সাব ঢাকা মানে কি? সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জে ডেলিভারি চার্জ কত
কাস্টমার বলছেন ঢাকায় থাকেন, কুরিয়ার বলছে সাব ঢাকা। কোন এলাকা কোন ঘরে পড়ে, Steadfast, Pathao, RedX, Paperfly আর Carrybee সাব ঢাকায় কত নেয়, অর্ডার ফর্মে কয়টা দাম রাখবেন আর ভুল এলাকায় অর্ডার নিলে মাসে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।

এই লেখায় যা আছে
- সাব ঢাকা মানে কি, কুরিয়ার এলাকা কয় ভাগে ভাগ করে
- কোন এলাকা সাব ঢাকা, কোনটা ঢাকার ভেতরে (কুরিয়ার ধরে)
- সাব ঢাকায় কোন কুরিয়ারের চার্জ কত (অক্টোবর ২০২৬)
- কাস্টমারের কাছে দুই দাম না তিন দাম রাখবেন
- "আমি তো ঢাকাতেই থাকি" বললে কী বলবেন
- ভুল এলাকায় অর্ডার নিলে কত টাকা যায় (উদাহরণ)
- সাব ঢাকার পার্সেল কত দিনে পৌঁছায়
- আজই করে ফেলুন
সাব ঢাকা মানে হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বাইরের কিন্তু ঢাকার একদম পাশের এলাকা, যেমন সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, টঙ্গী আর নারায়ণগঞ্জ। কাস্টমার এগুলোকে ঢাকাই বলেন, কিন্তু কুরিয়ার এখানে আলাদা চার্জ নেয়। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর কুরিয়ারগুলোর নিজের ওয়েবসাইটে ১ কেজির পার্সেলে সাব ঢাকার চার্জ দেখা গেছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা, যেখানে ঢাকা সিটির ভেতরে ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা। আর সময়ও লাগে বেশি, সাধারণত দুই থেকে তিন দিন।
সকালে অর্ডার লিস্ট খুলে একটা অর্ডার দেখলেন, ঠিকানার ঘরে লেখা "ঢাকা, বাইপাইল"। আপনি ঢাকার ভেতরের চার্জ ধরলেন, কাস্টমারকে বললেন কালকেই পাবেন। কুরিয়ারের প্যানেলে এলাকা সিলেক্ট করতে গিয়ে দেখলেন বাইপাইল পড়েছে সাভারে, চার্জ ৩০ টাকা বেশি, আর ডেলিভারি পরশুর আগে না। এই ছোট গরমিলটা প্রায় প্রতিটা নতুন সেলারের সাথে হয়। নিচে আগে বুঝে নিই কুরিয়ার এলাকাগুলো কীভাবে ভাগ করে, তারপর কার চার্জ কত, অর্ডার ফর্মে কী লিখবেন আর ফোনে কী বলবেন।
সাব ঢাকা মানে কি, কুরিয়ার এলাকা কয় ভাগে ভাগ করে
ঢাকা থেকে পার্সেল পাঠালে বেশিরভাগ ই-কমার্স কুরিয়ার এলাকা তিন ভাগে ভাগ করে। প্রথম ভাগ ঢাকা সিটি, মানে উত্তর আর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভেতরের এলাকা। দ্বিতীয় ভাগ ঢাকার আশেপাশে, যেটাকে কুরিয়ার আর সেলাররা সাব ঢাকা, সাবআর্বান বা সাবার্ব বলেন। তৃতীয় ভাগ বাকি সারা দেশ।
নামটা একেক কুরিয়ারে একেক রকম। Pathao তাদের চার্জের টেবিলের বাংলা ট্যাবে লিখেছে "ঢাকার পার্শবর্তী এলাকায় ডেলিভারি", ইংরেজিতে "Suburbs Delivery"। Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে জেলার লিস্টে "Dhaka City"-র ঠিক নিচে আলাদা একটা ঘর আছে "Dhaka Sub-Urban" নামে। Paperfly লিখেছে "Periphery/Suburb", আর RedX-এর ওয়েবসাইটে চার্জের ট্যাবের নাম "শহরের নিকটবর্তী"। সবগুলো নামের মানে একটাই। জায়গাটা ঢাকার গা ঘেঁষে, কিন্তু কুরিয়ারের হিসাবে শহরের ভেতরে না।
