ফেসবুকে খরচ বাড়ছে? গুগলে বিজ্ঞাপন কিভাবে তৈরি করতে হয়, বাজেটসহ
ফেসবুকে খরচ বাড়ছে, গুগলে বিজ্ঞাপন দিলে কি অর্ডার আসবে? কোন প্রোডাক্টে আসে, বাংলাদেশ থেকে অ্যাকাউন্ট আর পেমেন্ট, প্রথম Search ক্যাম্পেইন, নেগেটিভ কিওয়ার্ড, টাকায় বাজেটের পুরো হিসাব, আর কখন গুগলে টাকা দেবেন না।

এই লেখায় যা আছে
- গুগলের বিজ্ঞাপন আর ফেসবুকের অ্যাডের আসল পার্থক্য
- আপনার প্রোডাক্ট মানুষ গুগলে খোঁজে কি না, দেখবেন যেভাবে
- অ্যাকাউন্ট খোলা আর বাংলাদেশ থেকে পেমেন্ট
- গুগলে বিজ্ঞাপন কিভাবে তৈরি করতে হয়, প্রথম Search ক্যাম্পেইন ধাপে ধাপে
- নেগেটিভ কিওয়ার্ড, যেখানে টাকা সবচেয়ে বেশি যায়
- কত বাজেট, কত দিন (উদাহরণ)
- অর্ডার মাপা, কনভার্শন আর ডেলিভারি
- কখন গুগলে টাকা দেবেন না
- আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ
গুগলে বিজ্ঞাপন কিভাবে তৈরি করতে হয়, সেটা ছোট করে বললে এমন। ads.google.com-এ নিজের Gmail দিয়ে একটা Google Ads অ্যাকাউন্ট খুলুন, ডলার কার্ড যোগ করুন, তারপর একটা Search ক্যাম্পেইন বানিয়ে তাতে দশটার মতো কিওয়ার্ড, অ্যাডের কয়েকটা লেখা আর আপনার প্রোডাক্ট পেজের লিংক দিন। এখানে কথা হচ্ছে টাকা দিয়ে নিজের দোকানের অ্যাড কেনার, AdSense দিয়ে আয় করার না। অর্ডার আসবে কি না, সেটা মূলত একটা প্রশ্নে আটকে আছে। মানুষ আপনার প্রোডাক্টের নাম লিখে গুগলে খোঁজে কি না। খুঁজলে গুগলের অ্যাড অনেক সময় ফেসবুকের চেয়ে পরিষ্কার অর্ডার আনে। না খুঁজলে টাকাটা ফেসবুকেই রাখুন।
ধরুন রাত এগারোটায় Ads Manager খুলে দেখলেন, গত মাসে যে অর্ডার ২০০ টাকায় আসত, এখন আসছে ৩৫০ টাকায়। মনটা খারাপ হয়ে গেল। কমেন্টে কেউ একজন লিখেছেন, "ভাই, গুগলে অ্যাড দেন, ওখানে কাস্টমার নিজে খুঁজে আসে।" কথাটা অর্ধেক সত্যি। বাকি অর্ধেকটা নিচে খুলে বলছি, যাতে টাকা দেওয়ার আগেই বোঝেন এটা আপনার দোকানের জন্য কাজের কি না।
গুগলের বিজ্ঞাপন আর ফেসবুকের অ্যাডের আসল পার্থক্য
ফেসবুকে মানুষ কিছু কিনতে আসেন না। তাঁরা রিল দেখছেন, বন্ধুর ছবিতে লাইক দিচ্ছেন, আর তার মাঝে আপনার অ্যাড এসে বলে, "এটা দেখুন।" মানে আপনি চাহিদাটা জাগিয়ে তুলছেন। গুগলে উল্টো। মানুষ নিজে টাইপ করেছেন "খাঁটি খেজুরের গুড় অনলাইন", মানে চাহিদাটা আগে থেকেই তাঁর মাথায় আছে। আপনার অ্যাড শুধু সেই খোঁজার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। Search অ্যাডে টাকা কাটে মূলত ক্লিক হলে, দেখালেই না।
এই পার্থক্যটা অর্ডারের ধরনেও দেখা যায়। গুগল থেকে আসা কাস্টমার অনেক সময় তিন-চারটা দোকানের পেজ পাশাপাশি খুলে দাম আর ডেলিভারির সময় মেলান। তাই তাঁরা ফোনে প্রশ্ন করেন বেশি, "ভাই, গুড়টা কোন জেলার? কবে পাব?" আবার যিনি নিজে খুঁজে অর্ডার দিয়েছেন, তিনি সাধারণত হঠাৎ মত বদলে পার্সেল ফেরত দেন কম।

কিন্তু গুগলের একটা বড় সীমাও আছে। যে জিনিস কেউ খোঁজেন না, সেটা গুগলে বেচা যায় না। নতুন ধরনের একটা কিচেন গ্যাজেটের নামই কেউ জানেন না, খুঁজবেন কীভাবে? এমন প্রোডাক্টে ফেসবুক আর টিকটকই ভরসা।
আপনার প্রোডাক্ট মানুষ গুগলে খোঁজে কি না, দেখবেন যেভাবে
