প্রি অর্ডার কি? মাল আসার আগে অর্ডার নিয়ে কথা রাখবেন যেভাবে
প্রি অর্ডার মানে মাল হাতে আসার আগেই অর্ডার নেওয়া। কত টাকা অগ্রিম নেওয়া যায়, ডেলিভারির কোন তারিখ বললে কথা রাখা যায়, চালান দেরি হলে কাস্টমারকে কী বলবেন, আর এক চালানের পুরো টাকার হিসাব, সব এক জায়গায়।

এই লেখায় যা আছে
ধরুন, রাত এগারোটায় কার্গো এজেন্টের মেসেজ এলো, চালান এক সপ্তাহ পেছাবে। ওদিকে আপনার লিস্টে চল্লিশজন কাস্টমার মাসের শেষ সপ্তাহে মাল পাওয়ার অপেক্ষায় বসে আছেন। প্রি অর্ডার কি, এক কথায় বললে, প্রোডাক্ট হাতে আসার আগেই কাস্টমারের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে রাখা। কাস্টমার আগে নাম লেখান, কখনো সাথে অল্প কিছু অগ্রিম দেন, আর আপনি একটা বলা সময়ের মধ্যে মাল এনে পাঠিয়ে দেন।
সেলারের দিক থেকে বড় সুবিধা হলো, না বুঝে বেশি মাল কিনে আটকে যাওয়ার ভয় কমে। তবে বাংলাদেশে প্রি অর্ডারে অগ্রিম নেওয়ার একটা সরকারি সীমা আছে, আর যে তারিখ বলবেন সেটা রাখতেই হয়। নিচে দুটোই টাকার হিসাবসহ দেখাচ্ছি।
এবার ওই রাতে একটু ফিরি, পুরোটাই উদাহরণ। আপনি চায়না থেকে একটা কিচেন গ্যাজেট আনছেন, ভিডিও দেখে চল্লিশজন প্রি অর্ডার দিয়েছেন। মেসেজটা পড়ে ফোন হাতে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকলেন। চল্লিশজনকে কী বলবেন? কেউ টাকা ফেরত চাইলে কী হবে? কেউ পেজে "প্রতারক" লিখে দিলে? বুকের ভেতরের এই ধুকপুকানিটা প্রায় সব সেলারের চেনা। প্রি অর্ডারে আসল কাজটা হলো এমন রাতের জন্য আগে থেকে তৈরি থাকা। কথা দেওয়া সহজ, কথা রাখার ব্যবস্থা করাটাই কঠিন, আর এই লেখা সেটা নিয়েই।
প্রি অর্ডার কি, সেলারের দিক থেকে কীভাবে চলে?
সাধারণ ব্যবসার সাথে প্রি অর্ডারের ফারাকটা হলো, কাজটা উল্টো দিক থেকে শুরু হয়। সাধারণ ব্যবসায় আগে টাকা দিয়ে মাল কেনেন, তারপর কাস্টমার খোঁজেন। প্রি অর্ডারে আগে কাস্টমার খোঁজেন, তারপর যতটা লাগবে প্রায় ততটাই কেনেন। বড় লাভটা এখানেই। কোন প্রোডাক্ট চলবে আর কোনটা ঘরের কোণে পড়ে থাকবে, সেটা নিজের টাকা ঢালার আগেই জেনে যান।
একটা প্রি অর্ডারের চালান সাধারণত এই ছয় ধাপে চলে।
- একটা স্যাম্পল আনিয়ে নিজের হাতে দেখুন, ছবি আর ভিডিও করুন। সাপ্লায়ার আর এজেন্টের কাছে জেনে নিন মাল আসতে সবচেয়ে বেশি কত দিন লাগতে পারে।
- পোস্টে বা ল্যান্ডিং পেজে প্রি অর্ডার খুলুন। পরিষ্কার লিখুন এটা প্রি অর্ডার, অর্ডার নেওয়া চলবে কবে পর্যন্ত, আর ডেলিভারি কবে।
- শেষ দিনে লিস্ট বন্ধ করে অর্ডার গুনুন, সেই হিসাবে সাপ্লায়ারকে অর্ডার দিন, সাথে অল্প কয়েকটা বেশি।
- অপেক্ষার সময়টায় কাস্টমারকে মাঝে মাঝে খবর দিতে থাকুন।
- মাল হাতে এলে কার্টন খুলে গুনুন, চেক করুন, তারপর কনফার্ম কল দিয়ে কুরিয়ারে দিন।
- শেষে বাতিল অর্ডারের টাকা ফেরত দিন, আর বেশি আনা মালগুলো সাধারণ স্টকে তুলে ফেলুন।
প্রথম ধাপটা নিয়ে আলাদা করে বলি, কারণ অনেকে এটাই বাদ দেন। স্যাম্পল না দেখে প্রি অর্ডার নিলে আপনি আসলে সাপ্লায়ারের ছবি বিক্রি করছেন। মাল এসে যদি ছবির মতো না হয়, চল্লিশজনের রাগ একসাথে আপনার ঘাড়ে পড়বে। স্যাম্পলে হয়তো কিছু টাকা আর দুই সপ্তাহ সময় যায়। কিন্তু এর চেয়ে সস্তা বিমা প্রি অর্ডারে আর নেই, আর নিজের তোলা ভিডিও দেখলে কাস্টমারের ভরসাও অনেক বাড়ে।

কোন প্রোডাক্টে প্রি অর্ডার চলে?
