মেলায় স্টল নিলে লাভ না লস? উদ্যোক্তা মেলা, এসএমই মেলার ভাড়া ও হিসাব
উদ্যোক্তা মেলা বা এসএমই মেলায় স্টল নেওয়ার আগে জেনে নিন কোন মেলা কাদের জন্য, ভাড়া আর কাগজ কী লাগে, দিনে কয়টা বেচলে খরচ ওঠে, আর মেলার ভিড় থেকে অনলাইনের রিপিট কাস্টমার কীভাবে বানাবেন।

এই লেখায় যা আছে
- এসএমই মেলা, বিসিক, উদ্যোক্তা মেলা আর বাণিজ্য মেলা, কোনটা কার জন্য
- স্টলের আবেদন, কাগজ আর ভাড়া
- দিনে কত বেচলে খরচ ওঠে, একটা হিসাব (উদাহরণ)
- কখন স্টল নেওয়া ঠিক না
- কত মাল নেবেন, কোনটা নেবেন না
- ছোট টেবিলে কী সামনে রাখবেন
- ক্যাশ, QR আর ভাংতি
- মেলার ভিড়কে অনলাইনের কাস্টমার বানাবেন যেভাবে (নম্বর, লিফলেট আর QR)
- মেলার পরের সাত দিনে কী করবেন
উদ্যোক্তা মেলা বা এসএমই মেলায় স্টল নিলে লাভ হবে নাকি লস, সেটা মেলায় গিয়ে বোঝার জিনিস না। টাকা দেওয়ার আগেই হিসাব করা যায়। স্টলের ভাড়া, মাল আনা-নেওয়া, হেল্পারের টাকা আর নিজেদের খাওয়া-যাতায়াত যোগ করে প্রতি পিসের লাভ দিয়ে ভাগ দিন। তাহলেই বুঝবেন দিনে কয়টা বেচলে খরচ ওঠে। আরেকটা কথা শুরুতেই জেনে রাখুন। এসএমই ফাউন্ডেশন আর বিসিকের মেলা শুধু তাঁদের জন্য, যাঁরা নিজেরা প্রোডাক্ট বানান। শুধু কিনে এনে বেচলে আপনার জায়গা বেসরকারি উদ্যোক্তা মেলা। আর মেলার আসল লাভটা অনেক সময় আসে মেলার পরে, যদি ভিড়ের মানুষগুলোকে নিজের অনলাইন কাস্টমার বানাতে পারেন।
ধরুন ফেসবুকে দেখলেন জেলা শহরে পাঁচ দিনের একটা মেলা হচ্ছে, স্টল ভাড়া দশ হাজার টাকা। মনে হলো, অনলাইনে তো দিনে পাঁচ-সাতটা অর্ডার আসে, মেলায় হাজার হাজার মানুষ, দশ হাজার টাকা উঠে যাবে। কিন্তু মেলার পাঁচ দিন মানে দুজন মানুষ সকাল দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত স্টলে বাঁধা। ওদিকে পেজের অর্ডার কনফার্ম করার লোক নেই, পার্সেল প্যাক হচ্ছে না। শেষ রাতে ক্যাশবক্স খুলে টাকা গুনতে বসে অনেকেই টের পান, ভিড় ঠিকই ছিল, খরচটা ওঠেনি। তাই দশ হাজার টাকা উঠবে কি না, সেটা আন্দাজে না, নিচের হিসাবে মেপে নিন।
এসএমই মেলা, বিসিক, উদ্যোক্তা মেলা আর বাণিজ্য মেলা, কোনটা কার জন্য
সবাই "মেলা" বলেন, কিন্তু চার রকম মেলার নিয়ম চার রকম, আর ভুল মেলায় আবেদন করলে স্টলই পাবেন না।
সবচেয়ে বড় সরকারি মেলাটা করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এসএমই ফাউন্ডেশন। ঢাকায় হয় একটা জাতীয় মেলা, আর জেলা বা বিভাগে হয় আঞ্চলিক মেলা। ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে ৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এর খবরে লেখা আছে, "১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা" হয়েছিল ৭ থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫, আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে, প্রায় সাড়ে তিনশো উদ্যোক্তা নিয়ে। একই খবরে শর্তটাও আছে। দেশে নিজেরা বানান বা সার্ভিস দেন, এমন মাইক্রো, ক্ষুদ্র আর মাঝারি উদ্যোক্তারাই স্টল পাবেন, বিদেশি বা আমদানি করা কোনো জিনিস দেখানো বা বেচা যাবে না।