টাকা দেওয়ার আগে এই কাজটা ফ্রিতে করে নিন। ফোনে গুগল খুলুন, আর আপনার প্রোডাক্টের নাম টাইপ করা শুরু করুন, কিন্তু এন্টার চাপবেন না। নিচে যে পরামর্শগুলো আসে, যেমন "খেজুরের গুড় কোথায় পাওয়া যায়", "খেজুরের গুড় অনলাইন অর্ডার", এগুলো মানুষ সত্যিই লিখেছেন বলেই আসছে। "অর্ডার", "কোথায় পাবো", "দাম", "হোম ডেলিভারি" ধরনের কথা এলে বুঝবেন কেনার লোক আছে। শুধু "রেসিপি", "উপকারিতা", "কিভাবে বানায়" এলে বুঝবেন মানুষ জানতে চান, কিনতে না।
এরপর এন্টার চেপে দেখুন ওপরে Sponsored লেখা অ্যাড আছে কি না। অন্য দোকান অ্যাড দিচ্ছে মানে সম্ভবত এই খোঁজা থেকে বিক্রি হয়। কেউ না দিলে সুযোগও হতে পারে, আবার অন্যরা চেষ্টা করে হেরেও যেতে পারেন।
প্রথম সপ্তাহে প্রায় সবাই একটা ভুল করেন। নিজে যেভাবে বানান করেন, শুধু সেভাবেই খোঁজেন। অথচ বাংলাদেশে একই জিনিস তিনভাবে লেখা হয়। বাংলায় "খেজুরের গুড়", বাংলিশে "khejur gur" বা "khejurer gur", আর ইংরেজিতে "date palm jaggery"। রংপুরের একজন হয়তো "পাটালি গুড়" লেখেন, আরেকজন "নলেন গুড়"। তিনভাবেই টাইপ করে দেখুন, আর যেগুলোতে কেনার কথা আসে সেগুলো একটা কাগজে লিখে রাখুন। এই কাগজটাই পরে আপনার কিওয়ার্ডের লিস্ট হবে।

অ্যাকাউন্ট খোলার পরে Google-এর Keyword Planner-এ প্রতিটা কথা মাসে মোটামুটি কতবার খোঁজা হয় আর ক্লিকের দাম কত হতে পারে, তার আন্দাজ পাবেন। Google Ads Help-এর "Use Keyword Planner" পেজে (২০২৬ সালের অক্টোবরে দেখা) লেখা আছে, বিলিংয়ের তথ্য দিয়ে সেটআপ শেষ না করলে নতুন কিওয়ার্ড খোঁজার অংশটা খোলে না। বাংলায় লেখা খোঁজার পাশে অনেক সময় খুব কম সংখ্যা আসে, তাই ফোনের টেস্টটা বাদ দেবেন না। ফ্রি ট্রাফিকের জন্য খোঁজার কথা বের করার কাজ অনলাইন শপের এসইও লেখায় আছে, এখানে শুধু টাকা দিয়ে কেনা অ্যাডের কথা।
অ্যাকাউন্ট খোলা আর বাংলাদেশ থেকে পেমেন্ট
অ্যাকাউন্টটা খুলবেন নিজের দোকানের Gmail দিয়ে, কোনো এজেন্সি বা ফ্রিল্যান্সারের Gmail দিয়ে না। গুগলে নামার আগে নতুন সেলারদের আমি সবসময় আগে এই কথাটাই বলি। প্রায়ই যা হয়, কেউ একজন "ভাই, আমি সেট করে দিচ্ছি" বলে নিজের Gmail-এ অ্যাকাউন্ট খোলেন। ছয় মাস পরে সম্পর্ক খারাপ হলে অ্যাকাউন্ট আর সব রিপোর্ট তাঁর কাছেই থেকে যায়। অ্যাকাউন্ট নিজের রাখুন, তাঁকে আলাদা ইউজার হিসেবে অ্যাক্সেস দিন।
খোলার সময় দুটো জিনিস মন দিয়ে সিলেক্ট করবেন, টাইম জোন আর কারেন্সি। Google Ads Help-এর "About your language, number format, time zone, and currency settings" পেজে (২০২৬ সালের অক্টোবরে দেখা) পরিষ্কার লেখা আছে, এই দুটো অ্যাকাউন্ট খোলার সময় একবারই ঠিক হয়, পরে আর বদলানো যায় না। ভুল করলে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, আর পুরনো ইতিহাস সাথে যায় না। টাইম জোন দিন ঢাকার। নইলে রিপোর্টে রাত দশটার ক্লিক দেখাবে সকালে, আর কোন সময়ে অর্ডার আসে সেটা কখনো মেলাতে পারবেন না।