এই ভাগ কেন? কারণ সাভার বা নারায়ণগঞ্জের পার্সেল ঢাকা শহরের রাইডার সাধারণত সরাসরি দিয়ে আসেন না। পার্সেল আগে ওই এলাকার হাবে যায়, সেখান থেকে আলাদা রাইডার বের হন। একটা বাড়তি হাত বদল মানে বাড়তি খরচ আর একটা দিন বেশি। কুরিয়ার সেই খরচটাই চার্জে যোগ করে।

সেলারের মাথায় এখানে একটা ভুল ধারণা থাকে। "ঢাকা জেলা" আর "ঢাকা সিটি" এক জিনিস না। সাভার, ধামরাই, দোহার, নবাবগঞ্জ আর কেরানীগঞ্জ ঢাকা জেলার ভেতরে, কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের বাইরে। আবার টঙ্গী গাজীপুর জেলায়, অথচ উত্তরার একদম লাগোয়া। কাস্টমার যে শব্দে ঠিকানা লেখেন, কুরিয়ার সেই শব্দে চার্জ ধরে না। চার্জ ঠিক হয় প্যানেলে যে এলাকা সিলেক্ট করবেন, তা দিয়ে।
কোন এলাকা সাব ঢাকা, কোনটা ঢাকার ভেতরে (কুরিয়ার ধরে)
এটাই সবচেয়ে বেশি খোঁজা প্রশ্ন, আর এখানে সৎ উত্তরটা হলো, সব কুরিয়ারের লিস্ট এক না। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিটা কুরিয়ারের নিজের ওয়েবসাইটে যা লেখা পেয়েছি, সেটাই নিচে দিলাম। লিস্টে নাম না থাকলে আন্দাজে বসাইনি।
Pathao তাদের কুরিয়ার পেজের চার্জের টেবিলে ঢাকার আশেপাশের ঘরে চারটা নাম লিখেছে, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ আর সাভার। ঢাকা মেট্রো থেকে এই চার জায়গায় পাঠালে বা এখান থেকে ঢাকা মেট্রোতে আনলে এই রেট ধরে।
Paperfly তাদের চার্জের পেজে ঢাকার মার্চেন্টদের জন্য "Periphery/Suburb" ঘরে ছয়টা নাম রেখেছে, সাভার, কেরানীগঞ্জ, দোহার, টঙ্গী, গাজীপুর আর নারায়ণগঞ্জ। খেয়াল করুন, এখানে টঙ্গী আর দোহার আলাদা করে লেখা।
Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা থেকে Gazipur, Narayanganj আর "Dhaka Sub-Urban" বাছলে একই রেট আসে, আর হিসাবের লাইনে লেখা ওঠে "Dhaka to Gazipur, Narayanganj or Dhaka suburbs"। কিন্তু "Dhaka Sub-Urban" ঘরে কোন কোন জায়গা পড়ে, সেই লিস্ট পেজে লেখা নেই। তাদের কভারেজ ম্যাপের ডেটায় ঢাকা জেলার নিচে সাভার (আশুলিয়া, আমিনবাজার, বিরুলিয়া এর ভেতরে), কেরানীগঞ্জ, ধামরাই, দোহার আর নবাবগঞ্জ আলাদা উপজেলা হিসেবে আছে। তাই এগুলোর অর্ডারে প্যানেলে এলাকা সিলেক্ট করে চার্জটা মিলিয়ে নিন।