কাস্টমার তখনই অপেক্ষা করেন, যখন জিনিসটা আশেপাশে সহজে পাওয়া যায় না, অথবা আপনার কাছে নিলে দামে বা মানে স্পষ্ট লাভ আছে। যেটা পাড়ার দোকানে বা দশটা পেজে আজকেই পাওয়া যায়, তার জন্য কেউ তিন সপ্তাহ বসে থাকবেন না। তিনি অন্য পেজ থেকে কাল সকালেই কিনে নেবেন, আর আপনার লিস্ট থেকে নামটা নিঃশব্দে হারিয়ে যাবে।
সবচেয়ে ভালো চলে এমন বিদেশি প্রোডাক্ট, যেটা দেশে খুব একটা পাওয়া যায় না। রান্নাঘরের নতুন গ্যাজেট, ঘর সাজানোর জিনিস, কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের এক্সেসরিজ এভাবে বেশি বিক্রি হয়। অর্ডার দিয়ে বানানো জিনিসও ভালো চলে। ঈদের আগে কারখানায় নিজের ডিজাইনের পাঞ্জাবি বানাচ্ছেন, বা পাড়ার টুর্নামেন্টের জন্য দলের জার্সি, এখানে কাস্টমার জানেন জিনিসটা তাঁর জন্যই বানানো হবে, তাই অপেক্ষাটা মেনে নেন। শীত নামার আগে জ্যাকেটের মতো সিজনের প্রি অর্ডারও চলে।
কোথায় চলে না, সেটাও জেনে রাখুন। জুতা বা ফিটিং শার্টের মতো সাইজের ঝামেলা আছে এমন জিনিস ভালো সাইজ চার্ট ছাড়া প্রি অর্ডারে নেবেন না। তিন সপ্তাহ অপেক্ষার পর "টাইট হয়েছে" শুনলে কাস্টমারের মন দ্বিগুণ খারাপ হয়। যে ট্রেন্ড দুই সপ্তাহে বদলে যায়, তার মাল আসতে আসতে ট্রেন্ডটাই চলে যেতে পারে। কাচের বা সহজে ভাঙে এমন জিনিসে কার্গোর ঝুঁকি বেশি। আর খাবার, কসমেটিকস বা ওষুধ বিদেশ থেকে আনতে আলাদা অনুমতির ব্যাপার থাকে। কোন জিনিস আনা ঝামেলার, সেটা চায়না থেকে প্রোডাক্ট আনার লেখায় আলাদা করে বলা আছে।

অগ্রিম কত নেবেন, আইন কী বলে?
এখানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ পরিষ্কার। এর ৩.২.১০ অনুচ্ছেদ বলছে, যে প্রোডাক্ট টাকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ারে দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই, তার দামের ১০%-এর বেশি অগ্রিম নেওয়া যাবে না। প্রি অর্ডারের প্রোডাক্ট ঠিক এই দলে পড়ে, কারণ মাল তখনো সাপ্লায়ারের কাছে বা পথে। নির্দেশিকার গেজেট কপি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রাখা আছে। ১০%-এর বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস দিয়ে নিতে হয়, যেখানে টাকাটা মাঝখানে আটকে থাকে আর ডেলিভারির পরে সেলারের কাছে যায়। নিজের পার্সোনাল bKash-এ সেন্ড মানি নেওয়া এসক্রো না। অগ্রিম, ডেলিভারি আর রিফান্ডের সব নিয়ম একসাথে পাবেন অনলাইন ব্যবসার নীতিমালার লেখায়।
টাকায় বললে, ১,৫০০ টাকার প্রোডাক্টে আপনি সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা অগ্রিম নিতে পারবেন, আর ৮০০ টাকার প্রোডাক্টে ৮০ টাকা। মানে প্রি অর্ডারের অগ্রিম সবসময় ছোট একটা অঙ্ক।
এখানেই অনেকের হিসাব ভুল হয়। অনেকে প্রি অর্ডার শুরু করেন এই ভেবে যে কাস্টমারের টাকায় মাল আনবেন, নিজের পুঁজি লাগবে না। ১০% নিয়মে সেটা হয় না। চালানের নব্বই ভাগ টাকা আপনার নিজের পকেট থেকেই যাবে, নিচের উদাহরণে দেখবেন অঙ্কটা কত বড়। প্রি অর্ডার আপনাকে পুঁজি দেয় না, দেয় একটা পাকা খবর যে কতজন সত্যিই কিনবেন।
তাহলে অগ্রিম নেবেন কেন? কারণ অগ্রিম আসল কাস্টমারকে বাকিদের থেকে আলাদা করে দেয়। যিনি ১০০ টাকা দিয়ে নাম লেখান, তিনি ভেবেচিন্তে অর্ডার করেছেন। মাল এলে তিনি সাধারণত ফোন ধরেন, পার্সেলও রাখেন, সেলারদের অভিজ্ঞতা এমনই। অগ্রিম ছাড়া প্রি অর্ডার নিলে লিস্ট ফুলে ওঠে, আর তিন সপ্তাহ পরে অর্ধেক মানুষ মনেই রাখেন না যে কিছু অর্ডার করেছিলেন। তাই ১০%-এর ভেতরে একটা গোল অঙ্ক রাখুন, যেমন ১,৫০০ টাকার জিনিসে ১০০ টাকা। টাকাটা এমনভাবে নিন যাতে প্রতিটা অর্ডারের পাশে TrxID লেখা থাকে, কারণ পরে ফেরত দিতে হলে এই রেকর্ডটাই লাগবে। পেমেন্ট লিংকে কীভাবে নেবেন আর ভুয়া স্ক্রিনশট কীভাবে ধরবেন, সেটা bKash পেমেন্ট লিংকে অগ্রিম নেওয়ার লেখায় ধাপে ধাপে আছে।
WinningSeller-এ নিজের bKash বা SSLCommerz অ্যাকাউন্ট কানেক্ট করে চালু করে নিলে প্রতিটা অর্ডার থেকে একটা পেমেন্ট লিংক বানানো যায়, আর লিংকের অঙ্কটা নিজে লিখে দেওয়া যায়, যেমন ১০০ টাকা। কাস্টমার লিংকে টাকা দিলে সেটা সরাসরি আপনার অ্যাকাউন্টে যায়, অর্ডারে অগ্রিমটা নিজে থেকে বসে যায়, আর পরে কুরিয়ারে শুধু বাকি টাকাটাই COD হিসেবে যায়। লিংক তিন দিন চালু থাকে।
ডেলিভারির তারিখ কীভাবে বলবেন যাতে কথা রাখা যায়?
