জার্সি পাইকারি মার্কেট থেকে কিনবেন, না টিমের জার্সি বানিয়ে দেবেন?
গুলিস্তানের রেডি জার্সি বেচবেন, নাকি এলাকার টিমের জন্য নাম-নম্বরসহ সাবলিমেশন জার্সি বানিয়ে দেবেন? কোথায় কিনবেন, কাপড় চিনবেন কীভাবে, কোন লোগোয় বিপদ, আর ১৫ সেটের একটা অর্ডারে টাকার পুরো হিসাব।

এই লেখায় যা আছে
- রেডি জার্সি না টিমের কাস্টম জার্সি, দুই ব্যবসার পার্থক্য
- জার্সি পাইকারি মার্কেট কোথায়, ঢাকা আর চট্টগ্রাম
- কাপড় চিনবেন যেভাবে, পিপি, মেশ আর মিশ্রণ
- ক্লাব আর দেশের লোগো, কোনটা বেচা ঝুঁকির
- সাবলিমেশন অর্ডার ধাপে ধাপে, ডিজাইন, নাম-নম্বর আর অগ্রিম
- এক টিমের ১৫ সেটে কত লাভ (উদাহরণ)
- কোন মাসে কোন জার্সি চলে
- সাইজ লিস্ট ভুল হলে কী হয়
- আজই করে ফেলুন
জার্সি পাইকারি মার্কেট বলতে ঢাকায় সবার আগে গুলিস্তানের নাম আসে। The Daily Star-এর হিসাবে হকি স্টেডিয়াম মার্কেট, সমবায় টুইন টাওয়ার আর হল মার্কেট ঘিরে ওখানে খেলার জিনিসের কয়েকশো দোকান, আর অন্য জেলার দোকানিরাও ওখান থেকেই জার্সি তোলেন। কিন্তু মার্কেটে যাওয়ার আগে একটা প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে নিন। আপনি কি রেডি জার্সি কিনে বেচবেন, নাকি এলাকার টিমের জন্য নাম-নম্বরসহ সাবলিমেশন জার্সি বানিয়ে দেবেন? দুটো একেবারে আলাদা ব্যবসা। টাকা আটকায় আলাদা জায়গায়, ভুলও হয় আলাদা জায়গায়।
একটা দৃশ্য ভাবুন, পুরোটাই উদাহরণ। শুক্রবার বিকেলে পাড়ার মাঠের পাশের চায়ের দোকানে বসে আছেন। ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন এসে পাশে বসলেন, বললেন, "ভাই, শুনলাম আপনি অনলাইনে জামাকাপড় বেচেন। ডিসেম্বরের টুর্নামেন্টে আমাদের নতুন জার্সি লাগবে, পনেরো সেট, পিঠে নাম-নম্বর। পারবেন?" মুখে "পারব" বলতে এক সেকেন্ড লাগে। কিন্তু ওই পনেরো সেটের পেছনে পনেরোটা মাপ, পনেরোটা নামের বানান আর খেলার একটা নির্দিষ্ট দিন জড়িয়ে আছে। নিচে দুটো ব্যবসাই খুলে দেখাচ্ছি, এমন একটা অর্ডারের টাকার হিসাবসহ।
রেডি জার্সি না টিমের কাস্টম জার্সি, দুই ব্যবসার পার্থক্য
রেডি জার্সির ব্যবসা মানে পাইকারি থেকে তৈরি জার্সি কিনে পেজে বেচা। খেলার মৌসুমে এখানে অর্ডার আসে দ্রুত, কারণ মানুষ জার্সি কেনেন আবেগে, খেলার আগের সপ্তাহে। কিন্তু মাল আগে কিনতে হয়, সাইজ মিলিয়ে কিনতে হয়, আর মৌসুম শেষ হলে বেঁচে যাওয়া মাল নিয়ে বসে থাকতে হয়।
কাস্টম জার্সির ব্যবসা উল্টো। টিম আগে অর্ডার দেয়, তারপর কারখানায় বানানো হয়। স্টকের ঝুঁকি নেই, প্রতিটা অর্ডার বড়, আর একটা টিম খুশি হলে পরের মৌসুমে আবার আসে, পাশের টিমকেও আপনার নম্বর দেয়। ঝুঁকিটা এখানে অন্য জায়গায়। একটা নামের বানান ভুল বা একটা সাইজ ছোট হলে সেই জার্সি আর কারও কাজে লাগে না, কারণ পিঠে তো আরেকজনের নাম ছাপা।
| কোন দিক থেকে | রেডি জার্সি | টিমের কাস্টম জার্সি |
|---|---|---|
| টাকা কোথায় আটকায় | আগে কেনা স্টকে | কারখানার অগ্রিমে, ডেলিভারির দিন পর্যন্ত |
| সবচেয়ে বড় ভুল | ভুল সাইজ আর বেশি মাল তোলা | নাম, নম্বর আর মাপের লিস্টে ভুল |