RedX-এর ওয়েবসাইটে "শহরের নিকটবর্তী" এলাকার চার্জ আছে, কিন্তু কোন এলাকা এর ভেতরে, তার নাম লেখা নেই। Carrybee-র ক্যালকুলেটর শুধু জেলা ধরে হিসাব করে, সেখানে ঢাকা থেকে Gazipur আর Narayanganj-এর রেট আলাদা আসে, কিন্তু সাভার বা কেরানীগঞ্জ ঢাকা জেলার ভেতরে বলে ক্যালকুলেটরে আলাদা করে দেখা যায় না। eCourier-এর দামের পেজে সাব ঢাকার আলাদা কোনো ঘরই নেই, আছে ঢাকার ভেতরে, ঢাকার বাইরের মেট্রো আর থানা-ইউনিয়ন। এই তিনটার বেলায় একটাই রাস্তা। প্যানেলের এলাকা লিস্টে দেখে নিন, বা KAM-কে লিখে জিজ্ঞেস করুন।

এখান থেকে একটা কাজের নিয়ম বের হয়। গাজীপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া আর কেরানীগঞ্জকে আপনার দোকানের হিসাবে সবসময় ঢাকার আশেপাশে ধরুন। দোহার, ধামরাই আর নবাবগঞ্জের অর্ডার এলে প্যানেলে আগে দেখে নিন, কারণ এগুলো দূরে, আর কোনো কুরিয়ার এগুলো ঢাকার বাইরের রেটেও ধরতে পারে। আর পূর্বাচল, উত্তরখান, দক্ষিণখান বা ডেমরার মতো সীমানার জায়গাগুলোয় প্যানেলের ড্রপডাউনই শেষ কথা।
সাব ঢাকায় কোন কুরিয়ারের চার্জ কত (অক্টোবর ২০২৬)
নিচের সংখ্যাগুলো ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিটা কুরিয়ারের নিজের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া, ঢাকা থেকে পাঠানো ১ কেজি পর্যন্ত পার্সেলের হোম ডেলিভারি। Pathao আর Paperfly-র সংখ্যা ওদের চার্জের টেবিলে লেখা, RedX-এর সংখ্যা হোমপেজের চার্জের ট্যাবে। Steadfast আর Carrybee-র সংখ্যা কোনো টেবিলে লেখা নেই, ওদের ওয়েবসাইটের রেট ক্যালকুলেটরে দেখা। ক্যালকুলেটরের সংখ্যা আপনার অ্যাকাউন্টের রেটের সাথে না-ও মিলতে পারে, তাই এই দুটোর বেলায় নিজের প্যানেলে একবার মিলিয়ে নিন।
| কুরিয়ার | ঢাকা সিটির ভেতরে | সাব ঢাকা | ঢাকার বাইরে |
|---|---|---|---|
| RedX (VAT সহ, সাব ঢাকা আর বাইরে ১% COD) | ৬৫ টাকা | ৯০ টাকা | ১২০ টাকা |
| Pathao (VAT আলাদা, ১% COD) | ৭০ টাকা | ১০০ টাকা | ১৩০ টাকা |
| Carrybee (রেট ক্যালকুলেটরে দেখা, জেলা ধরে, সাব ঢাকা মানে গাজীপুর বা নারায়ণগঞ্জ) | ৭০ টাকা | ১০০ টাকা | ১২৫ টাকা |
| Steadfast (রেট ক্যালকুলেটরে দেখা, VAT আলাদা, ১% COD) | ৭৫ টাকা | ১০৫ টাকা | ১৩৫ টাকা |
| Paperfly (VAT সহ, ঢাকা সিটিতে COD ০%, বাকিতে ১%) | ৭০ টাকা | ১১০ টাকা | ১৩০ টাকা |
Carrybee-র ক্যালকুলেটরে VAT বা COD-র কথা লেখা নেই, তাই ওদের বেলায় প্যানেলে একবার মিলিয়ে নিন। Pathao-র পেজে COD নিয়ে দুই জায়গায় দুই কথা, চার্জের টেবিলে ১% আর ইংরেজি প্রশ্নোত্তরে ঢাকা মেট্রোর ভেতরে ০.৫%। সাব ঢাকা মেট্রোর বাইরে, তাই সেখানে দুই জায়গাতেই ১%, কিন্তু ঢাকা সিটির পার্সেলে কত কাটে, প্যানেলে দেখে নিন। ওজন বাড়লে পার্থক্যও বাড়ে। Steadfast সাব ঢাকায় ১ কেজির পরে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা যোগ করে, তাই ২ কেজিতে ১২৫ আর ৩ কেজিতে ১৪৫ টাকা। Pathao-র টেবিলে সাব ঢাকায় ১ থেকে ২ কেজি ১৩০ টাকা, তারপর প্রতি কেজিতে ২৫ টাকা। RedX-এ ১ থেকে ২ কেজি ১০৫ টাকা, তারপর প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা। Paperfly-তে প্রতি বাড়তি কেজিতে ২০ টাকা।