পেমেন্টের ব্যাপারে Google-এর "About payment methods" পেজ বলে, কোন পেমেন্ট চলবে সেটা দেশ, কারেন্সি আর পেমেন্ট সেটিং অনুযায়ী আলাদা, আর নিজের দেশেরটা দেখতে Google-এর payments info finder টুলে দেশ সিলেক্ট করতে বলে। বাস্তবে বাংলাদেশের বেশিরভাগ সেলার ইন্টারন্যাশনাল লেনদেন চালু থাকা ডলার কার্ড বা ডুয়েল কারেন্সি কার্ড দিয়ে দেন, ডলারে। প্রথম বিলটা অনেক সময় ফেল করে, কারণ কার্ডে বিদেশি লেনদেন বন্ধ থাকে। কার্ড করানো, বছরের ডলারের সীমা আর বিল আটকানোর কারণ ডুয়েল কারেন্সি কার্ডের লেখায় সোর্সসহ আছে।
আরেকটা খরচ অনেকে প্রথম মাসের বিল দেখে টের পান। Google Ads Help-এর "Taxes in your country" পেজে (২০২৬ সালের অক্টোবরে দেখা) লেখা আছে, ১ জুন ২০২১ থেকে বাংলাদেশের বিলিং অ্যাড্রেসের যেসব অ্যাকাউন্টে ১৩ অঙ্কের BIN দেওয়া নেই, তাদের বিলে ১৫% ভ্যাট যোগ হয়। মানে ১০০ ডলারের অ্যাডে কার্ড থেকে কাটবে ১১৫ ডলার। BIN দিলে আপনার নিজের ভ্যাটের দায় কী হয়, সেটা Google বলে না, একজন ট্যাক্স প্র্যাকটিশনারের কাছে জেনে নিন।
গুগলে বিজ্ঞাপন কিভাবে তৈরি করতে হয়, প্রথম Search ক্যাম্পেইন ধাপে ধাপে
নতুন অ্যাকাউন্টে Google অনেক সময় প্রায় পুরোটাই অটোমেটিক একটা ক্যাম্পেইনের দিকে নিয়ে যায়, যেখানে অ্যাড কোন খোঁজায় দেখাবে তার ওপর হাত থাকে কম। প্রথম ক্যাম্পেইনের ধরন হিসেবে Search বেছে নিন।
এরপর Networks অংশে দুটো টিক দেখবেন। Google Ads Help অনুযায়ী Search ক্যাম্পেইনে Google search partners শুরুতে টিক দেওয়া থাকে, আর পাশে Display Network-এর আরেকটা ঘর থাকে। প্রথম দুই সপ্তাহের জন্য দুটোরই টিক তুলে দিন, যাতে অ্যাড শুধু গুগলের নিজের সার্চে দেখায়। নইলে বাজেটের একটা অংশ চলে যায় অন্য সাইট আর অ্যাপে, যেখানে কেউ গুড় খুঁজছিলেন না। লোকেশন দিন বাংলাদেশ, বা যদি শুধু ঢাকায় ডেলিভারি দেন, তাহলে শুধু ঢাকা। ভাষায় বাংলা আর ইংরেজি দুটোই রাখুন।
এবার কিওয়ার্ড। আগের কাগজ থেকে কেনার খোঁজের দশটা বাছুন, আর Match type বুঝে নিন। Google Ads Help-এর keyword match types পেজে লেখা আছে, কোনো চিহ্ন ছাড়া কিওয়ার্ড লিখলে সেটা broad match, আর এটাই সব কিওয়ার্ডের ডিফল্ট। এতে Google "সম্পর্কিত" অনেক খোঁজাতেও অ্যাড দেখায়। কোটেশন চিহ্নের ভেতরে লিখলে phrase match, মানে খোঁজার মধ্যে আপনার কথার মানেটা থাকতে হবে। আর থার্ড ব্র্যাকেটের ভেতরে লিখলে exact match, মানে খোঁজার মানে আর উদ্দেশ্য আপনার কথার মতোই হতে হবে। শুরুতে phrase আর exact দিয়েই চালান।
একটা ছোট গুড়ের দোকানের প্রথম দশটা কিওয়ার্ড দেখতে মোটামুটি এমন হতে পারে।
| কিওয়ার্ড যেভাবে লিখবেন | Match type | কেন রাখলেন |
|---|---|---|
| "খেজুরের গুড় অনলাইন" | Phrase | অনলাইনে কিনতে চান |
| [খেজুরের গুড় অর্ডার] | Exact | সরাসরি অর্ডারের খোঁজ |
| "খাঁটি খেজুরের গুড়" | Phrase | ভেজাল নিয়ে চিন্তিত কাস্টমার |
| "পাটালি গুড় কোথায় পাওয়া যায়" | Phrase | কোথা থেকে কিনবেন খুঁজছেন |
| "নলেন গুড়" | Phrase | আরেক নামে খোঁজা |
| "khejur gur" | Phrase | বাংলিশে খোঁজা |
| "khejurer gur price" | Phrase | দাম দেখে কিনবেন |