| অর্ডার কোথা থেকে আসে | অ্যাড আর পেজের পোস্ট | ক্যাপ্টেন, ক্লাব, স্কুল, অফিস, মুখে মুখে |
| মৌসুম শেষে | বেঁচে যাওয়া মাল | কিছু থাকে না, পরের অর্ডারের অপেক্ষা |
প্রথম মাসে প্রায় সব নতুন সেলার যে ভুলটা করেন, তা হলো কাস্টম অর্ডারের দাম বলেন শুধু খেলোয়াড় গুনে। গোলকিপারের জার্সি অন্য রঙের, তাই তার ডিজাইন ফাইল আলাদা হয়, কোনো কারখানায় দামও আলাদা। একটা বাড়তি জার্সি ছাপাতে হয়, আর কারখানায় অন্তত দুবার যেতে হয়। এগুলো না ধরলে লাভটা কাগজে থাকে, পকেটে আসে না।
এই ব্যবসা কার জন্য না
খেলাধুলার মানুষের সাথে যার ওঠাবসা নেই, তার জন্য কাস্টম জার্সি কঠিন। এই অর্ডার আসে চেনাজানা থেকে, ক্যাপ্টেনের ফোনে আর মাঠের আড্ডায়। আর যার হাতে কারখানার অগ্রিম দেওয়ার মতো কয়েক হাজার টাকা নেই, সে টিমের অর্ডার নিলে বিপদে পড়বে, কারণ টিমের কাছ থেকে বেশি অগ্রিম নেওয়ার উপায় নেই (নিচে বলছি কেন)। সেরকম হলে আগে অল্প কিছু রেডি জার্সি দিয়ে শুরু করুন, আর দুই-একটা চেনা টিমের ছোট অর্ডার নিয়ে হাত পাকান। নতুনদের আমি সবসময় এই সিরিয়ালটাই ধরতে বলি।
জার্সি পাইকারি মার্কেট কোথায়, ঢাকা আর চট্টগ্রাম
ঢাকায় রেডি জার্সির মূল জায়গা গুলিস্তান। The Daily Star ২১ নভেম্বর ২০২২-এ লিখেছিল, মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেট, সমবায় টুইন টাওয়ার, হল মার্কেট আর বঙ্গবাজার মিলিয়ে ওই এলাকায় ৩০০ থেকে ৩৫০টা খুচরা ও পাইকারি দোকান, আর রাজধানী ছাড়াও দেশের নানা জায়গা থেকে দোকানিরা ওখানে জার্সি কিনতে আসেন। New Age ৫ জুন ২০২৬-এ সর্বশেষ বিশ্বকাপের আগে টুইন টাওয়ারের স্পোর্টস মার্কেট আর হল মার্কেটের দোকানিদের সাথে কথা বলে লিখেছে, পাইকারিতে পিপি কাপড়ের জার্সি ৩০০ টাকা থেকে আর জ্যাকার্ড কাপড়েরটা ৬০০ টাকা পর্যন্ত। একই লেখায় আছে, কাপড় আর সুতা বেশিরভাগ আসে চীন থেকে, আর সেলাই হয় দেশেই, মূলত নারায়ণগঞ্জে।
দাম যে কত দ্রুত বদলায়, সেটা The Business Standard-এর একটা রিপোর্টে পরিষ্কার। ১৯ নভেম্বর ২০২২-এ তারা লিখেছিল, সেই মাসের শুরুতে হাফ হাতা ফ্যান জার্সির পাইকারি দাম ছিল ১৩০ টাকা, আর দুই সপ্তাহ পরে সেটা হয় ২৮০ টাকা। মানে মৌসুমের মাল যত দেরিতে তুলবেন, তত বেশি দাম দেবেন, আর তত কম দিন বেচার সময় পাবেন।
মার্কেটে গিয়ে আসলে যা হয়, সেটা আগে জেনে যান। দোকানি সাধারণত ডজন বা বান্ডিল ধরে দাম বলেন, আর বান্ডিলে সাইজ মেশানো থাকে। অনেক সময় দেখা যায় বান্ডিলে মাঝারি সাইজ বেশি, ছোট আর খুব বড় সাইজ কম। তাই বান্ডিলের সাইজের হিসাবটা দোকানেই গুনে নিন। ওপরের পিসটা দেখে কিনবেন না, মাঝখান থেকে একটা টেনে বের করে আলোয় ধরুন, সেলাই দেখুন, টেনে দেখুন। আর একটা কথা মাথায় রাখুন। ওই তাকের অনেক জার্সিতে দেশের ফুটবল ফেডারেশন বা ক্লাবের লোগো আর বড় স্পোর্টস ব্র্যান্ডের চিহ্ন বসানো থাকে, আর সেগুলোর অনুমতি আছে কি না, কাগজ না দেখে বোঝার উপায় নেই। সেগুলো অনলাইনে বেচলে কী হয়, সেটা নিচে আলাদা অংশে আছে।