নিয়মটা এক লাইনের। সবচেয়ে বেশি যত দিন লাগতে পারে, তার সাথে আরও এক সপ্তাহ যোগ করে একটা সময়সীমা বলুন, একটা নির্দিষ্ট দিন না।
একটা উদাহরণে দেখি, দিনগুলো বানানো। ধরুন সাপ্লায়ার বললেন মাল রেডি করতে ৫ দিন লাগবে। এজেন্ট বললেন এয়ার কার্গোতে ঢাকায় পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিন। এরপর মাল আনা, গোনা আর প্যাক করতে আপনার ২ দিন, আর ঢাকার বাইরে কুরিয়ারে ধরুন ৩ দিন। সবচেয়ে বেশি ধরলে ৫ + ১৫ + ২ + ৩ = ২৫ দিন। লিস্ট বন্ধ হলো মাসের ১ তারিখে। তাহলে ২৬ তারিখে মাল পৌঁছানোর কথা, এর সাথে আরও ৭ দিন হাতে রাখুন। কাস্টমারকে বলুন "২৬ তারিখ থেকে পরের মাসের ২ তারিখের মধ্যে"।

এক সপ্তাহ বাড়তি কেন? কারণ প্রি অর্ডারের পথে এমন অনেক কিছু ঘটে যা আপনার হাতে নেই। মাল কাস্টমসে আটকে যেতে পারে, সাপ্লায়ারের দেশে লম্বা ছুটি পড়তে পারে, ঈদের আগে কুরিয়ারে পার্সেলের পাহাড় জমে, বৃষ্টিতে রাস্তা বন্ধ হয়। আর একটা দিনের বদলে সময়সীমা কেন? একটা দিন বললে এক দিনের দেরিও কাস্টমারের কাছে কথা ভাঙা। সময়সীমার মাঝামাঝি মাল পৌঁছালে তাঁর মনে হয়, আগেভাগেই পেয়ে গেলাম।
দিন গুনবেন লিস্ট বন্ধের দিন থেকে, প্রতিটা অর্ডারের দিন থেকে না। কারণ সাপ্লায়ারকে অর্ডার যায় লিস্ট বন্ধের পরেই। তাই যিনি প্রথম দিনে অর্ডার দিচ্ছেন, তাঁর অপেক্ষাই সবচেয়ে লম্বা। এই কথাটা পোস্টে খোলাখুলি লিখে দিন, যাতে কেউ ভুল না বোঝেন।
তারিখটা এক জায়গায় লিখে থেমে যাবেন না। পোস্ট বা প্রোডাক্ট পেজে লিখুন, অর্ডার কনফার্মের মেসেজে লিখুন, ইনভয়েসে লিখুন, আর শর্তগুলো একটা পোস্টে লিখে পেজে পিন করে রাখুন। নির্দেশিকার ৩.২.২ অনুচ্ছেদ প্রোডাক্টের বিবরণে ডেলিভারির সময় দিতে বলে, আর ৩.১.১৭ অনুচ্ছেদ ফেসবুক পেজেও ডেলিভারির সময়সহ শর্তগুলো বাংলায় লিখে রাখতে বলে। ৩.২.৯ অনুচ্ছেদ আরও বলছে, যে মাল হাতে নেই তার পাশে "স্টকে নেই" পরিষ্কার লিখতে হবে। তাই লিখুন "প্রি অর্ডার, এখন স্টকে নেই, ডেলিভারি অমুক থেকে অমুক তারিখ"। লেখা তারিখ থাকলে পরে তর্কের সময় আপনার হাতে প্রমাণ থাকে।
ঈদের মাল হলে আরও সাবধান থাকুন। সময়সীমার শেষ দিনটা ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে রাখুন। ঈদের পরে পৌঁছানো পাঞ্জাবি কাস্টমারের কাছে আর ঈদের পাঞ্জাবি থাকে না। তখন প্রায় সবাই বাতিল করবেন, আর পুরো চালান আপনার ঘাড়ে পড়বে।
মাল দেরিতে এলে কাস্টমারকে কী জানাবেন?
এবার শুরুর সেই রাতের কথায় ফিরি। চালান এক সপ্তাহ পেছাবে, আর চল্লিশজন অপেক্ষায়। এমন সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো চুপ করে থাকা, এই আশায় যে হয়তো কেউ খেয়াল করবেন না। কাস্টমার অপেক্ষার চেয়েও বেশি রাগ করেন চুপ থাকার কারণে। যে সেলার নিজে থেকে আগে খবর দেন, তাঁর দেরিও মানুষ মাফ করে দেন।
তাই খবরটা দিন তারিখ পার হওয়ার আগে, কাস্টমার জিজ্ঞেস করার আগে। মেসেজে সত্যি কারণটা বলুন, নতুন সময়সীমা দিন, আর জানিয়ে দিন যে অপেক্ষা করতে না চাইলে অগ্রিম সেদিনই ফেরত পাবেন। এমন একটা SMS পাঠাতে পারেন, দোকানের নামটা বানানো।