| "date palm jaggery" | Phrase | ইংরেজিতে খোঁজা |
| [ঝোলা গুড় হোম ডেলিভারি] | Exact | ডেলিভারি চান |
| "খেজুরের গুড়ের দাম" | Phrase | দাম জেনে কিনবেন |

এরপর অ্যাডের লেখা। এখনকার Search অ্যাড হলো responsive search ad। Google Ads Help অনুযায়ী এতে কমপক্ষে ৩টা আর সর্বোচ্চ ১৫টা হেডলাইন দেওয়া যায়, প্রতিটা ৩০ অক্ষর পর্যন্ত, আর ২ থেকে ৪টা ডেসক্রিপশন, প্রতিটা ৯০ অক্ষর পর্যন্ত। বাংলায় যুক্তাক্ষর থাকলে ৩০ অক্ষর তাড়াতাড়ি ফুরায়, তাই বক্সের পাশে Google-এর গোনাটাই মানবেন। হেডলাইনে রাখুন প্রোডাক্টের নাম, কোন জেলার, ডেলিভারির কথা আর ক্যাশ অন ডেলিভারি।
সবচেয়ে জরুরি নিয়ম হলো অ্যাডে যা বলবেন, পেজে ঠিক সেটাই থাকতে হবে। অ্যাডে "সারা দেশে ক্যাশ অন ডেলিভারি" লিখে পেজে "অগ্রিম ছাড়া অর্ডার নেওয়া হয় না" রাখলে কাস্টমার ক্লিক করে, টাকা কাটে, আর তিনি দুই সেকেন্ডে চলে যান। লিংক দেবেন সরাসরি প্রোডাক্ট পেজে বা ল্যান্ডিং পেজে, হোমপেজে না, আর ফেসবুক পেজে তো না-ই, কারণ সেখানে Google-এর ট্যাগ বসানো যায় না। পেজে দাম, ডেলিভারি চার্জ, কত দিনে পৌঁছাবে আর অর্ডার ফর্ম, এই কয়টা জিনিস ক্লিক করার পরেই চোখে পড়তে হবে।
বিড নিয়ে শুরুতে বেশি মাথা ঘামাবেন না। প্রথম দুই সপ্তাহ Maximize clicks-এ একটা সর্বোচ্চ ক্লিক খরচের সীমা দিয়ে চালান, কারণ তখনো এমন কোনো কনভার্শন নেই যা থেকে Google শিখবে। আমার অভিজ্ঞতায় শুরুতে বিড নিয়ে কাটাছেঁড়ার চেয়ে Search terms রিপোর্টে সময় দিলে টাকা অনেক বেশি বাঁচে।
ক্যাম্পেইন চালু করার পরে প্রায় সব নতুন সেলার একই কাজ করেন। একটু পরপর নিজের ফোনে "খেজুরের গুড় অনলাইন" লিখে দেখেন অ্যাড আসছে কি না। এটা করবেন না। Google Ads Help বলে, নিজের অ্যাড বারবার খুঁজে ক্লিক না করলে Google ধরে নিতে পারে আপনি আগ্রহী না, তখন আপনার ফোনে অ্যাডটা আসা কমে যায়। দেখতে চাইলে Tools-এ Ad Preview and Diagnosis খুলুন, সেখানে খুঁজলে খরচ হয় না। নতুন অ্যাড প্রথমে রিভিউতে থাকে, তাই প্রথম কয়েক ঘণ্টা না দেখলে ঘাবড়াবেন না, Ads পেজে স্ট্যাটাস দেখে নিন।
নেগেটিভ কিওয়ার্ড, যেখানে টাকা সবচেয়ে বেশি যায়
নতুন সেলারের গুগলের টাকা সবচেয়ে বেশি হারায় এই জায়গায়। আপনি দিলেন "খেজুরের গুড়", broad match-এ। এক সপ্তাহ পরে দেখলেন ক্লিক এসেছে "খেজুরের গুড় তৈরির পদ্ধতি", "খেজুরের গুড়ের পায়েস রেসিপি", "khejur gur price in india", "গুড় ফ্যাক্টরিতে চাকরি" আর "খেজুরের গুড়ের উপকারিতা pdf" খোঁজা থেকে। এঁদের কেউ গুড় কিনতে আসেননি। অথচ প্রতিটা ক্লিকের টাকা আপনার কার্ড থেকে গেছে।
এই খোঁজাগুলো দেখার জায়গা হলো Search terms রিপোর্ট। Google Ads Help অনুযায়ী এটা পাবেন Campaigns মেনুর Insights and reports-এ, Search terms নামে। এখানে দেখায় মানুষ আসলে কী লিখে খুঁজেছিলেন। প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন সকালে চা খেতে খেতে এই রিপোর্টটা খুলুন। যে খোঁজা আপনার কাস্টমারের না, তার পাশের ঘরে টিক দিয়ে সেটা নেগেটিভ কিওয়ার্ড হিসেবে যোগ করুন। খুব কম লোকের খোঁজা প্রাইভেসির কারণে রিপোর্টে আসে না, তাই যোগফল পুরো খরচের সাথে নাও মিলতে পারে।