চট্টগ্রামের কথা আলাদা করে বলি। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য পত্রিকার রিপোর্টে তারিখসহ চট্টগ্রামের আলাদা কোনো জার্সি পাইকারি বাজারের নাম চোখে পড়েনি, তাই এখানে আন্দাজে কোনো নাম লিখছি না। সহজ উপায় হলো এলাকার খেলার সামগ্রীর দোকানদারকে জিজ্ঞেস করা, তিনি জার্সি কোথা থেকে তোলেন। আর কাস্টম জার্সির কারখানা খুঁজতে মার্কেটের চেয়ে কারখানার নিজের Facebook পেজই বেশি কাজে আসে। তবে কোনো কারখানাকে প্রথম অর্ডার দেওয়ার আগে একবার নিজে গিয়ে দেখে আসুন। প্রেস মেশিনটা চলছে কি না দেখুন, আগের কোনো টিমের ছাপা জার্সি হাতে নিয়ে দেখুন, আর ন্যূনতম কত পিস না হলে ওরা কাজ ধরে না, সেটা জিজ্ঞেস করুন।
কাপড় চিনবেন যেভাবে, পিপি, মেশ আর মিশ্রণ
জার্সির ব্যবসায় কাস্টমার সবচেয়ে বেশি রাগ করেন কাপড় নিয়ে। ছবিতে চকচকে দেখায়, গায়ে দিলে গরম লাগে, অথবা দুই ধোয়ার পর রং মরে যায়।
বাজারে "পিপি" নামে যে কাপড় চলে, সেটা মসৃণ, পাতলা পলিয়েস্টার। সস্তা জার্সি আর টিমের জার্সিতে এটাই সবচেয়ে বেশি দেখবেন। মেশ কাপড়ে ছোট ছোট ফুটো থাকে, আলোর দিকে ধরলে জালের মতো দেখায়, গরমে বাতাস চলে বলে মাঠের জন্য আরামের। জ্যাকার্ড কাপড়ে বুননের মধ্যেই একটা নকশা থাকে, হাত দিলে টের পাওয়া যায়, দামও বেশি। আর মিশ্রণ বলতে সাধারণত পলিয়েস্টারের সাথে সুতি বা অন্য সুতা মেশানো কাপড় বোঝায়।
সাবলিমেশন প্রিন্টে কাপড় বাছাই সবচেয়ে জরুরি। এই প্রিন্টে কালি তাপে গ্যাস হয়ে পলিয়েস্টারের সুতার ভেতরে ঢুকে যায়, তাই ধোয়ার পরেও ওঠে না। কিন্তু সুতি সুতায় এভাবে বসে না। ফলে সুতি মেশানো কাপড়ে সাবলিমেশন করলে রংটা ফ্যাকাশে আর ছোপ ছোপ লাগে। এজন্য টিমের জার্সির জন্য কারখানা প্রায় সবসময় পলিয়েস্টার কাপড়ই দেয়, আর সাদা বা হালকা রঙের কাপড়ের ওপর ছাপে।

কাপড়ের ভার বোঝাতে কারখানা GSM শব্দটা বলে, মানে এক বর্গমিটার কাপড়ের ওজন কত গ্রাম। The Business Standard-এর ওই ২০২২ সালের রিপোর্টে দোকানিরা বলেছিলেন, ভালো জার্সির কাপড় ১৫০ থেকে ১৬০ GSM-এর মধ্যে। কোটেশনে কাপড়ের নাম আর GSM লিখিয়ে নিন, তাহলে বাল্কে পাতলা কাপড় এলে কথা বলার একটা কাগজ থাকে।
নিজের হাতে তিনটা জিনিস দেখুন। কাপড়টা টেনে ছেড়ে দিন, আগের আকারে ফিরে আসে কি না। হাতের তালু ঘষে দেখুন, খসখসে কি না, কারণ খসখসে কাপড় ঘামে গায়ে জ্বালা করে। আর স্যাম্পল পিসটা একবার সাবান দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকান। রং ছাড়ে কি না, নাম-নম্বর কুঁচকে যায় কি না, সাইজ ছোট হয় কি না, সেটা বাল্ক অর্ডারের আগেই জেনে যাবেন।
ক্লাব আর দেশের লোগো, কোনটা বেচা ঝুঁকির
এই অংশটাই আপনার পেজ বাঁচাবে। কোনো দেশের ফুটবল ফেডারেশনের ব্যাজ, বিদেশি ক্লাবের লোগো আর বড় স্পোর্টস ব্র্যান্ডের চিহ্ন, এগুলো সাধারণত ট্রেডমার্ক করা থাকে। মালিকের অনুমতি ছাড়া এগুলো বসানো জার্সি বানানো বা বেচা আইনের চোখে অপরাধ হতে পারে, দোকানে যত খোলাখুলিই বিক্রি হোক।