হালকা পার্সেলে একটা ফাঁদ আছে। Steadfast-এর রেট ক্যালকুলেটরে ঢাকা সিটির ভেতরে আধা কেজির চার্জ ৬৫ টাকা, ১ কেজির ৭৫ টাকা। কিন্তু সাব ঢাকায় আধা কেজি আর ১ কেজি দুটোতেই ১০৫ টাকা। মানে হালকা কসমেটিকস বা একটা টি-শার্টের পার্সেলে ঢাকা সিটি আর সাব ঢাকার পার্থক্যটা ৪০ টাকা, ৩০ না। Pathao-তে আধা কেজি পর্যন্ত সাব ঢাকায় ৮০ টাকা, সেখানে পার্থক্যটা একটু কম।
আরও দুটো ছোট কথা কাজে লাগবে। Steadfast-এ কাস্টমার নিজে পয়েন্ট থেকে পার্সেল তুলে নিলে সাব ঢাকায় চার্জ ৯০ টাকা দেখায়, মানে ১৫ টাকা কম। আর ঢাকার ভেতরে যে Express বা সেম ডে আছে, সেটা সাব ঢাকায় নেই। Steadfast-এর ক্যালকুলেটর লিখেছে Express শুধু একই জেলার ভেতরে। এই রেটগুলো সাধারণ রেট। মাসে অনেক পার্সেল পাঠালে আলাদা রেটে চুক্তি থাকতে পারে, তখন নিজের প্যানেলের রেট কার্ডই আসল। কোন কুরিয়ার সব মিলিয়ে আপনার জন্য ভালো, সেই পুরো তুলনা কোন কুরিয়ার ভালো, চার্জসহ লেখায় আছে, এখানে শুধু সাব ঢাকার অংশটা।
কাস্টমারের কাছে দুই দাম না তিন দাম রাখবেন
বেশিরভাগ পেজে লেখা থাকে দুটো দাম, "ঢাকার ভেতরে ৭০, ঢাকার বাইরে ১৩০"। সমস্যা হলো "ঢাকার ভেতরে" কথাটা কাস্টমার নিজের মতো করে বোঝেন। গাজীপুর চৌরাস্তায় যিনি থাকেন, তিনি নিজেকে ঢাকারই মানুষ ভাবেন। তাই তিনি ৭০ টাকা বাছেন, আর পার্থক্যটা আপনার পকেট থেকে যায়।
আমার পছন্দ তিনটা দাম, আর নতুন কেউ জিজ্ঞেস করলে সেটাই বলি। ঢাকা সিটির ভেতরে একটা, ঢাকার আশেপাশে একটা, আর ঢাকার বাইরে একটা। তবে মাঝের ঘরের নাম "সাব ঢাকা" লিখবেন না। কাস্টমার এই শব্দটা চেনেন না, আর অচেনা শব্দ দেখলে বেশিরভাগ মানুষ চেনা ঘরটাতেই টিক দেন। ঘরের নামে জায়গাগুলোর নাম লিখে দিন, যেভাবে মানুষ মুখে বলেন। যেমন "ঢাকার আশেপাশে (সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ)"। নিজের এলাকার নাম চোখে পড়লে কাস্টমার নিজেই সঠিক ঘরটা বাছেন।

চার্জটা কত ধরবেন? যে কুরিয়ারে বেশি পাঠান, তার সাব ঢাকার রেট ধরুন, তারপর VAT আর COD-র কয়েক টাকা মাথায় রেখে একটু গোল করুন। ধরুন Steadfast-এ পাঠান, রেট ১০৫ টাকা। তাহলে ঢাকার আশেপাশের ঘরে ১১০ বা ১২০ টাকা লিখলে লোকসান থাকে না। কেউ কেউ ঢাকার বাইরের দামটাই এখানে বসিয়ে দেন, সেটাও চলে, শুধু কাস্টমার দাম দেখে একটু খুঁতখুঁত করতে পারেন। কে ডেলিভারি চার্জ দেবে আর ফ্রি ডেলিভারি কখন দেবেন, সেই হিসাব প্রোডাক্টের দাম ঠিক করার লেখায় আছে।