নেগেটিভ কিওয়ার্ডের একটা ফাঁদ আছে। Google Ads Help-এর "About negative keywords" পেজে (২০২৬ সালের অক্টোবরে দেখা) লেখা আছে, সাধারণ কিওয়ার্ড যেমন কাছাকাছি রূপের খোঁজাতেও অ্যাড দেখায়, নেগেটিভ কিওয়ার্ড তেমন ছড়ায় না। প্রতিশব্দ আর একবচন-বহুবচন আলাদা করে যোগ করতে হয়, শুধু ছোটখাটো বানান ভুল আর বড়-ছোট হাতের অক্ষর Google নিজে ধরে। বাংলাদেশের সেলারের জন্য এর মানে হলো "রেসিপি" নেগেটিভ দিলেই হবে না, ইংরেজির "recipe"-ও আলাদা দিতে হবে, কারণ একই কথা দুই ভাষায় দুইটা আলাদা কিওয়ার্ড। "চাকরি"-র সাথে "job", "ইন্ডিয়া"-র সাথে "india"।
শুরুর জন্য একটা নেগেটিভ লিস্ট মোটামুটি এমন হতে পারে। ফ্রি, free, রেসিপি, recipe, তৈরি, বানানোর নিয়ম, উপকারিতা, pdf, চাকরি, job, india, kolkata, wikipedia। কিন্তু "দাম" বা "price" চোখ বন্ধ করে নেগেটিভ দেবেন না। যিনি "খেজুরের গুড়ের দাম" লিখে খোঁজেন, তিনি প্রায়ই কেনার লোক, যিনি "price in india" লেখেন তিনি না। পার্থক্যটা ধরবেন রিপোর্ট পড়ে, আন্দাজে না।
কত বাজেট, কত দিন (উদাহরণ)
Google Ads-এ বাজেট দেন দিনের হিসাবে, ডলারে। Google Ads Help-এর average daily budget পেজে লেখা আছে, কোনো দিন খরচ দিনের বাজেটের দ্বিগুণ পর্যন্ত যেতে পারে, যদিও মাস শেষে মোট খরচ দিনের বাজেটের ৩০.৪ গুণের বেশি হয় না। তাই এক দিনে ৪ ডলারের জায়গায় ৮ ডলার কাটতে দেখলে ভয় পাবেন না।
এবার পুরো হিসাবটা টাকায় করি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না, আর ক্লিকের দামও একটা ধরে নেওয়া অঙ্ক। নিজের দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
উদাহরণ। ধরুন আপনি এক কেজি পাটালি গুড় ৭৫০ টাকায় বেচেন, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার দেন। গুড় কিনতে পড়ে ৪০০ টাকা, প্যাকেট আর মাটির হাঁড়িতে ৪০ টাকা। মানে একটা পার্সেল ডেলিভারি হলে অ্যাড বাদে আপনার থাকে ৩১০ টাকা। আর একটা পার্সেল ফেরত এলে কুরিয়ারের চার্জ আর নষ্ট প্যাকেট মিলে যায় ১৩০ টাকা।
ক্যাম্পেইন চালালেন দিনে ৪ ডলার করে ১৪ দিন, মানে ৫৬ ডলার। কার্ডে ধরুন ডলার কাটল ১২৫ টাকা রেটে, তাতে হয় ৭,০০০ টাকা। BIN দেওয়া নেই বলে ১৫% ভ্যাট, আরও ১,০৫০ টাকা। আপনার আসল খরচ ৮,০৫০ টাকা। ধরুন গড়ে এক ক্লিকে ০.০৮ ডলার গেল, তাতে ৫৬ ডলারে ৭০০ ক্লিক। ৭০০ জনের ৩% অর্ডার দিলেন, মানে ২১টা অর্ডার। কনফার্ম কলে ৩টা বাতিল হলো, পাঠালেন ১৮টা। ১৫টা ডেলিভারি হলো, ৩টা ফেরত এলো।
এখন হিসাব। ১৫টা ডেলিভারিতে থাকল ১৫ × ৩১০ = ৪,৬৫০ টাকা। ৩টা ফেরতে গেল ৩ × ১৩০ = ৩৯০ টাকা। অ্যাডের আগে হাতে ৪,২৬০ টাকা। অ্যাডের ৮,০৫০ টাকা বাদ দিলে লস ৩,৭৯০ টাকা। ডেলিভারি হওয়া প্রতিটা অর্ডারে অ্যাড খরচ পড়ল ৮,০৫০ ÷ ১৫ = প্রায় ৫৩৭ টাকা, অথচ একটা অর্ডারে লাভই ৩১০ টাকা।