২০২৬ সালের অক্টোবরে bdlaws.minlaw.gov.bd-তে ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর যে কপি রাখা আছে, তার ৭৩ ধারা কোনো জিনিসে মিথ্যাভাবে ট্রেডমার্ক বসানো, আর সেজন্য ছাঁচ বা মেশিন রাখার সাজা নিয়ে। ৭৪ ধারা মিথ্যা ট্রেডমার্কের মাল বেচা নিয়ে। দুই ধারাতেই সাজা লেখা আছে ছয় মাস থেকে দুই বছরের জেল, অথবা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা দুটোই। এটা আইনে যা লেখা তাই, কারও মামলায় শেষে কী হবে তা আদালত ঠিক করে, আর এটা আইনি পরামর্শ না। কোন নাম বা লোগো দেশে রেজিস্টার করা আছে, তার খোঁজ রাখে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT, dpdt.gov.bd)।
ফেসবুকের দিকটাও একই। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Meta-র Commerce Policies-এ লেখা আছে, অন্য কোম্পানির ট্রেডমার্ক (নাম বা লোগো) বা চোখে পড়ার মতো ডিজাইন নকল করে আসলের মতো বানানো জিনিসের প্রচার বা বিক্রি চলবে না। নকল মাল বেচলে পেজের সাথে কী কী হয়, সেটা ঘড়ির ব্যবসার লেখায় "মাস্টার কপি" অংশে বিস্তারিত বলা আছে, এখানে আর লম্বা করছি না।
কাস্টম জার্সিতে এই ঝামেলাটা আসে একটু অন্যভাবে। টিমের ছেলেরা ডিজাইন দেখাতে গিয়ে প্রায়ই কোনো বড় ক্লাবের জার্সির স্ক্রিনশট দেয়, আর বলে, "হুবহু এইটা, শুধু বুকে আমাদের নাম।" কারখানার ডিজাইনারের কম্পিউটারেও অনেক সময় বড় ক্লাবের রেডি ফাইল থাকে। এখানে ভদ্রভাবে না বলুন। রঙের ধরন আর ডোরা কাটা প্যাটার্ন থেকে আইডিয়া নিন, কিন্তু ক্লাবের ব্যাজ, ওই ক্লাবের স্পন্সরের নাম আর ব্র্যান্ডের চিহ্ন বাদ দিন। বুকে বসবে টিমের নিজের লোগো, আর নিচে চাইলে এলাকার কোনো দোকানের নাম, যদি সেই দোকান স্পন্সর হয়ে থাকে।
রেডি জার্সির বেলায় তাহলে বেচুন লোগো ছাড়া জার্সি, নিজের ডিজাইনের সাপোর্টার জার্সি আর প্র্যাকটিসের প্লেইন জার্সি। মৌসুমে লোগোওয়ালা কপির চেয়ে এগুলো কম চলবে, মনও একটু খারাপ লাগবে। তবু এই রাস্তাটাই ধরুন, কারণ এক বছর পরে আপনার পেজটা থাকবে।
সাবলিমেশন অর্ডার ধাপে ধাপে, ডিজাইন, নাম-নম্বর আর অগ্রিম
টিমের অর্ডার সাধারণত এই সিরিয়ালে চলে, প্রতিটা ধাপে কোথায় ভুল ঢোকে সেটাও বলছি।
১. আগে ডিজাইনটা ফাইনাল করুন
ক্যাপ্টেনের কাছ থেকে টিমের রং, লোগো ফাইল আর পছন্দের একটা-দুটো নমুনা নিন। কারখানার ডিজাইনার সামনে-পেছনের একটা মকআপ বানিয়ে দেবেন। এখানে গোলকিপারের জার্সির রংও ঠিক করে নিন, কারণ মাঠে দুই দলের থেকে আলাদা দেখাতে হয়। অনেকে এটা ডেলিভারির দিনে খেয়াল করেন, তখন আর সময় থাকে না।
২. নাম-নম্বরের লিস্ট রাখুন এক জায়গায়
পনেরোজন পনেরোভাবে ইনবক্সে নাম পাঠালে ভুল হবেই। একটা Google Sheet খুলে লিংকটা ক্যাপ্টেনকে দিন, প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের ঘর নিজে ভরবেন। কলামগুলো এমন রাখুন।
- পিঠে যে নাম ছাপা হবে, ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে, ঠিক যেভাবে ছাপা হবে
- জার্সির নম্বর, আর পাশে একটা চেক কলাম যাতে দুজনের একই নম্বর না হয়
- বুকের মাপ ইঞ্চিতে, আর তার থেকে বের করা সাইজ
- হাফ হাতা না ফুল হাতা, আর শর্টসের কোমরের মাপ
- শেষ সারিতে ক্যাপ্টেনের নাম আর তারিখ, "লিস্ট ঠিক আছে" লিখে