বিসিক, মানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনও নিজেদের মেলা করে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে বিসিকের ওয়েবসাইটের নোটিশ পেজে 'বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬'-এর বিজ্ঞপ্তি আছে। মেলাটা ৭ থেকে ১১ অক্টোবর, তেজগাঁওয়ের বিসিক ভবনে, সর্বোচ্চ ৬০টা স্টল নিয়ে। শর্তও প্রায় একই। বিজ্ঞপ্তিতে লেখা, বিদেশি জিনিস বা শুধু অন্যের বানানো জিনিস মেলায় দেখানো বা বেচা যাবে না, শর্ত ভাঙলে মেলা চলার মধ্যেই কোনো নোটিশ ছাড়া স্টল বাতিল হবে।
তৃতীয় রকমটা বেসরকারি উদ্যোক্তা মেলা। ফেসবুক গ্রুপ, উদ্যোক্তাদের সংগঠন, শপিং মল, ক্লাব বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এগুলো করেন। ভাড়া একেক জায়গায় একেক রকম। যাঁরা কিনে এনে বেচেন, তাঁদের জন্য সাধারণত এটাই একমাত্র দরজা। তবে এখানে নিয়ম বলতে আয়োজকের লেখা শর্তটুকুই।
আর আছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, যেটা চালায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB), জানুয়ারি মাসজুড়ে। ব্যুরোর পরিচিতির পেজে সবচেয়ে ছোট স্টল ১৫ × ২০ ফুট আর দেশি অংশগ্রহণকারীর ভাড়া ১,১০,০০০ টাকা লেখা, যদিও পেজটা শেষ আপডেট হয়েছে ২০১৯ সালে। এটা বড় কোম্পানির মেলা, নতুন সেলারের প্রথম মেলা না।
নতুন সেলারদের প্রথম ভুলটা সাধারণত এখানেই হয়। "সরকারি মেলা" লেখা পোস্ট দেখে আমদানি করা গ্যাজেট বা কসমেটিকস নিয়ে আবেদন করেন, তারপর বাছাইয়ে বাদ পড়েন। কিনে এনে বেচলে বেসরকারি মেলা খুঁজুন, তবে আয়োজককে যাচাই না করে টাকা দেবেন না।
স্টলের আবেদন, কাগজ আর ভাড়া
সরকারি মেলার আবেদন হয় বিজ্ঞপ্তি দেখে, নির্দিষ্ট ফর্মে, নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে। বিসিকের শরৎ মেলার বিজ্ঞপ্তি এসেছিল মেলার মাত্র আট দিন আগে, ২৯ সেপ্টেম্বর, আর আবেদনের শেষ দিন ছিল ১ অক্টোবর। অন্যদিকে এসএমই ফাউন্ডেশন ২০২৫ সালের জাতীয় মেলার আবেদন চেয়েছিল জুন মাসে, শেষ দিন ছিল ১৫ জুলাই। তাই smef.gov.bd আর bscic.gov.bd-এর নোটিশ পেজ মাসে অন্তত দুবার খুলে দেখুন।
কাগজ মোটামুটি একই। বিসিকের শরৎ মেলার বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া হয়েছে ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র, বিসিক রেজিস্ট্রেশন আর বিসিকের ট্রেনিং সার্টিফিকেট (এই দুটো থাকলে), আর ছবি। এসএমই ফাউন্ডেশনের ২০২৩ সালের রাজশাহী বিভাগীয় মেলার ফর্মে এর সাথে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটও চাওয়া হয়েছিল। ট্রেড লাইসেন্স না থাকলে সরকারি মেলার দরজা প্রায় বন্ধ, তাই কাজটা আগে সেরে রাখুন।
অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে লেখা ভাড়ার কয়েকটা উদাহরণ দেখুন।
| মেলা (বিজ্ঞপ্তি যেখানে) | স্টলের মাপ | ফি |
|---|---|---|
| বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬, ৫ দিন (bscic.gov.bd) | বিজ্ঞপ্তিতে লেখা নেই | বিসিকে রেজিস্টার্ড ৫,০০০, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ১০,০০০ টাকা, ভ্যাট আর উৎসে করসহ |
| ১২তম জাতীয় এসএমই মেলা ২০২৫ (smef.gov.bd) | ৮ × ৮ ফুট | ২৫,০০০ টাকা, খাবারের খোলা স্টল ৪০,০০০ টাকা |
| বিভাগীয় এসএমই মেলা ২০২৩, রাজশাহী (smef.gov.bd) | ৮ × ৮ ফুট | ৩,০০০ টাকা |