"রান্নাঘর বাজার থেকে বলছি। আপনার প্রি অর্ডারের চালান কার্গোতে এক সপ্তাহ দেরি হচ্ছে। নতুন সময় ২ থেকে ৯ তারিখ। অপেক্ষা করতে না চাইলে এই নম্বরে জানান, অগ্রিম আজই ফেরত দেব। 01XXXXXXXXX"
ফেরতের কথাটা মেসেজে নিজে থেকে লিখলে অবাক করা একটা জিনিস ঘটে। বেশিরভাগ মানুষ টাকা ফেরত চান না, কারণ তাঁরা দেখেন আপনি লুকাচ্ছেন না। যিনি সত্যিই ফেরত চান, তাঁকে হাসিমুখে সেদিনই দিয়ে দিন। টাকা ফেরতের বদলে অন্য কোনো প্রোডাক্ট নিতে কখনো চাপ দেবেন না। নির্দেশিকার ৩.১.১১ অনুচ্ছেদও বলছে, কাস্টমারকে কোনো প্রোডাক্ট কিনতে বাধ্য করা যাবে না। তিনি নিজে খুশি হয়ে নিলে ভালো, কিন্তু চাপ দিলে সেই রাগটা কমেন্টে গিয়ে পড়ে।
দামি অর্ডার বা পুরনো কাস্টমার হলে SMS-এর বদলে একটা ফোন দিন। প্রথম লাইনটা হোক, "ভাই, আপনার অর্ডারটা নিয়ে একটা খবর দিতে ফোন দিলাম, মালটা এক সপ্তাহ দেরি হচ্ছে।" খারাপ খবরটা প্রথম দশ সেকেন্ডেই বলে দিন। ঘুরিয়ে বললে মানুষ আরও বেশি সন্দেহ করেন।

দেরি না হলেও মাঝে মাঝে খবর দিন। মাল রওনা দিলে একটা ছোট মেসেজ পাঠান, ঢাকায় পৌঁছালে আরেকটা। কার্টন খোলার একটা ছবি বা ছোট ভিডিও পেজে দিলে অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলো শান্ত হন। যাঁরা এখনো কেনেননি, তাঁরাও দেখেন আপনার কথা আর কাজ মেলে, আর এটাই এক টাকাও ডলার স্পেন্ড ছাড়া পরের চালানের সবচেয়ে ভালো অ্যাড। যাঁরা দেরির পরেও অপেক্ষা করলেন, পারলে তাঁদের জন্য ছোট একটা কিছু রাখুন, যেমন পরের অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি। এই মানুষগুলোই আপনার সবচেয়ে ধৈর্যশীল কাস্টমার।
এসব কাজ একটা জিনিসের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেটা হলো একটা পরিষ্কার লিস্ট। প্রতিটা প্রি অর্ডারের পাশে নাম, নম্বর, কত অগ্রিম, TrxID, শেষ খবর কবে গেল, আর কাস্টমার অপেক্ষা করছেন না ফেরত চেয়েছেন, সব লেখা থাকবে। চল্লিশটা অর্ডার ইনবক্সের চ্যাট আর খাতার পাতায় ছড়িয়ে থাকলে কাউকে না কাউকে খবর দিতে ভুলে যাবেন, আর ঠিক তিনিই কমেন্টে লিখবেন।
বাতিল আর রিফান্ড কত দিনে?
নির্দেশিকার ৩.৫.১ অনুচ্ছেদ বলছে, অগ্রিম নিয়ে বলা সময়ে মাল দিতে না পারলে কাস্টমার টাকা দেওয়ার দিন থেকে সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে, যে পথে টাকা এসেছিল সেই পথে। bKash-এ নিলে ফেরতও যাবে bKash-এ, আর পাঠাতে কোনো চার্জ লাগলে সেটা আপনার। প্রি অর্ডারে মাল আসতেই কয়েক সপ্তাহ লাগে, তাই এই ১০ দিন ঠিক কোন দিন থেকে গুনবেন, প্রি অর্ডারের জন্য আলাদা করে নির্দেশিকায় বলা নেই। নিরাপদ নিয়মটা সহজ। আপনার বলা সময়সীমা পার হলে কেউ টাকা চাইলে সেদিনই ফেরত দিন।

বাকি অবস্থাগুলো নির্দেশিকা দিন গুনে বলে দেয়নি, তাই নিয়মটা আপনাকেই ঠিক করে পোস্টের শর্তে লিখে রাখতে হবে। প্রি অর্ডারে যে অবস্থাগুলো বারবার আসে, তার একটা কাজের নিয়ম এমন হতে পারে।
| কী হলো | কী করবেন |
|---|---|
| মাল আসার আগে কাস্টমার নিজে মত বদলালেন | পুরো অগ্রিম ফেরত দিন। ১০০ টাকা রেখে একটা খারাপ কমেন্ট কেনার মানে হয় না |
| সময়সীমা পার, কাস্টমার আর অপেক্ষা করবেন না | সেদিনই পুরো অগ্রিম ফেরত দিন, একই পথে |
| চালান আটকে গেল বা মালই এলো না | সবাইকে একসাথে জানান, সবার টাকা ফেরত দিন, কাউকে ঝুলিয়ে রাখবেন না |