শিট ফাইনাল হলে সেটা লক করে দিন, তারপর আর কোনো চেঞ্জ ইনবক্সে নেবেন না। ছাপার এক দিন আগে "ভাই, আমার নামের বানানটা একটু বদলে দেন" মেসেজটা প্রায় সব টিম থেকেই আসে। নিয়ম থাকলে ভদ্রভাবে বলতে পারবেন, ফাইনাল লিস্টের পরে চেঞ্জ হলে সেই জার্সির খরচ তাঁর।
৩. অগ্রিম নিন নিয়মের ভেতরে
এখানে একটা নিয়ম জানা জরুরি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.১০ অনুচ্ছেদ বলছে, যে জিনিস টাকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ারে দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই, অনলাইনে নেওয়া অর্ডারে তার দামের ১০%-এর বেশি অগ্রিম নেওয়া যায় না। এর বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস লাগে। অর্ডার দিয়ে বানানো জার্সি এই দলেই পড়ে। নিয়মটা কীভাবে খাটে আর ডেলিভারির তারিখ কীভাবে বলবেন, সেটা প্রি অর্ডারের লেখায় টাকার হিসাবসহ আছে। আর অগ্রিমটা স্ক্রিনশটে না নিয়ে পেমেন্ট লিংকে নিন, যাতে প্রতিটা টাকার রেকর্ড থাকে। কীভাবে, সেটা bKash পেমেন্ট লিংকের লেখায় ধাপে ধাপে বলা আছে।
৪. স্যাম্পল দেখে তবেই বাল্ক
বাল্কের আগে একটা জার্সি ছাপিয়ে নিন। কম্পিউটারের স্ক্রিনের রং আর কাপড়ে ছাপা রং এক হয় না, বিশেষ করে গাঢ় নীল, মেরুন আর নিয়ন সবুজে পার্থক্যটা বেশি চোখে পড়ে। স্যাম্পলটার দিনের আলোয় একটা ছবি তুলে ক্যাপ্টেনকে পাঠান, স্ক্রিনের মকআপ না। ক্যাপ্টেন "ঠিক আছে" লিখলে সেই মেসেজটা রেখে দিন।

৫. বাল্ক প্রিন্ট আর ডেলিভারি
অনেক কারখানা লিস্ট ফাইনাল হওয়ার পর সাত থেকে দশ দিন সময় চায়, টুর্নামেন্টের ভিড়ে আরও বেশি। আসল ডেডলাইন কিন্তু খেলার দিন, কারখানার দেওয়া তারিখ না। তাই খেলার দিন থেকে পেছনে গুনুন, স্যাম্পলের দুই-তিন দিন যোগ করুন, আর ঝামেলার জন্য আরও দুই দিন রাখুন। জার্সি হাতে পেলে কারখানাতেই প্রতিটা পিস শিটের সাথে মিলিয়ে নিন, নাম, নম্বর আর সাইজ। বাসায় এসে ভুল পেলে যাওয়া-আসা আর তর্ক দুটোই বাড়ে।
এই পুরো কাজটা খাতায় বা ইনবক্সে চালালে দুই-তিনটা টিমের অর্ডার একসাথে এলেই গুলিয়ে যায়, কোন টিম কত দিল আর কোনটার স্যাম্পল এখনো বাকি। WinningSeller-এ "টিম জার্সি সেট" নামে একটা প্রোডাক্ট বানিয়ে রাখলে প্রতিটা টিমের অর্ডার ম্যানুয়াল অর্ডার হিসেবে তুলে রাখা যায়, সেটে দরদাম করা দামটাই বসিয়ে। অর্ডারে "টিম অর্ডার" বা "স্যাম্পল বাকি" এর মতো নিজের ট্যাগ দিয়ে রাখলে লিস্টে এক নজরে বোঝা যায় কোনটা কোন ধাপে আছে। দোকানের নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করা থাকলে অর্ডার থেকে একটা পেমেন্ট লিংক কপি করা যায়, যেখানে অঙ্কটা নিজে লিখে দেন, যেমন নিয়মের ভেতরের অগ্রিমটুকু। লিংক তিন দিন চালু থাকে, টাকা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যায়, আর পরে বাকি টাকাটাই শুধু অর্ডারে পাওনা দেখায়। ডিজাইন বানানো বা কারখানা খুঁজে দেওয়ার কাজ WinningSeller করে না, ওটা আপনার।
এক টিমের ১৫ সেটে কত লাভ (উদাহরণ)
নিচের সব সংখ্যা একটা উদাহরণ, কোনো কারখানার আসল রেট না। আপনার এলাকার কারখানার কোটেশন বসিয়ে একবার নিজে হিসাব করে নিন।