ফি জমা হয় ব্যাংকের পে-অর্ডারে, আয়োজকের নামে। পে-অর্ডার বানাতে ব্যাংকে নিজে যেতে হয়, আর আয়োজকের নামের বানানে এক অক্ষর ভুল হলেও সেটা আবার বানাতে হয়। শেষ দিনের জন্য এই কাজ ফেলে রাখলে ব্যাংকের লাইনেই সময় ফুরিয়ে যায়। তাই বিজ্ঞপ্তি দেখার দিনই কাগজের ফটোকপি আর পে-অর্ডার একসাথে রেডি করুন।

টাকা নিয়ে আরেকটা সাবধানতা। এসএমই ফাউন্ডেশনের ২০২৫ সালের বিজ্ঞপ্তিতে লাল অক্ষরে সতর্ক করা আছে, স্টলের জন্য কারও সাথে নগদে বা bKash-সহ কোনো মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন করবেন না। তাই কেউ ফোন করে "স্টল কনফার্ম, আজই bKash-এ টাকা পাঠান" বললে সেখানেই থামুন।
শর্তের ছোট লাইনগুলোও পড়ুন। বিসিকের শর্তে লেখা, স্টল পাওয়ার পর না গেলে ফি ফেরত হবে না, স্টল অন্য কাউকে ভাড়া দেওয়া যাবে না, আর মেলার পুরো সময় একজনকে স্টলে থাকতেই হবে। এসএমই ফাউন্ডেশনের ২০২৩ সালের শর্তে ছিল, প্রতিটা স্টলে দুটো চেয়ার, একটা টেবিল আর একটা পাওয়ার সকেট দেওয়া হবে, হিটার বা ফ্রিজের মতো বেশি বিদ্যুতের জিনিস চালানো যাবে না। আর চুরি হলে আয়োজক দায় নেবেন না, এটা দুই জায়গাতেই লেখা।
বেসরকারি মেলায় এই প্রশ্নগুলো আয়োজককে নিজে করুন। স্টলে লাইট আর সকেট আছে কি না, রাতে পাহারা কে দেবে, মেলা পিছিয়ে গেলে টাকার কী হবে, আর একই রকম প্রোডাক্টের কয়টা স্টল থাকবে। পাশাপাশি পাঁচটা একই জিনিসের স্টল থাকলে দামের লড়াইয়ে কারও লাভ থাকে না। মেলা পিছিয়ে যাওয়া সত্যিই হয়। এসএমই ফাউন্ডেশন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর নোটিশে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক এসএমই পণ্য মেলা স্থগিত করেছে, নতুন তারিখ পরে জানাবে বলেছে।
দিনে কত বেচলে খরচ ওঠে, একটা হিসাব (উদাহরণ)
দিনে কয়টা পিস বেচলে সব খরচ ওঠে, এই একটা সংখ্যা জানা থাকলে মেলার প্রথম দিন সন্ধ্যাতেই বুঝবেন আপনি ঠিক পথে আছেন কি না। নিচের সংখ্যাগুলো একটা উদাহরণ, কোনো দোকানের আসল হিসাব না। শুধু স্টল ফি-টা বিসিকের শরৎ মেলার রেজিস্ট্রেশন ছাড়া উদ্যোক্তার ফি থেকে নেওয়া।
ধরুন আপনার নিজের ছোট কারখানায় বানানো চামড়ার মানিব্যাগ আছে। পেজে দাম ৬৫০ টাকা, বানাতে আর বক্সে মিলিয়ে পড়ে ৩৮০ টাকা। তাহলে মেলায় একটা মানিব্যাগ বেচলে হাতে থাকে ২৭০ টাকা। মেলা পাঁচ দিনের।
পাঁচ দিনের খরচ ধরুন এমন। স্টল ফি ১০,০০০ টাকা। ব্যানার, প্রাইস ট্যাগ আর লিফলেট ২,৫০০ টাকা। মাল আনা-নেওয়ার পিকআপ ভাড়া ২,০০০ টাকা। একজন হেল্পার দিনে ৮০০ টাকা করে পাঁচ দিনে ৪,০০০ টাকা। আর দুজনের খাওয়া-যাতায়াত দিনে ৫০০ টাকা করে পাঁচ দিনে ২,৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে ১০,০০০ + ২,৫০০ + ২,০০০ + ৪,০০০ + ২,৫০০ = ২১,০০০ টাকা।

এবার ভাগ দিন। ২১,০০০ ÷ ২৭০ = প্রায় ৭৭.৮, মানে ৭৮টা মানিব্যাগ বেচলে খরচ ওঠে। পাঁচ দিনে ভাগ করলে দিনে প্রায় ১৬টা। এটাই আপনার দিনের টার্গেট।