| মাল এলো, কিন্তু অর্ডারের চেয়ে কম | যিনি আগে অর্ডার দিয়েছেন তিনি আগে পাবেন, বাকিদের টাকা ফেরত দিন বা পরের চালানের কথা বলুন |
| পার্সেল দরজা থেকে ফেরত এলো | অগ্রিম রাখবেন কি না, সেটা আগে থেকে শর্তে লেখা থাকলে সেই মতো করুন |
শেষ লাইনটা নিয়ে একটু বলি। দরজা থেকে ফেরত দিলে কুরিয়ারের ফেরতের চার্জ আপনার ঘাড়ে পড়ে। অগ্রিমটা সেই চার্জে ধরবেন কি না, এটা প্রি অর্ডার খোলার সময়েই পোস্টে লিখে দিন। লেখা না থাকলে তর্কটা হবে আপনার মুখের কথা বনাম কাস্টমারের মুখের কথা।
আর মাল কম এলে কে আগে পাবেন, সেই সিরিয়াল আগে থেকে ঠিক রাখুন। অর্ডারের সময় ধরে সাজানো লিস্ট থাকলে কাউকে বোঝাতে হয় না কেন তিনি পেলেন না। পরিচিত কাউকে আগে দিয়ে দিলে বাকিরা ঠিকই টের পান।
প্রি অর্ডারের টাকার হিসাব, এক চালানের উদাহরণ
এবার পুরো একটা চালান টাকায় দেখি। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। নিজের দাম বসিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।
ধরুন সেই কিচেন গ্যাজেটটা ১,৫০০ টাকায় বিক্রি করবেন, ডেলিভারি চার্জ কাস্টমার আলাদা দেবেন। সাপ্লায়ারের দাম, কার্গো আর ঢাকায় আনার খরচ মিলিয়ে একটা পিস দোকানে আসতে পড়ে ৮৫০ টাকা। প্রি অর্ডার এলো ৪০টা, প্রত্যেকে অগ্রিম দিলেন ১০০ টাকা। এই ৪০টা অর্ডার আনতে অ্যাডে গেছে ৬,০০০ টাকা। আপনি ৪০টার সাথে ৬টা বেশি মিলিয়ে ৪৬টা আনালেন।
মাল কেনার দিনে হিসাবটা দাঁড়ায় এমন। ৪৬ × ৮৫০ = ৩৯,১০০ টাকা যাবে সাপ্লায়ার আর কার্গোতে, আর অ্যাডের ৬,০০০ টাকা আগেই গেছে। হাতে অগ্রিম এসেছে ৪০ × ১০০ = ৪,০০০ টাকা। মানে মাল আসার আগেই নিজের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে ৪১,১০০ টাকা, আর এই টাকা তিন-চার সপ্তাহ আটকে থাকবে। ওপরে যে কথাটা বলেছিলাম, প্রি অর্ডার পুঁজি দেয় না, সেটা এই সংখ্যায় নিজের চোখে দেখুন।
চালান এক সপ্তাহ দেরি হলো। ৪ জন অপেক্ষা না করে টাকা ফেরত চাইলেন, তাঁদের ৪০০ টাকা ফেরত গেল। বাকি ৩৬টা পার্সেল গেল, প্যাকেটে প্রতিটায় ২০ টাকা করে মোট ৭২০ টাকা। ৩৫টা ডেলিভারি হলো, ১টা দরজা থেকে ফেরত এলো। ফেরত আসা পার্সেলের যাওয়া-আসার চার্জ মিলিয়ে ধরুন ১৫০ টাকা, আর শর্তে লেখা ছিল বলে তাঁর ১০০ টাকা অগ্রিম সেই চার্জে ধরা হলো। কুরিয়ারের COD চার্জ এখানে ধরছি না, নিজের রেটটা বসিয়ে নেবেন।

এবার শেষ হিসাব। ডেলিভারি হওয়া ৩৫টা থেকে লাভ ৩৫ × (১,৫০০ − ৮৫০) = ২২,৭৫০ টাকা। এর থেকে অ্যাড ৬,০০০, প্যাকেট ৭২০ আর ফেরতের চার্জ ১৫০ বাদ দিন, রাখা অগ্রিমের ১০০ যোগ করুন। দাঁড়ায় ১৫,৯৮০ টাকা। শুনতে ভালোই লাগছে, তাই না? কিন্তু এবার দেখুন নগদ টাকা কোথায়। মোট এসেছে অগ্রিমের ৪,০০০ আর কুরিয়ার থেকে ৩৫ × ১,৪০০ = ৪৯,০০০, মানে ৫৩,০০০ টাকা। মোট গেছে ৩৯,১০০ + ৬,০০০ + ৭২০ + ১৫০ + ৪০০ = ৪৬,৩৭০ টাকা। হাতে নগদ বাড়ল মাত্র ৬,৬৩০ টাকা।
বাকি ৯,৩৫০ টাকার লাভ বসে আছে তাকে, ১১টা পিসের ভেতরে। ৬টা বেশি আনা, ৪টা বাতিল হওয়া আর ১টা ফেরত আসা মিলে ১১টা, কেনা দামে ১১ × ৮৫০ = ৯,৩৫০ টাকা। এগুলো সাধারণ স্টক হিসেবে বিক্রি হলে তবেই পুরো লাভটা হাতে আসবে। তাই বেশি আনার অঙ্কটা ছোট রাখুন, প্রথম চালানে লিস্টের ওপরে দশ-পনেরো ভাগের বেশি না। আর পুরো সময়টায় সংসার আর অ্যাড চালানোর টাকা আলাদা করে রাখুন, কারণ কুরিয়ারের টাকা হাতে আসতে আসতে মাল আসার পরেও আরও কয়েকটা দিন চলে যায়।