ধরুন পাড়ার ফুটবল দল ১৫ সেট চেয়েছে, ১৪টা মাঠের খেলোয়াড়ের আর ১টা গোলকিপারের। প্রতি সেটে জার্সি আর শর্টস, পিঠে নাম-নম্বর। কারখানা প্রতি সেট ৪৮০ টাকা চেয়েছে, গোলকিপারেরটাও একই দামে।
এবার খরচগুলো একটা একটা করে যোগ করি। ১৫ সেটে কারখানার বিল ১৫ × ৪৮০ = ৭,২০০ টাকা। নাম ছাড়া একটা স্যাম্পল জার্সি ছাপাতে গেল ৩০০ টাকা। ডিজাইনারের ফাইল ঠিক করার খরচ ধরুন ৫০০ টাকা। কারখানায় দুবার যাওয়া-আসায় গেল ৪০০ টাকা, আর প্যাকেট-পলিতে ১০০ টাকা। সব মিলিয়ে ৭,২০০ + ৩০০ + ৫০০ + ৪০০ + ১০০ = ৮,৫০০ টাকা।
টিমকে আপনি দাম বলেছেন প্রতি সেট ৭৫০ টাকা। ১৫ সেটে আসে ১৫ × ৭৫০ = ১১,২৫০ টাকা। লাভ থাকে ১১,২৫০ − ৮,৫০০ = ২,৭৫০ টাকা, সেটপ্রতি প্রায় ১৮৩ টাকা।

টাকা কবে কোথায় আটকায়, সেটাও দেখুন। কারখানা অর্ডারের সময় ধরুন অর্ধেক অগ্রিম চাইল, মানে ৩,৬০০ টাকা। নিয়মের ভেতরে থেকে টিমের কাছ থেকে আপনি নিতে পারবেন ১১,২৫০ টাকার ১০%, মানে ১,১২৫ টাকা। তাহলে ডেলিভারির দিন পর্যন্ত কারখানার অগ্রিমের ২,৪৭৫ টাকা যাচ্ছে আপনার নিজের পকেট থেকে, সাথে স্যাম্পল, ডিজাইন আর যাতায়াতের খরচ তো আছেই।
এবার দেখুন লিস্টের একটা ভুলের দাম কত। দুজনের সাইজ ছোট হলো, আবার ছাপাতে হবে। দুই সেটে ২ × ৪৮০ = ৯৬০ টাকা, আরেকবার কারখানায় যাওয়া ২০০ টাকা, মোট ১,১৬০ টাকা। লাভ ২,৭৫০ থেকে নেমে দাঁড়ায় ২,৭৫০ − ১,১৬০ = ১,৫৯০ টাকায়। মাত্র দুটো ভুলে লাভের প্রায় ৪২% চলে গেল। আর খারাপ দিনটা ভাবুন। ছাপা শেষ, অথচ টিম পিছিয়ে গেল। পিঠে নাম ছাপা পনেরোটা জার্সি অন্য কেউ কিনবে না। তখন হাতে পাওয়া ১,১২৫ টাকার অগ্রিম বাদ দিলেও ক্ষতি সাত হাজার টাকার ওপরে। এজন্যই সই করা লিস্ট, ছাপা স্যাম্পলে ক্যাপ্টেনের "ঠিক আছে", আর প্রথম দিকে চেনা টিমের অর্ডার, এই তিনটা জিনিস এই ব্যবসার আসল পুঁজি।
কোন মাসে কোন জার্সি চলে
বড় টুর্নামেন্টের আগে রেডি জার্সির চাহিদা হঠাৎ লাফ দেয়। অনলাইন পত্রিকা স্রোত২৪ ২২ মে ২০২৬-এ গুলিস্তানের এক দোকানির কথা ছেপেছিল, বিশ্বকাপ যত কাছে আসছে, চাহিদা তত বাড়ছে। ওপরে তো দেখলেন, ২০২২ সালে দুই সপ্তাহে পাইকারি দাম দ্বিগুণের বেশি হয়েছিল। পরের বড় আসর কবে, তারিখটা FIFA বা ICC-র নিজের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিন, কারো পোস্ট দেখে না।
নতুন সেলাররা একটা জিনিস প্রায়ই দেরিতে শেখেন। কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়লে পরদিন থেকে সেই দলের রঙের জার্সি আর প্রায় কেউ কেনে না। তাই বড় আসরের মাল দুই-তিন দফায় তুলুন।
টিমের কাস্টম জার্সির মৌসুম আলাদা। সেলারদের অভিজ্ঞতায় শীতকালে পাড়া আর ইউনিয়নের ফুটবল-ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বেশি হয়, স্কুলের বার্ষিক খেলাধুলাও সাধারণত বছরের শুরুর দিকে। ঈদের ছুটিতে গ্রামে টুর্নামেন্ট বসে, আর অফিস বা কলেজের খেলার দিনে একসাথে অনেক জার্সির অর্ডার আসে। এসবের তারিখ কেউ আগে থেকে ঘোষণা করে না, তাই গত বছর যে টিমগুলো অর্ডার দিয়েছিল, তাদের ক্যাপ্টেনকে মৌসুম শুরুর এক মাস আগে একটা ফোন দিন। বারো মাসের অন্য মৌসুমের মাল কবে তুলবেন, সেটা সিজনাল ব্যবসার ক্যালেন্ডারে পাবেন।