এখানেই অনেকে "গুগলে কাজ হয় না" বলে বন্ধ করেন। ধরুন Search terms রিপোর্ট পড়ে দেখলেন, খরচের ৩০% গেছে রেসিপি, চাকরি আর ইন্ডিয়ার খোঁজায়, যেখান থেকে একটাও অর্ডার আসেনি। ওগুলো নেগেটিভ দিলে একই ১৫টা ডেলিভারি পেতে খরচ হতো ৮,০৫০ × ০.৭ = ৫,৬৩৫ টাকা, অর্ডারপ্রতি প্রায় ৩৭৬ টাকা। তবু ৪,২৬০ − ৫,৬৩৫ = ১,৩৭৫ টাকা লস। মানে শুধু নেগেটিভ দিয়ে এই দোকান লাভে যায় না।
এবার ধরুন একই অর্ডারগুলো আসত দুই কেজির প্যাকে, ১,৪৫০ টাকায়। গুড় ৮০০, প্যাকেট ৫০, তাই একটা ডেলিভারিতে থাকে ৬০০ টাকা। ভারী পার্সেল বলে ফেরতের খরচ ধরুন ১৫০ টাকা। ১৫ × ৬০০ = ৯,০০০ টাকা, ফেরতে ৩ × ১৫০ = ৪৫০ টাকা, অ্যাডে ৫,৬৩৫ টাকা। হাতে থাকে ২,৯১৫ টাকা লাভ।

নিয়মটা তাহলে এই। ভ্যাট আর ডলার রেট ধরে ডেলিভারি হওয়া প্রতিটা অর্ডারের অ্যাড খরচ একটা অর্ডারের লাভের চেয়ে কম হতে হবে। ক্লিক সস্তা হলেও একটা অর্ডারে অনেক ক্লিক লাগে, তাই কম লাভের প্রোডাক্ট এখানে টেকে কম, আর প্যাক বা বড় অর্ডারে সুযোগ বাড়ে। কোন সংখ্যার নিচে লস, সেটা বের করার পুরো অঙ্ক ROAS-এর লেখায় আছে।
কত দিন চালাবেন? অন্তত ১৪ দিন, প্রথম সাত দিন রোজ Search terms দেখে। দুই-তিন দিনের ডেটায় কিছু বোঝা যায় না।
অর্ডার মাপা, কনভার্শন আর ডেলিভারি
Google Ads-এর ড্যাশবোর্ডে "Conversions" ঘরে যে সংখ্যা দেখায়, সেটা আপনার লাভ না। ধন্যবাদ পেজ থেকে কনভার্শন গেলে ভুয়া অর্ডার, ভুল নম্বরের অর্ডার, পরে বাতিল হওয়া অর্ডার, সব সেখানে গোনা হয়। উদাহরণের মতো Google দেখাল ২১টা কনভার্শন, আপনার হাতে টাকা এলো ১৫টার। আর Google শেখেও এই ২১টা থেকে, মানে সে ভুয়া অর্ডার দেওয়া মানুষের মতো আরও মানুষ খুঁজে আনতে পারে।
এর হাত থেকে বাঁচার প্রথম কাজ হলো Google-কে যতটা পারেন আসল অর্ডার জানানো। কনফার্ম বা ডেলিভারির পরে purchase পাঠাতে চাইলে GA4-কে Google Ads-এর সাথে লিংক করে GA4-এর purchase ইমপোর্ট করতে হয়। সেটার পুরো ধাপ গুগল অ্যানালিটিক্সের লেখায় আছে। আর Google যা-ই দেখাক, নিজের খাতায় গুগল থেকে আসা অর্ডার আলাদা করে রাখুন। Google Ads-এ auto-tagging চালু থাকলে অ্যাডের লিংকের শেষে gclid নামে একটা কোড জোড়া হয়, দোকান সেটা ধরে রাখলে বোঝা যায় কোন অর্ডার গুগলের অ্যাডের। সপ্তাহ শেষে কুরিয়ারের প্যানেল মিলিয়ে দেখুন তার কয়টা ডেলিভারি হলো।

আর খরচ লিখবেন কার্ডের স্টেটমেন্ট থেকে, টাকায়, ড্যাশবোর্ড থেকে না। উদাহরণে ড্যাশবোর্ডে ছিল ৫৬ ডলার, অথচ পকেট থেকে গেছে ৮,০৫০ টাকা।
এই হাতের কাজটা WinningSeller-এ অনেকটা নিজে থেকে হয়। "ফেসবুক, TikTok ও Google ট্র্যাকিং" পেজের "Google Analytics 4 + Google Ads + Tag Manager" কার্ডে Google Ads-এর কনভার্শন ID আর Purchase লেবেল বসালে ধন্যবাদ পেজ থেকে কনভার্শন যায়, তবে শুধু "অর্ডার করার সাথে সাথে" টাইমিং বাছলে। কনফার্ম বা ডেলিভারির পরে পাঠানোর জন্য GA4 লিংক করার ধাপ কার্ডেই লেখা। প্রতিটা অর্ডার তার gclid ধরে রাখে। হিসাব-নিকাশ পেজে কার্ডের বিল দেখে অ্যাডের খরচ টাকায় লিখে দিলে রিপোর্টে গুগলের খরচের পাশে গুগল থেকে আসা ডেলিভারি হওয়া অর্ডার, অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ আর লাভ দেখায়। সোজা কথা, WinningSeller আপনার হয়ে গুগলে অ্যাড চালায় না, Google থেকে খরচ নিজে টেনে আনে না, আর Google Shopping-এর ফিড দেয় না।