প্রি অর্ডার কার জন্য না?
প্রি অর্ডার সবার জন্য না, আর এটা আগে জেনে নেওয়াই ভালো। নিচের কোনো একটা অবস্থা আপনার সাথে মিললে এখনই শুরু না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
চালানের পুরো টাকা যদি নিজের পকেটে না থাকে, একটু অপেক্ষা করুন। ওপরের হিসাবে দেখলেন, অগ্রিমে চালানের দশ ভাগের এক ভাগও আসে না। ধার করে চালান আনলে এক সপ্তাহের দেরিতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, কারণ পাওনাদার তো কার্গোর খবর শুনে বসে থাকবেন না। যত টাকা নিজের আছে, প্রথম চালান তার মধ্যেই রাখুন।
পেজটা একেবারে নতুন হলেও একটু থামুন। যে পেজ কেউ চেনে না, তাকে টাকা দিয়ে তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে মানুষ ভয় পান, আর সেটা খুবই স্বাভাবিক। আগে হাতে থাকা মাল দিয়ে কয়েক মাস বিক্রি করুন, কিছু রিভিউ আর কিছু পুরনো কাস্টমার জমান। তারপর প্রি অর্ডার খুলুন, আর প্রথম খবরটা দিন পুরনো কাস্টমারদের।
কাস্টমারের সাথে নিয়মিত কথা বলার সময় না থাকলে সংখ্যাটা ছোট রাখুন। প্রি অর্ডার মানে তিন-চার সপ্তাহ ধরে চল্লিশজনকে খবর দেওয়া, প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আর ফেরত সামলানো। চাকরির পাশে একা চালালে প্রথম চালানে অর্ডারের সংখ্যা বেঁধে দিন, যেমন ২০টা হলেই লিস্ট বন্ধ।
আর যদি "কাস্টমারের টাকায় ব্যবসা করব" ভেবে শুরু করতে চান, তাহলে একদমই না। এই ভাবনা থেকে মানুষ নিয়মের বেশি অগ্রিম নেন, আর সেই টাকা দিয়ে অন্য কাজ চালান। একটা চালান আটকালেই পুরো ব্যাপারটা ভেঙে পড়ে, সাথে ভাঙে পেজের নামও।
এর কোনোটাই আপনার বেলায় না খাটলে প্রি অর্ডার সত্যিই কাজের একটা রাস্তা। কম ঝুঁকিতে নতুন প্রোডাক্ট পরখ করা যায়। আর কথা রাখতে পারলে, যে কাস্টমার ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলেন, তিনি পরের চালানেও প্রথম দিনেই নাম লেখান।
WinningSeller-এ প্রি অর্ডারের অর্ডারগুলোতে "প্রি অর্ডার, চালান ১" এর মতো একটা ট্যাগ লাগিয়ে রাখলে ফিল্টার করে পুরো চালানের লিস্ট এক জায়গায় পাবেন, আর বাল্ক অ্যাকশনে একসাথে স্ট্যাটাস চেঞ্জ করতে পারবেন। নিজের SMS অ্যাকাউন্ট (BulkSMSBD, Alpha SMS বা MiM SMS) কানেক্ট করে চালু করে নিলে অর্ডারের পেজ থেকেই দেরির খবরের মতো SMS পাঠানো যায়। মাল হাতে এলে Steadfast, Pathao, RedX সহ ৬টা কুরিয়ারে এক ক্লিকে পার্সেল বুক হয়, আর সাপ্লায়ারের সাথে পারচেজ অর্ডারে চালানের হিসাবও রাখা যায়। বাকি সব ফিচারের লিস্টে দেখে নিন।
আজ একটা কাজ করে রাখুন। যে প্রোডাক্টটা প্রি অর্ডারে আনার কথা ভাবছেন, তার জন্য সাপ্লায়ার আর এজেন্টকে একটা প্রশ্ন করুন, "সবচেয়ে বেশি কত দিন লাগতে পারে?" উত্তরটার সাথে এক সপ্তাহ যোগ করুন। সেই সময়সীমা যদি কাস্টমারের অপেক্ষার মতো মনে হয়, তাহলে স্যাম্পল আনান। আর যদি মনে হয় এত দিন কেউ বসে থাকবেন না, তাহলে এই চালানটা না আনাই আপনার আজকের লাভ।
সাধারণ প্রশ্ন
প্রি অর্ডার মানে কি?