বেঁচে যাওয়া প্লেইন জার্সি এলাকার ক্লাবকে প্র্যাকটিস জার্সি হিসেবে সেট ধরে কম দামে দিয়ে দিন। পরের মৌসুমে ডিজাইন পুরনো লাগে। আমার অভিজ্ঞতায় এক মৌসুম পার করা জার্সি পরের বছর আর আগের দামে যায় না, তাই কম লাভে হলেও মাল বের করে দিন।
সাইজ লিস্ট ভুল হলে কী হয়
টিমের অর্ডারে সবচেয়ে বেশি ঝামেলা হয় সাইজ নিয়ে। "M" বা "L" একেক কারখানায় একেক মাপ। একজন বললেন "আমি সবসময় L পরি", জার্সি আসার পর দেখা গেল টাইট। তখন দোষটা কারখানার না, লিস্টের।
তাই সাইজ না নিয়ে বুকের মাপ নিন। সহজ উপায় হলো, খেলোয়াড়ের গায়ে ভালো ফিট হয় এমন একটা টি-শার্ট বা জার্সি সমান জায়গায় বিছিয়ে এক বগল থেকে আরেক বগল পর্যন্ত মাপুন, তারপর দ্বিগুণ করুন। সেই মাপটা কারখানার নিজের সাইজ চার্টের সাথে মিলিয়ে সাইজ বের করুন। চার্টটা ওই কারখানার কাছ থেকেই চেয়ে নিন, অন্য কোথাও থেকে আনা চার্টে ভুল হবে।

কিশোরদের দলে আরেকটা কথা। টুর্নামেন্টের দুই মাস আগে মাপলে খেলার দিনে কারো কারো গায়ে জার্সি একটু ছোট হতে পারে। তাই ছোটদের বেলায় এক সাইজ বড় নেবেন কি না, সেটা ক্যাপ্টেন আর অভিভাবকদের সাথে আগেই ঠিক করে নিন। আর অর্ডারে একটা বাড়তি জার্সি রাখুন। স্যাম্পলটা নাম ছাড়া ছাপালে সেটাই বাড়তি হয়ে যায়, ওপরের হিসাবে ঠিক এটাই করা হয়েছে। খেলার আগের দিন কারো জার্সি ছিঁড়লে বা নতুন একজন খেলোয়াড় এলে ওই একটা পিসই দিনটা বাঁচায়।
আজই করে ফেলুন
হাতে যা আছে তা দিয়েই, এক ঘণ্টার মধ্যে।
- এলাকার দুটো খেলার সামগ্রীর দোকানে গিয়ে বা ফোন করে জিজ্ঞেস করুন, ওরা জার্সি কোথা থেকে তোলে আর টিমের অর্ডার কোন কারখানায় করায়।
- Facebook-এ তিনটা সাবলিমেশন কারখানার পেজ বের করে একই প্রশ্ন পাঠান। ১৫ সেটের দাম, কাপড়ের নাম আর GSM, ন্যূনতম পিস, কত দিন লাগে, আর গোলকিপারের জার্সির দাম আলাদা কি না।
- ওপরের পাঁচটা কলাম দিয়ে একটা Google Sheet বানিয়ে রাখুন, যাতে প্রথম টিমের অর্ডার এলেই লিংকটা পাঠাতে পারেন।
- বাসার একটা জার্সি বিছিয়ে বগল থেকে বগল মেপে দ্বিগুণ করুন। মাপ নেওয়ার নিয়মটা একবার নিজে হাতে করলে ক্যাপ্টেনকে বোঝাতে সহজ হবে।
- চেনা একটা টিমের ক্যাপ্টেনকে ফোন দিন। পরের টুর্নামেন্ট কবে, আর তাদের জার্সি এখন কী অবস্থায়, শুধু এটুকু জিজ্ঞেস করুন।
জার্সির ব্যবসায় টিকে থাকেন তাঁরাই, যাঁদের কাছে টিমগুলো প্রতি মৌসুমে ফিরে আসে। কারণটা খুব সাধারণ। খেলার আগের দিন পনেরোটা জার্সি সঠিক নামে, সঠিক মাপে ক্যাপ্টেনের হাতে পৌঁছেছিল, আর ক্যাপ্টেন সেটা ভোলেন না।
রেডি জার্সিও পাশাপাশি বেচতে চাইলে নিজের একটা অনলাইন স্টোর রাখুন। সেখানে প্রতিটা সাইজের স্টক আলাদা গোনা যায়, স্টক গোনা চালু রাখলে শেষ হয়ে যাওয়া সাইজের অর্ডার আর নেয় না, আর পার্সেল এক ক্লিকে Steadfast, Pathao বা RedX-এ চলে যায়। তবে স্টোর মাল বেচে দেয় না, ভালো কাপড় আর সৎ ছবিটা আপনাকেই দিতে হবে।
সাধারণ প্রশ্ন
ঢাকায় জার্সির পাইকারি মার্কেট কোথায়?