এবার "কখন না"-এর কথা। আপনার অর্ডারের প্রায় সবই যদি ঢাকার বাইরে থেকে আসে, আর ঢাকার আশেপাশ থেকে মাসে দুই-তিনটা অর্ডার আসে, তাহলে তৃতীয় ঘর বানিয়ে ফর্ম জটিল করার দরকার নেই। দুটো দামই রাখুন, শুধু প্রথম ঘরে "ঢাকার ভেতরে" না লিখে "ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে" লিখুন, আর বাকি সবাইকে বাইরের দামে নিন। উল্টোটাও সত্যি। আপনি যদি নিজের ডেলিভারিম্যান দিয়ে শুধু ঢাকা শহরে দেন, তাহলে আশেপাশের জন্য আলাদা দাম না রেখে ওই এলাকাগুলো কুরিয়ারে পাঠান আর বাইরের দাম ধরুন।
WinningSeller-এ এই কাজটা সেটিংস → "ডেলিভারি চার্জ" অংশে হয়। "এলাকা যোগ করুন" চেপে প্রতিটা ঘরের নাম আর চার্জ নিজে লিখে দেন, যত ঘর লাগে। চেকআউটে কাস্টমার এর মধ্যে একটা বাছেন, আর সেই চার্জ মোট টাকায় যোগ হয়ে যায়। তবে সফটওয়্যারের সীমাটাও জেনে রাখুন। কাস্টমার ঠিকানায় কী লিখলেন, তা পড়ে সফটওয়্যার নিজে থেকে এলাকা ঠিক করে না। ঘর বাছেন কাস্টমার, আর মেলান আপনি, কনফার্মের ফোনে। অর্ডার কনফার্ম হলে ৬টা কুরিয়ারের যেকোনোটায় এক ক্লিকে পার্সেল পাঠানো যায়, সেটা সহ বাকি কাজগুলো WinningSeller-এর ফিচারের পেজে সাজানো আছে।
"আমি তো ঢাকাতেই থাকি" বললে কী বলবেন
যত ভালো করেই ঘর সাজান, কিছু অর্ডার ভুল ঘরে আসবেই। কনফার্মের ফোনে এটা ধরার সবচেয়ে সহজ উপায় একটা প্রশ্ন বদলানো। "কোথায় থাকেন?" জিজ্ঞেস করবেন না, কারণ উত্তর আসবে "ঢাকা"। জিজ্ঞেস করুন "কোন থানা, ভাই?" থানার নাম শুনলে সাথে সাথে বোঝা যায় জায়গাটা কোন ঘরে।
আশুলিয়া, টঙ্গী, বাইপাইল, জিনজিরা, ফতুল্লা আর কোনাবাড়ীর কাস্টমাররা ফর্মে প্রায়ই শুধু "ঢাকা" লেখেন। এটা কোনো চালাকি না, তাঁরা সত্যিই নিজেকে ঢাকার মানুষ মনে করেন। তাই কথাটা এমনভাবে বলুন যাতে তিনি অপমানিত না হন। নিচের লাইনগুলো প্রায় হুবহু বলতে পারেন।
"আপা, আশুলিয়া তো আমাদের ঢাকারই মানুষ। শুধু কুরিয়ার কোম্পানি এই এলাকাকে আলাদা ধরে, এখানে পাঠাতে ওরা আমাদের কাছ থেকে ৩০-৪০ টাকা বেশি নেয়। তাই ডেলিভারি চার্জটা ১১০ টাকা হবে, আর পার্সেল যেতে দুই-তিন দিন লাগবে। ঠিক আছে তো?"
কেউ তর্ক করলে কুরিয়ারের ওয়েবসাইটের চার্জের স্ক্রিনশটটা WhatsApp-এ পাঠিয়ে দিন। নিজের চোখে দেখলে বেশিরভাগ মানুষ মেনে নেন, কারণ বুঝতে পারেন টাকাটা আপনি রাখছেন না। যিনি তবু রাজি না, তাঁকে দুটো রাস্তা দিন। পয়েন্ট থেকে নিজে তুলে নিলে চার্জ একটু কমে, অথবা পরের মাসে অফারের সময় অর্ডার দিতে পারেন। ৩০-৪০ টাকার জন্য একটা অর্ডার হারানো খারাপ লাগে, কিন্তু প্রতিটা আশুলিয়ার অর্ডারে সেই টাকা নিজের পকেট থেকে দেওয়া তার চেয়ে খারাপ।

ফোন শেষ করে আরেকটা কাজ করুন, এটা অনেকে বাদ দেন। প্যানেলে পার্সেল এন্ট্রি দেওয়ার সময় এলাকার ড্রপডাউনে থানাটা আগে সিলেক্ট করুন, চার্জ দেখুন, তারপর অর্ডারের ডেলিভারি চার্জ মিলিয়ে নিন। ড্রপডাউন যা বলে, বিল আসে সেটাই। তাই ড্রপডাউন দেখার আগে কাস্টমারকে চূড়ান্ত দাম বলবেন না।
ভুল এলাকায় অর্ডার নিলে কত টাকা যায় (উদাহরণ)