প্রি অর্ডার মানে প্রোডাক্ট দোকানে আসার আগেই অর্ডার দিয়ে রাখা। কাস্টমার আগে নাম লেখান, সেলার সেই হিসাবে মাল আনিয়ে একটা বলা সময়ের মধ্যে পাঠিয়ে দেন। বিদেশ থেকে আনা জিনিস, অর্ডার দিয়ে বানানো পাঞ্জাবি বা নতুন বইয়ে এভাবে বেশি বিক্রি হয়।
প্রি অর্ডারে কত টাকা অগ্রিম নেওয়া যায়?
প্রোডাক্টের দামের ১০ শতাংশের বেশি নেওয়া যায় না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১-এর ৩.২.১০ অনুচ্ছেদ বলছে, যে প্রোডাক্ট টাকা পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কুরিয়ারে দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই, তার দামের ১০%-এর বেশি অগ্রিম নেওয়া যাবে না। এর বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস দিয়ে নিতে হয়।
প্রি অর্ডারের মাল আসতে দেরি হলে কী করব?
তারিখ পার হওয়ার আগেই নিজে থেকে কাস্টমারকে জানান। সত্যি কারণটা বলুন, নতুন একটা সময়সীমা দিন, আর বলুন অপেক্ষা করতে না চাইলে সেদিনই অগ্রিম ফেরত দেবেন। অন্য প্রোডাক্ট নিতে চাপ দেবেন না, এতে রাগ আরও বাড়ে।
কাস্টমার প্রি অর্ডার বাতিল করতে চাইলে কি টাকা ফেরত দিতে হবে?
আপনার বলা সময়ে মাল দিতে না পারলে পুরো অগ্রিম ফেরত দিতে হবে, কাস্টমার যে পথে টাকা দিয়েছিলেন সেই পথে। মাল আসার আগে কেউ নিজে মত বদলালে কী হবে, সেটা আগে থেকে পোস্টের শর্তে লিখে রাখুন। ছোট অগ্রিম হলে ফেরত দিয়ে দেওয়াই ভালো, একটা খারাপ কমেন্টের দাম তার চেয়ে অনেক বেশি।
প্রি অর্ডারে কি পুরো টাকা আগে নেওয়া যায়?
নিজের bKash বা ব্যাংকে সরাসরি নিলে পারবেন না। হাতে না থাকা প্রোডাক্টে নির্দেশিকা দামের ১০% পর্যন্ত অগ্রিম মানে, বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিস লাগে। এসক্রো কীভাবে নেবেন সেটা নিজের পেমেন্ট গেটওয়ের কাছে জেনে নিন।
অল্প পুঁজিতে কি প্রি অর্ডার ব্যবসা করা যায়?
পুরোপুরি কাস্টমারের টাকায় করা যায় না। অগ্রিম ১০%-এর বেশি নেওয়া যায় না বলে চালানের বাকি নব্বই ভাগ টাকা আপনাকেই দিতে হয়। তাই প্রথম চালান ছোট রাখুন, যাতে নিজের টাকায় পুরোটা কিনতে পারেন আর মাল দেরি হলেও সংসারে টান না পড়ে।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