যদি দিনে ১২টা করে বেচেন, পাঁচ দিনে ৬০টা। হাতে আসে ৬০ × ২৭০ = ১৬,২০০ টাকা, অর্থাৎ খরচের চেয়ে ৪,৮০০ টাকা কম। যদি দিনে ২০টা করে বেচেন, পাঁচ দিনে ১০০টা। হাতে আসে ১০০ × ২৭০ = ২৭,০০০ টাকা, খরচ বাদে লাভ ৬,০০০ টাকা। দিনে মাত্র আটটা পিসের ফারাকে লস থেকে লাভে চলে গেলেন, মেলার হিসাব এতটাই পাতলা। আর QR-এ নেওয়া টাকা থেকে মার্চেন্ট চার্জ কাটে, যেটা এই হিসাবে ধরা হয়নি, তাই আপনার আসল টার্গেট এক-দুইটা বেশি হতে পারে।
এখানে মেলার পরের লাভও ধরা হয়নি। ধরুন সেই ৬০ জনের মধ্যে ৮ জন পরের দুই মাসে আপনার পেজ থেকে আবার একটা করে মানিব্যাগ বা বেল্ট নিলেন। এই অর্ডারগুলোয় অ্যাডের টাকা লাগেনি, তাই প্যাকেট আর কুরিয়ারের ছোটখাটো চার্জ বাদে ৮ × ২৭০ = ২,১৬০ টাকার প্রায় পুরোটাই বাড়তি। তাতে লস ৪,৮০০ থেকে কমে ২,৬৪০ টাকায় নামে। তবু লস। তাই "অনলাইনে পরে পুষিয়ে যাবে" ভেবে মেলার দিনের টার্গেট ছেড়ে দেবেন না।
টাকা দেওয়ার আগে টার্গেটটা যাচাই করার সহজ একটা উপায় আছে। একই আয়োজকের আগের মেলায় বা আশপাশের কোনো মেলায় একটা বিকেল কাস্টমার সেজে ঘুরে আসুন। আপনার মতো প্রোডাক্টের একটা স্টলের সামনে আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে গুনুন কয়জন থামলেন আর কয়জন আসলে টাকা বের করলেন। আমি নতুন সেলারদের স্টলের টাকা দেওয়ার আগে সবসময় এই কাজটাই আগে করতে বলি, কারণ এখানেই বোঝা যায় ভিড় মানেই বিক্রি না।
কখন স্টল নেওয়া ঠিক না
সব সেলারের জন্য মেলা না। চারটা অবস্থায় এবার বাদ দিন।
শুধু কিনে এনে বেচলে সরকারি মেলার কথা ভুলে যান। ওখানে স্টল পাবেন না, আর কোনোভাবে পেলেও ধরা পড়লে মেলার মাঝখানেই বাতিল।
পুরো মেলায় দুজন মানুষ দিতে না পারলেও যাবেন না। একা থাকলে নামাজে, খেতে বা টয়লেটে গেলেই স্টল ফাঁকা থাকে, আর ভিড়ের মেলায় ঠিক তখনই টেবিল থেকে জিনিস গায়েব হয়।
প্রতি পিসে লাভ খুব কম হলে আগে হিসাবটা কষে দেখুন। ১০০ টাকার জিনিসে ৩০ টাকা লাভ থাকলে ওই ২১,০০০ টাকা তুলতে ৭০০টা বেচতে হবে, মানে দিনে ১৪০টা। একটা ছোট টেবিল থেকে এটা প্রায় অসম্ভব।
আর মেলার দিনগুলোতে পেজের অর্ডার সামলানোর কেউ না থাকলে বাদ দিন। পাঁচ দিন ফোনে কনফার্ম না হলে, পার্সেল না গেলে কাস্টমার অন্য পেজ থেকে কিনে ফেলেন। তখন মেলার লাভের চেয়ে অনলাইনের লস বড় হয়ে যায়।
আমার অভিজ্ঞতায় মেলায় দামি জিনিস কম চলে। দুই-তিন হাজার টাকার জিনিস মানুষ হাতে নিয়ে দেখেন, তারপর "ভেবে দেখি" বলে চলে যান। মেলায় চলে সেই দামের জিনিস, যেটা হঠাৎ পছন্দ হলে পকেট থেকে টাকা বের করে কেনা যায়।
কত মাল নেবেন, কোনটা নেবেন না
মাল কম নিলে বিক্রি হারান, বেশি নিলে টানাটানিতে বক্স ভাঙে আর ধুলা জমে। নিয়মটা সহজ রাখুন। দিনের টার্গেটের দেড় গুণ ধরে প্রথম দুই দিনের মাল নিয়ে যান। ওপরের উদাহরণে দিনে ১৬টা, দেড় গুণ ২৪টা, দুই দিনে ৪৮টা। বাকি মাল বাসায় গোছানো থাকবে, প্রথম দিনের বিক্রি দেখে পরের মাল আনবেন।
অনেকে ভুলে যান, প্রথম বিক্রির আগেই পকেট থেকে কত বের হবে। স্টল ফি ১০,০০০ আর ব্যানার-লিফলেটের ২,৫০০ টাকা আগেই দিতে হয়। ওই ৪৮টা মানিব্যাগ নতুন করে বানাতে হলে আরও ৪৮ × ৩৮০ = ১৮,২৪০ টাকা। মানে মেলা শুরুর আগেই ৩০,৭৪০ টাকা আটকে যায়। এই টাকা পেজের অ্যাডের বাজেট থেকে টানবেন কি না, আগেই ঠিক করুন।