একটা মাসের হিসাব ধরে দেখি। নিচের দাম আর অর্ডারের সংখ্যা বোঝানোর জন্য বানানো, কোনো নির্দিষ্ট দোকানের খাতা থেকে নেওয়া না। কুরিয়ারের সংখ্যাগুলো Paperfly-র চার্জের পেজ থেকে, ১২ অক্টোবর ২০২৬, কারণ ওদের রেটে VAT ধরা আছে বলে হিসাব সহজ হয়।
ধরুন আপনি ১,১৫০ টাকার পাঞ্জাবি বেচেন। পেজে লেখা দুটো দাম, ঢাকার ভেতরে ৭০ টাকা আর ঢাকার বাইরে ১৩০ টাকা। এই মাসে ৩০টা অর্ডার এলো সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর আর নারায়ণগঞ্জ থেকে, আর সবাই ঢাকার ভেতরের ৭০ টাকা বেছেছেন। কনফার্মের ফোনে আপনিও ধরতে পারেননি।
ডেলিভারি হওয়া একটা পার্সেলে কী হয়, দেখুন। কাস্টমার দিলেন ১,১৫০ + ৭০ = ১,২২০ টাকা। Paperfly সাব ঢাকার জন্য কাটল ১১০ টাকা। ঢাকা সিটিতে Paperfly-র COD চার্জ ০%, কিন্তু সাব ঢাকায় ১%, মানে ১,২২০ টাকার ১% হিসাবে আরও প্রায় ১২ টাকা। আপনি ধরে নিয়েছিলেন ডেলিভারি চার্জ পুরোটা কাস্টমারের টাকায় উঠে যাবে। আসলে প্রতিটা পার্সেলে আপনার গেল (১১০ − ৭০) + ১২ = ৫২ টাকা।
৩০টার মধ্যে ২৬টা ডেলিভারি হলো। ২৬ × ৫২ = ১,৩৫২ টাকা। বাকি ৪টা ফেরত এলো, কারণ কাস্টমারকে বলেছিলেন কালকে পাবেন, পার্সেল গেল তৃতীয় দিনে, ততক্ষণে কেউ অন্য পেজ থেকে নিয়ে নিয়েছেন, কেউ শিফটে থাকায় ফোন ধরেননি। Paperfly-র পেজে লেখা ফেরতের জন্য আলাদা চার্জ নেই, শুধু একবারের ডেলিভারি চার্জ কাটে। তাহলে ৪ × ১১০ = ৪৪০ টাকা। মাস শেষে মোট ১,৩৫২ + ৪৪০ = ১,৭৯২ টাকা। এটা একটা পাঞ্জাবির বেচার দামের দেড় গুণের বেশি, শুধু একটা ঘরের নামের জন্য।

এবার একই ৩০টা অর্ডার ঠিক ঘরে নিলে কী হতো। আশেপাশের ঘরে ১২০ টাকা লিখলে কাস্টমার দিতেন ১,২৭০ টাকা। Paperfly কাটত ১১০ টাকা আর COD প্রায় ১৩ টাকা, মানে ডেলিভারি চার্জের ঘরে আপনার লোকসান প্রায় শূন্য। হয়তো ৩০ জনের মধ্যে দুই-একজন বাড়তি ৫০ টাকা দেখে অর্ডার দিতেন না। তবু সেই দুটো অর্ডারের লাভ হারানো ১,৭৯২ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার চেয়ে কম কষ্টের। আর সময়ের কথাটা ঠিক বললে ফেরতও কমার কথা, কারণ কাস্টমার জানতেন পার্সেল তৃতীয় দিনে আসবে।
সাব ঢাকার পার্সেল কত দিনে পৌঁছায়
Pathao তাদের চার্জের টেবিলে সময় লিখেছে, একই শহরের ভেতরে ২৪ ঘণ্টা, আর ঢাকার আশেপাশের ঘরে ৭২ ঘণ্টা। মানে সাভার বা নারায়ণগঞ্জের পার্সেলে ঢাকার বাইরের জেলার মতোই সময় ধরা। Steadfast-এর কভারেজ পেজে সময় দেওয়া আছে এলাকার ধরন ধরে। সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডে ঢাকায় সেদিন আর অন্য জায়গায় পরদিন, পৌরসভার ওয়ার্ডে পরদিন থেকে ২ দিন, উপজেলা সদরে ২ থেকে ৩ দিন, আর ইউনিয়নে ৩ থেকে ৪ দিন। Paperfly-র চার্জের পেজে সময় লেখা নেই।
