভারির নির্দিষ্ট দিন পরে একটা SMS নিজে থেকে যায়। দিনটা আপনি বদলাতে পারেন, তবে পুরো দোকানের জন্য একটাই, তাই আপনার কাস্টমারদের ২০ পিস সাধারণত যতদিনে ফুরায়, যেমন ছয়-সাত দিন, তার এক-দুই দিন আগে দিন। SMS-এর খরচ যায় আপনার নিজের SMS ব্যালেন্স থেকে। অন্য কোন কাজ কোন স্ক্রিনে হয়, ফিচারের লিস্টে পাবেন।
কখন এই ব্যবসা করবেন না
যদি এলাকায় দিনে কয়েক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয় আর IPS বা জেনারেটরের লাইন না থাকে, তাহলে এখন না। একটা লম্বা রাতের লোডশেডিং পুরো সপ্তাহের স্টক নষ্ট করতে পারে, আর সেই লোকসান কয়েক সপ্তাহের লাভ খেয়ে ফেলে।
যদি পরিকল্পনা হয় সারা দেশে কুরিয়ারে পাঠানো, তাহলেও না, অন্তত এই খাবার দিয়ে না। ওপরের কুরিয়ারগুলোর নিয়ম পড়লেই বোঝা যায় কেন। আর যদি বাসার রান্নাঘর পরিবারের সাথে ভাগ করা হয় আর একটা আলাদা ফ্রিজার রাখার জায়গা না থাকে, তাহলে মাছ-মাংসের পাশে কাস্টমারের পরোটা রাখতে হবে, যেটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে ঠিক না। শুরুর দুই মাস তাই একটা রুটই যথেষ্ট। নিজের পাড়া আর পরিচিতদের কাছে সপ্তাহে একদিন বেচে গুনে দেখুন, কয়জন পরের সপ্তাহে নিজে থেকে আবার চাইলেন। এই সংখ্যাটাই বলবে দ্বিতীয় রুট খোলার সময় হয়েছে কি না।
আজই করে ফেলুন
- যে দুইটা আইটেম দিয়ে শুরু করবেন, সেগুলোর রেসিপি গ্রামে লিখে খাতায় তুলুন।
- ফ্রিজারের ভেতরে রাখার জন্য একটা থার্মোমিটার কিনুন, আর আজ রাত থেকে লোডশেডিংয়ের খাতা শুরু করুন।
- এক প্যাক সমুচা ট্রেতে আলাদা করে জমিয়ে, আরেক প্যাক সরাসরি প্যাকেটে জমিয়ে পাশাপাশি তুলনা করুন।
- ওপরের টেবিলে নিজের উপকরণ, বিদ্যুৎ আর অ্যাডের খরচ বসিয়ে ২০ পিসের দাম আবার হিসাব করুন।
- শহরের দুইটা এলাকা বেছে নিয়ে সপ্তাহের দুইটা রুটের দিন ঠিক করুন।
- লেবেলে রাখার তাপমাত্রা আর রান্নার নিয়মের দুই লাইন লিখে একটা নমুনা প্রিন্ট করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
ফ্রোজেন ফুডের ব্যবসা কি ঘরে বসে করা যায়?
যায়, যদি একটা আলাদা ডিপ ফ্রিজার, লোডশেডিংয়ে ঠান্ডা ধরে রাখার পরিকল্পনা আর নিজের শহরে ডেলিভারির ব্যবস্থা থাকে। কাগজের দিকে লাগবে খাবারের ধরনে ট্রেড লাইসেন্স আর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের রেজিস্ট্রেশনের খোঁজ। শুরু করুন দুই-তিনটা আইটেম দিয়ে।
ফ্রোজেন ফুড আইটেম কি কি বেচা যায়?
ঘরে বানিয়ে সবচেয়ে বেশি বেচা হয় পরোটা, সমুচা, সিঙারা, স্প্রিং রোল, চিকেন রোল, পুরি আর শামি কাবাব। যেগুলো কাস্টমার শুধু ভেজে বা সেঁকে খাবেন, সেগুলো সহজ। কাঁচা মাংসের মেরিনেট করা আইটেমে ঠান্ডার নিয়ম আরও কড়া, তাই সেগুলো পরে ধরুন।
ফ্রোজেন খাবার কি কুরিয়ারে পাঠানো যায়?
১২ অক্টোবর ২০২৬-এ Pathao, Paperfly আর eCourier-এর নিজেদের পেজে পচনশীল খাবার না নেওয়ার কথা লেখা আছে, আর Pathao ঠান্ডায় রাখতে হয় এমন খাবারের কথাও আলাদা করে লিখেছে। Steadfast-এর টার্মসে এ নিয়ে আলাদা লাইন নেই। তাই ফ্রোজেন খাবার নিজের শহরে নিজের লোক দিয়ে পাঠানোই নিরাপদ।
ফ্রিজারে কত তাপমাত্রায় রাখতে হয়?
যুক্তরাষ্ট্রের FDA-র পেজে ফ্রিজার ০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, মানে মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখার কথা লেখা আছে। ফ্রিজারের ভেতরে একটা আলাদা থার্মোমিটার রাখুন, কারণ নবের দাগ আর ভেতরের আসল ঠান্ডা সবসময় এক হয় না।
ফ্রোজেন পরোটা বেচতে কি BSTI লাগে?
১২ অক্টোবর ২০২৬-এ BSTI-র বাধ্যতামূলক লিস্টে Roti (Flat bread/Tortilla) নামে একটা লাইন আছে। ফ্রোজেন পরোটা এর মধ্যে পড়ে কি না, BSTI-র ওয়ান স্টপ সার্ভিসে জিজ্ঞেস করে নিন। নিজে ধরে নেবেন না।
গলে যাওয়া প্যাকেট কি আবার ফ্রিজারে রাখা যায়?
FDA-র পেজ অনুযায়ী খাবারে বরফের দানা থাকলে বা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে আবার জমানো বা রান্না করা নিরাপদ, তবে মান কমে। বেচার বেলায় নিয়মটা কড়া রাখুন। কাস্টমারের কাছ থেকে ফেরত আসা বা পথে গলে যাওয়া প্যাকেট আর বিক্রি করবেন না, কারণ কত সময় কত গরমে ছিল আপনি জানেন না।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