কোন মাল নেবেন, সেটা ঠিক করুন পেজের বিক্রি দেখে। গত দুই-তিন মাসে যে তিন-চারটা প্রোডাক্ট সবচেয়ে বেশি চলেছে, সেগুলোই নিন। মেলার ছোট টেবিল নতুন জিনিস পরীক্ষার জায়গা না। কাপড় বা জুতা হলে সব সাইজ নিন, কিন্তু প্রতিটা ডিজাইনের কম কম পিস। "আমার সাইজটা নেই" শুনে যে কাস্টমার চলে যান, তিনি আর ফেরেন না।
ভিড়ের ধাক্কায় ভাঙতে পারে এমন দামি জিনিস নেবেন না, ফ্রিজ লাগে এমন খাবারও না, কারণ সরকারি মেলার শর্তে ফ্রিজ চালানো নিষেধ। অন্য কোম্পানির নামকরা ব্র্যান্ডের কপি তো একদমই না। বিসিক আর এসএমই ফাউন্ডেশন দুজনের শর্তেই লেখা, মেলায় কোনো নকল জিনিস দেখানো বা বেচা যাবে না, আর কপিরাইট বা ট্রেডমার্কের আইনি ঝামেলার দায় আয়োজক নেবেন না।
মেলা শেষে প্রায়ই দেখা যায় খাতায় বিক্রি ৬০টা, অথচ বক্সে কম ৬৫টা। ঠেকাতে টেবিলে শুধু দেখানোর মাল রাখুন, বাকিটা মুখ টেপ মারা কার্টনে টেবিলের নিচে। কার্টনের গায়ে লিখুন কী আছে আর কয়টা। রোজ রাতে স্টল বন্ধ করার আগে দুজন মিলে গুনুন, খাতার বিক্রির সাথে মেলান। এক দিনের গরমিল ধরা সহজ, পাঁচ দিনেরটা প্রায় অসম্ভব।

আর শেষ দিনের লোভটা সামলান। মেলার শেষ বিকেলে অনেক স্টলে "সব অর্ধেক দামে" ঝোলে। ওপরের উদাহরণে অর্ধেক দাম মানে ৩২৫ টাকা, অথচ বানাতেই পড়েছে ৩৮০, মানে প্রতি পিসে ৫৫ টাকা লস। তার চেয়েও বড় ক্ষতি, মানুষ শিখে যান আপনার জিনিস শেষ দিনে অর্ধেক দামে মেলে, আর পরের মেলায় প্রথম চার দিন শুধু দেখে যান। বাকি মাল ফেরত নিয়ে পেজে বেচুন।
ছোট টেবিলে কী সামনে রাখবেন
৮ × ৮ ফুটের স্টলে আসলে কাজের জায়গা সামনের টেবিলটা। মানুষ হাঁটতে হাঁটতে দুই-তিন সেকেন্ড তাকান, তার মধ্যেই ঠিক করেন থামবেন কি না। তাই সবচেয়ে বেশি চলা জিনিসটা টেবিলের মাঝখানে, চোখের কাছাকাছি উঁচুতে রাখুন। একটা জুতার বক্স উল্টে তার ওপর রাখলেই কাজ হয়।
প্রতিটা জিনিসে দামের ট্যাগ দিন। অনেক মানুষ দাম জিজ্ঞেস করতে লজ্জা পান, বা ভাবেন দাম শুনে না কিনলে খারাপ দেখাবে। তাই দাম লেখা না থাকলে তাঁরা কিছু না বলে পাশের স্টলে চলে যান। ট্যাগের দাম আর পেজের দাম এক রাখুন। মেলায় কম দাম দিলে আপনার অনলাইনের কাস্টমার পরে জেনে ভাববেন তাঁকে ঠকানো হয়েছে।

একটা খোলা স্যাম্পল রাখুন, যেটা মানুষ হাতে নিয়ে দেখতে পারেন। মানিব্যাগের ভেতরের খোপ, আচারের স্বাদ, আতরের গন্ধ বা কাপড়ের বুনন, এগুলো ছুঁয়ে বা চেখে না দেখলে মানুষ কেনেন না। পেছনের দেয়ালে একটা ব্যানার দিন, যাতে দোকানের নাম আর পেজের নাম বড় করে লেখা। মেলায় মানুষ যত কেনেন, তার চেয়ে বেশি মনে রাখেন, আর পরে পেজ খোঁজেন এই নামেই।
টেবিলের সামনের রাস্তায় কিছু রাখবেন না, আর গেটে দাঁড়িয়ে লিফলেট বিলি করবেন না। এসএমই ফাউন্ডেশন আর বিসিক দুজনের শর্তেই প্রচারের কাগজ দেওয়া যায় শুধু নিজের স্টলের ভেতরে।
ক্যাশ, QR আর ভাংতি
মেলার প্রথম ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি যেটা দরকার হয়, সেটা ভাংতি। কেউ ৬৫০ টাকার জিনিস নিয়ে ১,০০০ টাকার নোট দিলেন, আপনার কাছে ফেরত দেওয়ার ৩৫০ টাকা নেই। পাশের স্টলে ভাংতি চাইতে গেলেন, এর মধ্যে তিনি চলে গেলেন। তাই প্রথম দিন সকালে ১০, ২০, ৫০ আর ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে কয়েক হাজার টাকার ভাংতি সাথে নিন। দাম রাখুন গোল সংখ্যায়, যেমন ৬৪৫ না রেখে ৬৫০, তাতে ভাংতির টানাটানি কমে।