কখন গুগলে টাকা দেবেন না
সবার জন্য গুগলের অ্যাড না, আর এটা মেনে নিতে পারলেই অনেক টাকা বাঁচে।
ফোনের টেস্টে যদি আপনার প্রোডাক্টের কোনো কেনার খোঁজা না আসে, গুগলে বাজেট দেওয়ার মানে নেই। দেখে হঠাৎ কিনতে ইচ্ছা হয় এমন জিনিস ফেসবুকেই বেচুন। প্রোডাক্টের দাম আর লাভ কম হলেও একই কথা। ২৫০ টাকার কিছুতে যদি ৮০ টাকা থাকে, উদাহরণের মতো অর্ডারপ্রতি ৩৭৬ থেকে ৫৩৭ টাকা অ্যাড খরচ সেটা কোনোভাবেই বইতে পারবে না। কম্বো বা প্যাক বানাতে পারলে তখন গুগলের কথা ভাবুন।
শুধু ফেসবুক পেজ থাকলে গুগলের অ্যাড অন্ধের মতো চলে, কারণ কোন ক্লিক থেকে অর্ডার এলো কেউ জানে না। আগে অর্ডার ফর্মসহ একটা পেজ দাঁড় করান, যেখানে ট্র্যাকিং বসানো যায়। আর হাতের টাকাটাও দেখুন। দুই সপ্তাহের শেখার খরচ গেলে যদি পরের মাসের মাল তোলা আটকে যায়, তাহলে এখন না, আগে ফেসবুক থেকে একটু দম নিন।
শেষ কথাটা অনেকে ভাবেন না। গুগলের কাস্টমার প্রশ্ন নিয়ে ফোন দেন বেশি। দিনের বেলা ফোন ধরার কেউ না থাকলে অনেক অর্ডার কনফার্মের আগেই হারিয়ে যায়, আর সেই ক্লিকের টাকাও।
আর দুটো জিনিস কখনোই না। অন্য কোনো ব্র্যান্ডের নাম বা লোগো নকল করা প্রোডাক্টের অ্যাড, আর ওষুধ বা রোগ সারানোর দাবির অ্যাড। Google Ads policies-এর Counterfeit goods নীতিতে বলা আছে, অন্যের ট্রেডমার্ক বা লোগোর মতো হুবহু বা প্রায় একই চিহ্ন দিয়ে আসল বলে চালানো প্রোডাক্ট নকল হিসেবে ধরা হয়। আর Healthcare and medicines নীতিতে প্রেসক্রিপশনের ওষুধ, অনুমোদনহীন উপাদান আর ওজন কমানোর কিছু প্রোডাক্টে কড়া বাধা আছে। এমন অ্যাডে অ্যাকাউন্টও বিপদে পড়তে পারে, আইনের ঝামেলা তো আলাদা।
এই লেখা শুধু Search অ্যাড নিয়ে। Shopping, YouTube বা Performance Max আলাদা বিষয়। আমার পরামর্শ, প্রথম মাসে ওগুলোতে যাবেন না, আগে শুধু Search দিয়ে হাত পাকান। Google-এর মেনুর নাম মাঝে মাঝে বদলায়, কিছু না মিললে Google Ads Help-এ নামটা লিখে খুঁজুন।
আজই করে ফেলুন, এক ঘণ্টার কাজ
আজ এক টাকাও খরচ না করে যা করতে পারেন, সেটা এই।
- ফোনে গুগল খুলে নিজের প্রধান প্রোডাক্টের নাম বাংলা, বাংলিশ আর ইংরেজিতে টাইপ করুন, আর কেনার কথা আসা পরামর্শগুলো একটা কাগজে লিখুন।
- প্রতিটা খোঁজায় এন্টার চেপে দেখুন ওপরে Sponsored অ্যাড আছে কি না, আর কারা দিচ্ছে।
- কাগজের লিস্টের পাশে একটা নেগেটিভ লিস্ট শুরু করুন, রেসিপি, ফ্রি, চাকরি, india, pdf, প্রতিটার বাংলা আর ইংরেজি বানানসহ।
- নিজের একটা প্রোডাক্টের লাভ বের করুন, ডেলিভারি হলে কত থাকে আর ফেরত এলে কত যায়। ডেলিভারি হওয়া অর্ডারপ্রতি অ্যাড খরচ এর নিচে রাখতে হবে।
- কার্ডে ইন্টারন্যাশনাল লেনদেন চালু আছে কি না ব্যাংকের অ্যাপে দেখে নিন, আর ১৫% ভ্যাটসহ দুই সপ্তাহের বাজেট টাকায় লিখে রাখুন।
এই পাঁচটা কাজ শেষ হলে বুঝবেন গুগলের অ্যাড আপনার দোকানের জন্য কি না। আর কাজের হলে প্রথম ক্লিকের টাকা কাটার আগেই কাগজটা তৈরি থাকবে।
সাধারণ প্রশ্ন
গুগল অ্যাডস কি, সহজ কথায়?