হাতে-কলমে যা হয়, সেটাও বলে রাখি। সাব ঢাকার পার্সেল প্রথমে আপনার এলাকার হাবে যায়, সেখান থেকে রাতে বা পরদিন সকালে ওই এলাকার হাবে। তারপর সেখানকার রাইডার বের হন। তাই আজ বিকেলে পিকআপ হওয়া আশুলিয়ার পার্সেল সাধারণত পরশু কাস্টমারের হাতে যায়। আশুলিয়া, গাজীপুর আর নারায়ণগঞ্জের অনেক কাস্টমার কারখানায় শিফটে কাজ করেন, রাইডারের কল এলে বলেন "ভাই, ডিউটিতে আছি, সন্ধ্যার পরে দেন"। পার্সেল তখন আরেক দিন পিছায়।

তাই কাস্টমারকে সময়টা সংখ্যা দিয়ে বলুন। "দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পাবেন, রাইডার আগে ফোন দেবেন" কথাটা কনফার্মের ফোনেই বলুন, আর অর্ডার ফর্মের ডেলিভারির লেখাতেও রাখুন। আর কারখানার এলাকার কাস্টমারকে জিজ্ঞেস করে নিন, কোন সময় ফোন ধরতে পারবেন, সেটা কুরিয়ারের নোটে লিখে দিন। সেম ডে-র কথা এই এলাকায় দেবেন না। কেন দেবেন না আর ঢাকার ভেতরে সেম ডে কীভাবে চালাবেন, সেটা ঢাকায় সেম ডে ডেলিভারির লেখায় আছে।
এই লেখার সব চার্জ আর এলাকার লিস্ট ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবরের। কুরিয়াররা রেট কার্ড মাঝে মাঝে বদলায়, আর বদলালে সাব ঢাকার ঘরের নামও বদলাতে পারে। তাই কুরিয়ার নতুন রেটের মেইল পাঠালে বা প্যানেলে চার্জ আলাদা দেখালে নিজের লিস্টটাও সেদিনই মিলিয়ে নিন।
আজই করে ফেলুন
এক ঘণ্টার মধ্যে এই কাজগুলো সেরে ফেলা যায়।
- যে কুরিয়ারে সবচেয়ে বেশি পাঠান, তার প্যানেলে ঢাকা সিটি, সাভার, গাজীপুর আর নারায়ণগঞ্জে ১ কেজির পার্সেল বসিয়ে চার্জ দেখুন, আর তিনটা সংখ্যা খাতায় লিখুন।
- গত মাসের অর্ডার থেকে ঠিকানায় আশুলিয়া, টঙ্গী, বাইপাইল, জিনজিরা, ফতুল্লা, কোনাবাড়ী বা সাভার লেখা অর্ডারগুলো গুনুন। কয়টা ঢাকার ভেতরের দামে নিয়েছিলেন, দেখুন।
- অর্ডার ফর্ম বা পেজের ডেলিভারি চার্জের লেখা বদলান। ঢাকার আশেপাশের জন্য আলাদা ঘর রাখুন, আর ঘরের নামে জায়গাগুলোর নাম লিখুন।
- কনফার্মের ফোনের স্ক্রিপ্টে "কোথায় থাকেন?" কেটে "কোন থানা?" লিখুন, আর সাব ঢাকার জন্য "দুই থেকে তিন দিন" কথাটা যোগ করুন।
- ওপরের এলাকার লিস্ট একটা কাগজে প্রিন্ট করে মডারেটরের কম্পিউটারের পাশে টেপ দিয়ে লাগিয়ে দিন। পাশে লিখে রাখুন কবে মিলিয়েছেন।
- কুরিয়ারের ওয়েবসাইটের চার্জের একটা স্ক্রিনশট ফোনে সেভ করে রাখুন, তর্কের সময় কাস্টমারকে পাঠানোর জন্য।
সাধারণ প্রশ্ন
সাব ঢাকা মানে কি?
সাব ঢাকা মানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বাইরের, কিন্তু ঢাকার গা ঘেঁষা এলাকা, যেমন সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, টঙ্গী আর নারায়ণগঞ্জ। কুরিয়াররা এই এলাকার জন্য আলাদা চার্জ রাখে, যা ঢাকার ভেতরের চেয়ে বেশি আর ঢাকার বাইরের চেয়ে সাধারণত কম। কোন এলাকা এই ঘরে পড়বে, সেটা কুরিয়ারভেদে একটু আলাদা।
সাভার কি ঢাকার ভিতরে পড়ে?