টাকা ধরবেন একজনই। দুজনে মিলে টাকা নিলে রাতে হিসাব মেলে না। একজন কাস্টমারের সাথে কথা বলবেন আর জিনিস দেখাবেন, আরেকজন শুধু টাকা নেবেন, ভাংতি দেবেন আর খাতায় লিখবেন। ক্যাশবক্স থাকবে টেবিলের পেছনে, সামনের দিকে না। ৫০০ আর ১,০০০ টাকার নোট নেওয়ার সময় আলোয় ধরে জলছাপ আর নিরাপত্তা সুতা দেখে নিন। সন্ধ্যার ভিড়ে এই কাজটাই সবার আগে বাদ পড়ে।

অনেকে এখন নগদ না দিয়ে QR স্ক্যান করে দিতে চান। তাই একটা মার্চেন্ট QR প্রিন্ট করে টেবিলে রাখুন। মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, কাগজ আর চার্জের পুরো কথা bKash মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের লেখায় আছে। পেমেন্ট হয়েছে কি না দেখবেন নিজের ফোনে, কাস্টমারের ফোনের স্ক্রিনে না। কেউ স্ক্রিন দেখিয়ে "দিয়ে দিয়েছি ভাই" বললে বিনয়ের সাথে বলুন, "এক সেকেন্ড ভাই, আমার ফোনে আসুক।" ভিড়ের মধ্যে পুরনো স্ক্রিনশট দেখিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা মেলায় ঘটে।
রাতে স্টল বন্ধের আগে তিনটা সংখ্যা মেলান। খাতায় লেখা বিক্রি, ক্যাশবক্সের টাকা আর QR-এ আসা টাকা। দিনের টাকা স্টলে রেখে যাবেন না। আয়োজক রাতে পাহারা রাখলেও চুরির দায় নেন না, এটা শর্তেই লেখা থাকে।
মেলার ভিড়কে অনলাইনের কাস্টমার বানাবেন যেভাবে (নম্বর, লিফলেট আর QR)
মেলায় যিনি জিনিস ছুঁয়ে দেখে কিনেছেন, তিনিই আপনার সবচেয়ে ভরসার কাস্টমার। আপনাকে সামনাসামনি দেখেছেন, তাই অনলাইনের সন্দেহটা তাঁর নেই। কিন্তু মেলা শেষ হলে তিনি ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যান, যদি না তাঁর নম্বরটা আপনার কাছে থাকে। তাই আমি মেলার নম্বরের খাতাটাকে ক্যাশবক্সের মতোই যত্নে রাখতে বলি।
তাই প্রতিটা বিক্রির পর ক্যাশের মানুষটা একটা খাতায় চারটা জিনিস লিখবেন। নাম, মোবাইল নম্বর, কী কিনলেন আর কোন এলাকা থেকে এসেছেন। নম্বর চাওয়ার সময় কারণটা বলুন, আর জোর করবেন না। "ভাই, নম্বরটা দিলে মানিব্যাগে কোনো সমস্যা হলে আমরা ফোন দিয়ে খোঁজ নেব, আর নতুন ডিজাইন এলে জানাব।" কেউ দিতে না চাইলে হাসিমুখে ছেড়ে দিন। অনুমতি ছাড়া পাওয়া নম্বরে পরে অফারের ফোন বা SMS দেবেন না, এতে দোকানের নাম খারাপ হয়।
যাঁরা কেনেননি কিন্তু অনেকক্ষণ দেখেছেন, তাঁদের হাতে একটা ছোট লিফলেট দিন। ভিজিটিং কার্ডের চেয়ে একটু বড় রাখুন, যাতে পকেটে ঢোকে। বড় লিফলেট মানুষ গেট পার হওয়ার আগেই ফেলে দেন। লিফলেটে চারটা জিনিস থাকবে। দোকানের নাম, পেজের নাম, ওয়েবসাইটে যাওয়ার QR আর মেলার জন্য আলাদা একটা কুপন কোড। ডিজাইনের কাজটা Canva-তেই সারতে পারেন, সাইজ আর লেখা সাজানোর নিয়ম Canva দিয়ে অফার পোস্টার বানানোর লেখায় আছে।

QR কোডটা কোথায় নিয়ে যায়, সেটা প্রিন্টের আগে নিজের ফোনে স্ক্যান করে দেখুন। এক হাজার লিফলেট ছাপানোর পর ভুল লিংক ধরা পড়লে পুরো টাকাটাই যায়। আর QR-টা পেজে না দিয়ে নিজের ওয়েবসাইটে নিন, যাতে মানুষ সেখানেই দাম দেখে অর্ডার দিতে পারেন।
কুপন কোডটা মেলার জন্য আলাদা রাখুন, তাহলে মেলা থেকে কয়টা অনলাইন অর্ডার এল সেটা গোনা যায়। কোডটা ছোট আর মুখে বলা যায় এমন রাখুন, যেমন MELA10, আর শেষ তারিখ দিন মেলার এক মাস পর। ছাড় কত দেবেন আর এক নম্বরে কতবার, সেই হিসাব কুপন কোডের লেখায় আছে।