গুগল অ্যাডস হলো Google-এর টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জায়গা। কেউ গুগলে আপনার বেছে দেওয়া কোনো কথা লিখে খুঁজলে সার্চের ফলের ওপরে বা নিচে আপনার অ্যাড দেখায়, আর কেউ ক্লিক করলে তবে টাকা কাটে। এটা AdSense না। AdSense-এ নিজের সাইটে অন্যের অ্যাড দেখিয়ে আয় করা হয়, আর Google Ads-এ নিজের দোকানের অ্যাড কেনা হয়।
গুগলে বিজ্ঞাপন দিতে কত টাকা লাগে?
Google কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক বেঁধে দেয় না, আপনি দিনের বাজেট নিজে ঠিক করেন। তবে Google Ads Help-এ লেখা আছে, কোনো দিন খরচ দিনের বাজেটের দ্বিগুণ পর্যন্ত যেতে পারে, যদিও মাস শেষে মোট খরচ দিনের বাজেটের ৩০.৪ গুণের বেশি হয় না। ছোট শপের জন্য আসল প্রশ্ন হলো দুই সপ্তাহ শেখার খরচ বহন করতে পারবেন কি না, আর সাথে ভ্যাট আর কার্ডের ডলার রেট যোগ হয়।
বাংলাদেশ থেকে Google Ads-এর পেমেন্ট কীভাবে দেব?
বাংলাদেশের সেলাররা সাধারণত ইন্টারন্যাশনাল লেনদেন চালু থাকা ডলার কার্ড বা ডুয়েল কারেন্সি কার্ড দিয়ে দেন। কোন দেশে কোন পেমেন্ট চলে, Google সেটা payments info finder টুলে দেশ বেছে দেখতে বলে। অ্যাকাউন্ট খোলার সময় যে কারেন্সি বাছবেন, Google Ads Help অনুযায়ী সেটা পরে আর বদলানো যায় না, তাই প্রথমবারই দেখে বাছুন।
Google Ads-এর বিলে ভ্যাট কাটে কেন?
Google Ads Help-এর "Taxes in your country" পেজে লেখা আছে, ১ জুন ২০২১ থেকে বাংলাদেশের বিলিং অ্যাড্রেসের যেসব অ্যাকাউন্টে ১৩ অঙ্কের BIN দেওয়া নেই, তাদের বিলে ১৫% ভ্যাট যোগ হয়। তাই অ্যাডের খরচ হিসাব করার সময় এই ১৫% ধরে নিন। BIN দিলে নিজের ভ্যাটের দায় কী দাঁড়ায়, সেটা একজন ট্যাক্স প্র্যাকটিশনারের কাছে জেনে নিন।
ফেসবুক পেজের লিংক দিয়ে কি গুগলে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়?
লিংক বসানো হয়তো যায়, কিন্তু কাজের না। ফেসবুক পেজে আপনি Google-এর কনভার্শন ট্যাগ বসাতে পারবেন না, ফলে কোন ক্লিক থেকে অর্ডার এলো Google জানতে পারে না, আর আপনিও না। গুগলের অ্যাডের জন্য একটা প্রোডাক্ট পেজ বা ল্যান্ডিং পেজ লাগে, যেখানে অর্ডার ফর্ম আছে।
গুগল অ্যাড আর ফেসবুক অ্যাডের মধ্যে কোনটা ভালো?
প্রোডাক্টের ওপর নির্ভর করে। মানুষ যে জিনিস নাম লিখে খোঁজে, যেমন খেজুরের গুড় বা বাচ্চার নির্দিষ্ট মাপের জুতা, সেখানে গুগল ভালো কাজ করে। যে জিনিস দেখে হঠাৎ কিনতে ইচ্ছা হয়, কেউ খোঁজে না, সেখানে ফেসবুকই ভালো। অনেক সেলার ফেসবুক চালু রেখে অল্প বাজেটে গুগল পাশে টেস্ট করেন।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