কাস্টমারের কাছে পড়ে, কুরিয়ারের কাছে না। ২০২৬ সালের অক্টোবরে Pathao আর Paperfly দুজনেই সাভারকে ঢাকার আশেপাশের আলাদা ঘরে রেখেছে, আর Steadfast-এর কভারেজ লিস্টে সাভার ঢাকা জেলার আলাদা উপজেলা। আশুলিয়াও সাভার উপজেলার ভেতরে, তাই একই নিয়ম।
কেরানীগঞ্জ কি ঢাকার ভিতরে?
বেশিরভাগ কুরিয়ারের হিসাবে না। Pathao আর Paperfly-র চার্জের পেজে কেরানীগঞ্জ নাম ধরে ঢাকার আশেপাশের ঘরে লেখা আছে। নদীর এপারে জিনজিরা বা আগানগর হলেও কুরিয়ারের প্যানেলে এলাকা সিলেক্ট করে চার্জটা দেখে নিন।
সাব ঢাকায় ডেলিভারি চার্জ কত?
২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর কুরিয়ারগুলোর নিজের ওয়েবসাইটে ১ কেজি পর্যন্ত পার্সেলে RedX ৯০ টাকা (VAT সহ), Pathao ১০০ টাকা, Paperfly ১১০ টাকা (VAT সহ) লেখা ছিল, আর রেট ক্যালকুলেটরে দেখা গেছে Carrybee ১০০ টাকা ও Steadfast ১০৫ টাকা। ক্যালকুলেটরের সংখ্যা নিজের প্যানেলে মিলিয়ে নিন। Steadfast আর Pathao-র সাথে VAT আলাদা যোগ হবে, আর বেশিরভাগ জায়গায় ১% COD চার্জও আছে।
সাব ঢাকায় পার্সেল যেতে কত দিন লাগে?
Pathao তাদের চার্জের পেজে ঢাকার আশেপাশের ঘরে সময় লিখেছে ৭২ ঘণ্টা, যেখানে একই শহরের ভেতরে ২৪ ঘণ্টা। তাই কাস্টমারকে "কালকে পাবেন" না বলে "দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে" বলুন। এক্সপ্রেস বা সেম ডে ডেলিভারি সাধারণত এই এলাকায় যায় না।
অর্ডার ফর্মে ঢাকার আশেপাশের জন্য আলাদা চার্জ রাখা কি দরকার?
ঢাকার আশেপাশ থেকে নিয়মিত অর্ডার এলে রাখুন, কারণ প্রতিটা পার্সেলে ৩০ থেকে ৪০ টাকার পার্থক্য মাস শেষে বড় অঙ্ক হয়। অর্ডার যদি প্রায় সবই ঢাকার বাইরে থেকে আসে, তাহলে দুটো দামই যথেষ্ট, শুধু "ঢাকার ভেতরে" কথাটা "ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ভেতরে" লিখে দিন।
আরও পড়ুন
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল না গ্রুপ? পুরনো কাস্টমারকে নতুন মালের খবর দিন
নতুন কালেকশনের খবর পুরনো কাস্টমারকে দিতে চান, কিন্তু চ্যানেল খুলবেন, গ্রুপ, না স্ট্যাটাস? কে কার নম্বর দেখে, কে উত্তর দিতে পারে, চ্যানেল খোলার ধাপ, কী পোস্ট দেবেন, গ্রুপের নিয়ম আর ঝুঁকি, আর এক মাসে কোনটায় কত সময় যায়, হিসাবসহ।
শার্ট, প্যান্ট আর টি-শার্টের সাইজ চার্ট বানাবেন যেভাবে, ফেরত কমবে
সাপ্লায়ারের ট্যাগে M লেখা, অথচ কাস্টমার বলেন টাইট। টি-শার্ট, শার্ট আর প্যান্ট টেবিলে বিছিয়ে ফিতা দিয়ে মাপার নিয়ম, ইঞ্চিতে নিজের সাইজ চার্ট বানানো, কাস্টমারকে নিজের শার্ট মেপে সাইজ বাছতে শেখানো, আর একটা ভুল সাইজে কত টাকা যায়, হিসাবসহ।
প্রোডাক্ট ক্যাটালগ ও প্রাইস লিস্ট বানানোর নিয়ম, পাইকার আর অফিসের জন্য
পাইকার, রিসেলার বা অফিসের লোক বলছেন "ক্যাটালগ আর রেট দেন"? প্রতিটা প্রোডাক্টে কী লিখবেন, খুচরা আর পাইকারি দাম কেন আলাদা ফাইলে, পরিমাণ ধরে দামের ধাপ টাকায়, PDF না লিংক, আর দাম বদলালে পুরনো কপি থামাবেন কীভাবে।