WinningSeller-এ কুপন শুরুতে বন্ধ থাকে। চালু করে নিলে মেলার জন্য একটা কোড বানাতে পারবেন, শুরু আর শেষের তারিখ, মোট কতবার আর এক নম্বরে কতবার ঠিক করে দিয়ে। কাস্টমার ওয়েবসাইটের অর্ডার ফর্মে কোডটা লিখলে ছাড়টা নিজে থেকেই হিসাব হয়, আর প্রতিটা অর্ডারে কোডটা লেখা থাকে। তাই মেলা শেষে এক জায়গায় দেখে নেন MELA10 দিয়ে কয়টা অর্ডার এল।
মেলার পরের সাত দিনে কী করবেন
মেলা শেষে সবাই ক্লান্ত, আর এই ফাঁকেই মেলার কাস্টমাররা হারিয়ে যান। তাই সাত দিনের কাজ আগেই ঠিক করে রাখুন।
মেলা শেষের পরদিনই মোট বিক্রি, বাকি স্টক আর খরচ এক পাতায় লিখে ফেলুন। দেখুন দিনের টার্গেট পূরণ হয়েছিল কি না, আর কোন জিনিস বেশি চলল। পরের মেলার আগে এই পাতাটাই সবচেয়ে কাজে লাগবে।
দ্বিতীয় দিনে পাঠান মেলায় নেওয়া ডেলিভারির অর্ডারগুলো। মেলায় অনেকে বলেন, "ভাই, এই রংটা নেই? বাসায় পাঠিয়ে দিতে পারবেন?" এমন অর্ডার মেলার দিনই খাতায় লিখে রাখুন, আর ডেলিভারি চার্জটা সেখানেই অগ্রিম নিয়ে নিন। মেলা শেষে আগে এগুলো পাঠান। দেরি হলে মানুষটার আগ্রহ মেলার সাথেই ফুরিয়ে যায়।
WinningSeller-এ এই অর্ডারগুলো অর্ডারের পেজের "নতুন অর্ডার" থেকে হাতে তোলা যায়। অগ্রিম কত নিলেন সেটা লিখে দিলে কুরিয়ার বাকি টাকাটাই তুলবে, আর ওই পিসগুলো স্টক থেকে সাথে সাথে কমে যায়। তবে মেলার টেবিলে নগদে যা বেচলেন, সেগুলো নিজে থেকে কমে না, তাই রাতের গোনার পর প্রোডাক্টের স্টকের সংখ্যাটা হাতে মিলিয়ে দিন। পার্সেলটা তারপর এক ক্লিকে কুরিয়ারে বুক করা যায়।
তৃতীয় দিনে স্টল আর ভিড়ের কয়েকটা ছবি দিয়ে পেজে একটা পোস্ট দিন, যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের ধন্যবাদ জানান, আর লিখুন MELA10 কোডটা কবে পর্যন্ত চলবে।
সাত দিনের মাথায় খাতার নম্বরগুলোতে একটা ছোট খোঁজ নেওয়ার ফোন দিন। "ভাই, মেলায় আমাদের স্টল থেকে একটা মানিব্যাগ নিয়েছিলেন, কেমন লাগছে?" এই ফোনে কিছু বেচার চেষ্টা করবেন না, শুধু খোঁজ নিন আর কোনো সমস্যা থাকলে মিটিয়ে দিন। কাকে কবে ফোন দেবেন আর কী বলবেন, সেই পুরো নিয়ম পুরনো কাস্টমারকে আবার বিক্রির লেখায় আছে। WinningSeller-এ "নতুন অর্ডার" দিয়ে তোলা অর্ডারের পার্সেল ডেলিভারি হলে, কয়েক দিন পরে সেই কাস্টমার নিজে থেকেই ফলোআপ কলের লিস্টে চলে আসেন। কত দিন পরে আসবেন, সেটা আপনি ঠিক করে দেন। যাঁরা মেলায় নগদে কিনে হাতে নিয়ে গেছেন, তাঁদের জন্য খাতাটাই ভরসা, তাই ওটা হারাবেন না।
এই লেখার সব ফি আর শর্ত ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিক আর EPB-র নিজেদের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া। সেদিন পর্যন্ত এসএমই ফাউন্ডেশনের নোটিশ পেজে ২০২৬ সালের জাতীয় মেলার আবেদনের বিজ্ঞপ্তি আসেনি। নিয়ম প্রতি মেলায় আলাদা আর প্রতি বছর বদলায়, তাই আবেদনের আগে ওই মেলার বিজ্ঞপ্তিটা পড়ুন, আর প্রশ্ন থাকলে শুধু বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নম্বরেই ফোন করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
উদ্যোক্তা মেলায় স্টল ভাড়া কত?