ঢাকায় জার্সির পাইকারির বড় জায়গা গুলিস্তান। The Daily Star ২০২২ সালের নভেম্বরে লিখেছিল, মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম মার্কেট, সমবায় টুইন টাওয়ার, হল মার্কেট আর বঙ্গবাজার মিলিয়ে ওই এলাকায় ৩০০ থেকে ৩৫০টা খুচরা ও পাইকারি দোকান। দেশের অন্য জেলার দোকানিরাও ওখান থেকে জার্সি তোলেন।
পাইকারি জার্সির দাম কত?
মৌসুম আর কাপড়ের ওপর দাম অনেক ওঠানামা করে। New Age ৫ জুন ২০২৬-এ গুলিস্তানের দোকানিদের বরাতে লিখেছে, পাইকারিতে পিপি কাপড়ের জার্সি ৩০০ টাকা থেকে আর জ্যাকার্ড কাপড়েরটা ৬০০ টাকা পর্যন্ত। বড় টুর্নামেন্টের ঠিক আগে দাম দ্রুত বাড়ে, তাই কেনার দিন কয়েকটা দোকানে দাম মিলিয়ে নিন।
টিমের কাস্টম জার্সি বানাতে কত দিন লাগে?
অনেক কারখানা ডিজাইন আর নাম-নম্বরের লিস্ট ফাইনাল হওয়ার পর সাধারণত সাত থেকে দশ দিন সময় চায়, টুর্নামেন্টের ভিড়ে বেশিও লাগে। তাই খেলার দিন থেকে পেছনে গুনে অর্ডার দিন, আর মাঝে স্যাম্পল দেখার দুই-তিন দিন রাখুন। সময়টা কারখানার কাছ থেকে লিখিত নিন।
জার্সির জন্য কোন কাপড় ভালো?
মাঠে খেলার জন্য পাতলা পলিয়েস্টার কাপড়ই চলে, বাজারে যেটা পিপি নামে পরিচিত, আর গরমে বাতাস চলার জন্য মেশ। সাবলিমেশন প্রিন্ট শুধু পলিয়েস্টারে ঠিকমতো বসে, সুতি মেশানো কাপড়ে রং ফ্যাকাশে লাগে। কারখানার কোটেশনে কাপড়ের নাম আর GSM লিখিয়ে নিন।
ক্লাব বা দেশের লোগোওয়ালা জার্সি অনলাইনে বেচা যাবে?
মালিকের অনুমতি ছাড়া কারও ট্রেডমার্ক বসানো জার্সি বেচা ঝুঁকির। ট্রেডমার্ক আইন, ২০০৯-এর ৭৩ আর ৭৪ ধারায় এর সাজা লেখা আছে, আর Meta-র Commerce Policies নকল ব্র্যান্ডের জিনিস বেচতে দেয় না। নিজের ডিজাইন বা টিমের নিজের লোগো দিয়ে কাজ করুন।
টিমের অর্ডারে কত টাকা অগ্রিম নেওয়া যায়?
অর্ডার দিয়ে বানানো জার্সি তো তখনো হাতে নেই, তাই অনলাইনে নেওয়া অর্ডারে দামের ১০%-এর বেশি অগ্রিম নেওয়া যায় না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এ এটা বলা আছে। এর বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস লাগে।
আরও পড়ুন
খেলনা ব্যবসার আইডিয়া, কোন খেলনা অনলাইনে চলে আর নিরাপত্তার নিয়ম
বাচ্চাদের খেলনা অনলাইনে বেচতে চাইলে কোন খেলনা চলে, চকবাজার থেকে প্রথম লট কীভাবে নেবেন, ২০২৬ সালে BSTI-র তালিকায় খেলনা আসার মানে কী, ব্যাটারির খেলনা চালিয়ে দেখা, মাপ বোঝানো ছবি আর না ভাঙার প্যাকিং, একটা লটের টাকার হিসাবসহ।
থ্রিফট শপিং কি? পুরনো বিদেশি জ্যাকেট-শার্টের থ্রিফট ব্যবসার নিয়ম
থ্রিফট শপিং কি, মাল কোথা থেকে আসে আর পুরনো কাপড় আমদানির নিয়ম কী বলে, গাইট খুলে বাছাই, ধোয়া আর ছবি, কন্ডিশন সত্যি করে লেখা, আর একটা গাইট থেকে এক পিসের দাম কীভাবে বের করবেন, হিসাবসহ।
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা, তাঁতের শাড়ি থেকে প্রথম লট, ছবি আর ফেরত
অনলাইনে শাড়ির ব্যবসা শুরু করবেন? কোন শাড়ি চলে, টাঙ্গাইলের হাট আর পাইকার, BSTI-র ২০২৬ সালের নতুন শাড়ির নিয়ম, মডেল ছাড়া শাড়ির ছবি, মাপ আর যত্নের কথা লেখা, আর একটা লটে কত থাকে, হিসাবসহ।