একেক মেলায় একেক রকম, তাই প্রতিবার ওই মেলার বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন। সরকারি দুটো উদাহরণ দিই। বিসিকের ওয়েবসাইটে 'বিসিক শরৎ মেলা-২০২৬'-এর বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ দিনের স্টল ফি বিসিকে রেজিস্টার্ড উদ্যোক্তার জন্য ৫,০০০ টাকা আর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া উদ্যোক্তার জন্য ১০,০০০ টাকা লেখা। এসএমই ফাউন্ডেশনের ২০২৫ সালের জাতীয় মেলার বিজ্ঞপ্তিতে ৮ × ৮ ফুটের স্টলের ফি ছিল ২৫,০০০ টাকা।
এসএমই মেলায় কারা স্টল পায়?
যাঁরা দেশে নিজেরা প্রোডাক্ট বানান বা সার্ভিস দেন, এমন মাইক্রো, ক্ষুদ্র আর মাঝারি উদ্যোক্তারা। এসএমই ফাউন্ডেশন আর বিসিক দুজনের বিজ্ঞপ্তিতেই লেখা আছে, বিদেশি বা আমদানি করা জিনিস মেলায় দেখানো বা বেচা যাবে না। আবেদন বাছাই করে স্টল দেওয়া হয়, তাই আবেদন করলেই স্টল পাবেন, এমন না।
মেলায় স্টল নিতে কী কী কাগজ লাগে?
সাধারণত ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন আর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, সাথে ছবি। কোনো কোনো মেলায় ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বা বিসিক রেজিস্ট্রেশনের কাগজও চায়। ঠিক কী লাগবে সেটা ওই বছরের বিজ্ঞপ্তিতে লেখা থাকে, আর ফি দিতে হয় ব্যাংকের পে-অর্ডারে।
শুধু রিসেল করলে কি মেলায় স্টল নেওয়া যায়?
এসএমই ফাউন্ডেশন বা বিসিকের মেলায় না। বিসিকের ২০২৬ সালের শর্তে স্পষ্ট লেখা, শুধু অন্যের বানানো জিনিস মেলায় বেচা যাবে না। বেসরকারি উদ্যোক্তা মেলায় অনেক সময় পারবেন, তবে টাকা দেওয়ার আগে আয়োজকের শর্তটা লিখিত দেখে নিন।
মেলায় কত টাকার মাল নিয়ে যাব?
আগে হিসাব করুন দিনে কয়টা বেচলে খরচ ওঠে। প্রথম দুই দিনে সেই সংখ্যার দেড় গুণ মাল নিয়ে যান, বাকিটা বাসায় বা গোডাউনে গোছানো রাখুন। রোজ রাতে স্টক গুনে পরের দিনের মাল আনুন, তাতে না বিক্রি হওয়া মাল টানাটানিতে নষ্ট হয় না।
মেলার কাস্টমারকে অনলাইনে কীভাবে ধরে রাখব?
প্রতিটা বিক্রির সময় অনুমতি নিয়ে নাম, নম্বর আর কী কিনলেন একটা খাতায় লিখুন। সাথে একটা ছোট লিফলেট দিন, যাতে পেজের নাম, ওয়েবসাইটের QR আর মেলার জন্য আলাদা একটা কুপন কোড থাকে। মেলার এক সপ্তাহ পরে খোঁজ নেওয়ার ফোন দিন, তাহলে পরের কেনাটা অনলাইনেই আসে।
আরও পড়ুন
ওয়েবসাইটের মেনু আর ফুটারে কী রাখবেন? অনলাইন দোকানের জরুরি পেজসহ
ওয়েবসাইটের মেনুতে কয়টা লিংক রাখবেন, হেডারে কল আর WhatsApp বাটন কেন, ফুটারে ঠিকানা আর ট্রেড লাইসেন্স নম্বর কোথায় বসবে, আর About, যোগাযোগ, ডেলিভারি ও রিটার্নের পেজে কী লিখবেন। ফোনে দোকান খুলে এক ঘণ্টায় গুছিয়ে নেওয়ার পুরো নিয়ম।
গুগল সার্চ কনসোল কি? দোকানের ওয়েবসাইট গুগলে তুলবেন যেভাবে
গুগল সার্চ কনসোল হলো Google-এর ফ্রি টুল, যেখানে দেখা যায় কোন সার্চে আপনার দোকান আসছে আর কোন পেজ গুগলের লিস্টে আছে। নিজের ডোমেইনে DNS দিয়ে মালিকানা প্রমাণ, sitemap.xml সাবমিট, URL Inspection, "Not indexed" দেখলে কী করবেন, আর কোন পথ দোকানে আসলে কাজ করে না।
বিজনেস ক্যাপশন, ফেসবুকে সেল পোস্টে কী লিখলে অর্ডার আসে
ছবি সুন্দর, তবু ইনবক্সে সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে? সেল পোস্টের প্রথম দুই লাইনে কী লিখবেন, ক্যাপশনে কোন পাঁচটা কথা থাকতেই হবে, দাম লিখবেন কি না, নতুন মাল, অফার, স্টকে ফেরা আর রিভিউর চারটা নমুনা, আর কোন কথায় পোস্ট রিপোর্ট খায়।


